ভিয়েনা বিশ্বের মানুষের বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠ শহর থেকে একধাপ সরে এলো

ভিয়েনা বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠ শহর হিসাবে তার সিংহাসন থেকে ছিটকে গেছে। নতুন শ্রেষ্ঠ শহর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ। এবছর বাংলাদেশ ১৪০তম

ভিয়েনা ডেস্কঃ মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মার্সার (Mercer) গ্লোবাল কনসালটিং ফার্মের “কোয়ালিটি অফ লিভিং র‍্যাঙ্কিং ২০২৪”-এ, বিশ্বজুড়ে শহরগুলিকে আবারও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানে বিশ্বের ২৪১টি শহরের ওপর পরিসংখ্যান করা হয়েছে।

এই র‍্যাঙ্কিং শহরগুলোতে প্রবাসী এবং বসবাসরত পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদাগুলি কতটুকু পূরণ করে তার উপর ভিত্তি করে। রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের দিক, স্কুল ও শিক্ষা, জনসেবা, পরিবহন ও পরিবেশও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এবছর দীর্ঘ বছর যাবত শ্রেষ্ঠ শহর হিসাবে শীর্ষে থাকা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকে পিছে ফেলে শ্রেষ্ঠ শহরের মর্যাদা লাভ করলো সুইজারল্যান্ডের জুরিখ
শহর। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে ভিয়েনা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে সুইজারল্যান্ডের আরেক শহর জেনেভা। এবছর চতুর্থ স্থান লাভ করেছে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন এবং পঞ্চম স্থান লাভ করেছে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড।

মার্সারের প্রতিবেদনে বলা হয়,ভিয়েনা আর প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠ শহর নয়। অনেক বছর শীর্ষে থাকার পর, জুরিখ এবারের মার্সার র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে আছে।

ভিয়েনিজ কম বন্ধুত্বহীন: মঙ্গলবার মার্সারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিয়েনার শ্রেষ্ঠ শহর থেকে একধাপ পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসাবে,আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনিদের জন্য উপযুক্ত বাসা ভাড়ার সম্পত্তির প্রাপ্যতা হ্রাসকে দায়ী করা যেতে পারে। অর্থাৎ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বাসা ভাড়া বৃদ্ধির ফলে শহরে বসবাসরত সকলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। এরফলে শহরটিতে বসবাসরত বিদেশী বা অভিবাসীদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অনেক বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে মার্সারের মতে, জুরিখ তার চমৎকার জনসেবা, কম অপরাধের হার, প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক দৃশ্য এবং স্থায়িত্বের প্রতিশ্রুতির জন্য শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। “এই কারণগুলি, সেইসাথে আন্তঃমহাদেশীয় ফ্লাইট সংযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য, জুরিখকে আন্তর্জাতিক কর্মীদের জন্য একটি আদর্শ অবস্থানে পরিণত করেছে।” তবে আবাসন এবং পরিবহনের উচ্চ ভাড়ার পাশাপাশি পণ্য ও পরিষেবার খরচের কারণে জুরিখ বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলির মধ্যে অন্যতম একটি।

মার্সারের গ্লোবাল মোবিলিটি প্র্যাকটিস লিড জার্মানি অ্যান্ড অস্ট্রিয়া মার্কাস কুর্থ বলেছেন, “আমাদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ভিয়েনা আগের বছরের তুলনায় একটি অবস্থান হারিয়েছে৷ এটি আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনিদের জন্য উপযুক্ত ভাড়ার সম্পত্তির প্রাপ্যতা হ্রাসের জন্য দায়ী করা যেতে পারে৷ যাইহোক, ইন্টারনেট সংযোগের প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে ভিয়েনা পয়েন্ট স্কোর করতে সক্ষম হয়েছিল।

এবছর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বেশ কিছুটা ভালো অবস্থানে এসেছে। ঢাকা এবছর ২২৬টি শহরের মধ্যে ১৪০তম স্থান লাভ করেছে। গত বছর ছিল ১৬৮তম স্থানে। এবছর ভারতের রাজধানী দিল্লি আছে ১৬৫তম এবং পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ আছে ২২৪তম স্থানে।

মার্সারের প্রতিবেদন অনুযায়ী এবছর বিশ্বে মানুষের বাসযোগ্য শহরের র‍্যাঙ্কিংয়ে শেষের চারটি শহর যথাক্রমে সানা (ইয়েমেন), বাঙ্গুই (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), বাগদাদ (ইরাক) এবং খার্তুম (সুদান), যথাক্রমে স্থান ২৩৮ তম, ২৩৯ তম, ২৪০ তম এবং ২৪১ তম স্থানে রয়েছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »