পর্তুগালে প্রশাসনিক কাজের ধীর গতিতে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশী সহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীরা

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিট পেতে দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আসা শতাধিক অভিবাসী

ইউরোপ ডেস্কঃ বুধবার (৯ এপ্রিল) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানায়,পর্তুগালের ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম সংস্থা (আইমা)-এর সামনে বিক্ষোভ করেন তারা ৷ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল থেকে আসা অভিবাসীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন৷ বিক্ষোভকারীরা ‘আমরা সবাই বৈধ’, ‘‘সবার জন্য বৈধতা’সহ নানা ধরনের স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন ৷

তাদের দাবি, সব অভিবাসীদের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা উচিত ৷ রেসিডেন্স পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা সময়ের দাবি ৷ এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছে ‘ইমিগ্র্যান্ট সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশন’ নামের একটি অভিবাসন সংস্থা ৷

সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট তিমোতেও মাসেদো স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের কাছ থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাচ্ছি ৷ বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে আগত অভিবাসীরা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার ভুক্তভোগী ৷’’

তিনি জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও অনেকে তাদের আবেদনের অগ্রগতি জানতে পারছেন না ৷ সরকারি দপ্তরগুলোর কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ায় হতাশ অনেক অভিবাসী৷ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা আইমা নিয়মিতকরণ আবেদন জমা দিতে অভিবাসীদের জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে ৷ এর মাধ্যমে কাজের আওতায় বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন অনিয়মিত অভিবাসীরা ৷

অভিবাসীরা অভিযোগ করে বলছেন, এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলেও বাস্তবে আবেদন প্রক্রিয়া অনেক জটিল এবং ধীরগতির৷ এখনও অনেক আবেদনকারীর কোনো তথ্য প্লাটফর্মটিতে আপডেট হয়নি ৷ ইন্টিগ্রেশন ও মাইগ্রেশন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে পর্তুগালে অভিবাসীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে ৷ দেশটিতে এখন প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ ৷

দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কৃষি, নির্মাণ ও রেস্টুরেন্ট খাতে কাজ করেন৷ তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য৷ পর্তুগাল ইউরোপের এমন একটি দেশ, যেখানে হাজার হাজার অভিবাসী বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন ৷ সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিবাসী ও অধিকারকর্মীরা ৷

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »