দেশের চলমান পরিস্থিতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নানা পক্ষের প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতায় তাঁর সরকার কাজ করতে পারছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় তাঁর দায়িত্বে থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা– তা নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত তিনজন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার দুই কর্মকর্তা এবং ছাত্রনেতারা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নির্ধারিত বৈঠক শেষে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষ হলে অন্য উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অনির্ধারিত বৈঠক করেন ড. ইউনূস। এসময় তিনি উপদেষ্টাদের বলেন, রাজনৈতিক দলসহ কেউ সরকারকে প্রতিশ্রুত সহযোগিতা করছে না। এভাবে দায়িত্ব পালন ও দেশ পরিচালনা সম্ভব নয়। বলেন, নির্বাচন নিয়ে চাপ তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ। নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হবে। এর দায় নিতে রাজি নন তিনি।
সরকারপ্রধানের পদত্যাগের ভাবনার কথা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়ালে বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় যমুনায় যান জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এক ঘণ্টা পর বেরিয়ে আসেন তারা।
পরে তারা বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের গুঞ্জনে যমুনায় গিয়েছিলাম। ড. ইউনূস বলেছেন, তিনি আর দায়িত্বে থাকতে চান না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁকে সরকারপ্রধান হিসেবে থাকতে হবে বলে বুঝিয়েছি। তিনি ভাববেন বলে জানিয়েছেন।
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন বলে জানা গেছে। তবে তারা ছাত্রনেতাদের সঙ্গে একই সময়ে গিয়েছেন, নাকি আলাদা গিয়েছেন, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইবিটাইমস/আরএন