ইবিটাইমস ডেস্ক : কোন দেশে জাতিসংঘে মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় চালু করতে হলে প্রয়োজন পড়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের। যেখানে দু’পক্ষকেই কাজের পরিধি, সুরক্ষা এবং দায়ের মতো বিষয়ে সম্মত হতে হয়। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের খসড়া সইয়ের জন্য নীতিগত অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
তবে জাতিসংঘ দাবি করছে, সমঝোতা স্মারকের অনুমোদনের আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। দেয়া হয়নি কোনো অনুলিপি। আর অনুমোদিত খসড়া পর্যালোচনা ছাড়া স্বাক্ষর করবে না জাতিসংঘ।
এর আগে গত ৩ জুন জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় স্থাপন নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিবের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা যেখানে অংশ নেয়। বৈঠকে প্রস্তাবিত খসড়ায় থাকা ৬টি ধারা নিয়ে আপত্তি জানান অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। যেখানে দুটি ধারা একেবারেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ধারা দুটি হলো চরম অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত অসদাচরণ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে কর্মরতদের দায়মুক্তি ও কূটনীতিকদের স্বামী বা স্ত্রীর কাজের অনুমতির বিষয়টি ।
জাতিসংঘ চায়, স্থানীয় কর্মকর্তাদেরও দায়মুক্তি দেয়া হোক। এমনকি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও। এই উপধারাটি নিয়েও আপত্তি আছে বাংলাদেশের।
এছাড়াও জাতিসংঘ প্রস্তাবিত আরও কিছু আরও কিছু ধারা নিয়ে একমত নয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এর মধ্যে আছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের কর্মীদের দেশে বাধাহীন আসা- যাওয়া, স্বাধীন চলাচল, ভিসা-এন্ট্রি অনুমোদন ও সামাজিক সুরক্ষার ধারাগুলোর সংশোধনী আনার পক্ষে মত দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা।
বিশ্বে ১৬টি দেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া ১৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও বাংলাদেশসহ ৪৩টি দেশে এ কার্যালয় স্থাপনের জন্য অনুমতির অপেক্ষায় আছে।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস