লালমোহনে আমের বাগানগুলো সোনালী রঙের মুকুলের ঘ্রাণে ভরে উঠেছে

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: বৈচিত্রময় রুপ ও ঋড় ঋতুর দেশ আমাদের বাংলাদেশ। ঋতুর মধ্যে সবচেয়ে শেষ ঋতুকে বলা হয় ঋতুরাজ বসন্ত। বাংলা ফাল্গুন ও চৈত্র এই দুই মাস বসন্ত কাল। শীত ঋতু শেষ হয়ে বর্তমানে চলছে বাংলাদেশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ঋতু বসন্ত। প্রকৃতির সৌন্দয্যের অন্ত নেই বসন্তকালে। প্রকৃতি যেন নতুন রুপে সাজে এই ঋতুতে। গাছের পাতা ঝড়া এবং নতুন পাতা জন্মানো পাশাপশি বিভিন্ন গাছের ফুল ও ফলের সমাহার থাকে এই ঋতুতে।  ঋতু পরিবর্তনের কারণে এখন রাতের বেলায় কখনো শীত বা দিনের বেলায় কখনো গরম লাগছে। বইতে শুরু করেছে দক্ষিনালী হাওয়া।

বসন্ত ঋতুর শুরু থেকেই ভোলার লালমোহনের আমগাছগুলো দেখা দিয়েছে সোনালী রঙয়ের মুকুল। মুকুলের মৌমৌ গন্ধে ভরে উঠেছে আমবাগানের এলাকাগুলো। বাগানে মৌমাছির দল গুনগুন শব্দ করে মুকুলের থেকে মধু সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে।

এই দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার আমের বাগান গুলোতে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে ও বাসা বাড়ীতে রোপন করা আম গাছগুলোতে দেখা গিয়েছে সোনালী মুকুল।

গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে অন্যান্য গাছের সাথে বিচ্ছিন্ন ভাবে রোপন করা আম গাছ রয়েছে অনেক। সেইসব গাছে এবছর প্রচুর পরিমানে মুকুল দেখা দিয়েছে। উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজি এলাকার মো. জাকির হোসেন জানায় আমাদের বাগানে অন্যান্য গাছের সাথে প্রায় ৩০টির মতো আম গাছ রয়েছে। এবছর বৃষ্টি হওয়ার কারনে আমের মুকুল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যে গাছগুলোতে আগে মুকুল আসছে সেখানে বর্তমানে গুটিগুটি আমও আসছে। ঝড়, বন্যা না হলে এবার অনেক আম হবে বলে আশা করছি।

রমাগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে দাড়িয়ে থাকা আম গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে সোনালী রঙের মুকুল। দেখলে মনে হবে সোনালী আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছের ডালগুলে। চারিদিকে ছড়াচ্ছে মুকুলের সুবাসিত মৌমৌ গন্ধ।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জামাল উদ্দিন জানান, প্রতিষ্ঠানের সৌন্দয্য বৃদ্ধি ও অন্যান্য গাছের সাথে আম গাছগুলো রোপন করা হয়েছে। প্রতি বছরই গাছগুলোতে আম ধরছে। তবে এবছর বৃষ্টি হওয়ার কারণে গাছগুলোতে অনেক মুকুল দেখা যাচ্ছে। সবঠিক থাকলে আশা করছি আগের বছরের তুলনায় ফলন এ বছর অনেক বেশি হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, লালমোহনে এবছর প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ বানিজ্যিক ভাবে বানিজ্যেও উদ্দেশ্যে চাষাবাদ করলেও অনেকেই পারিবারিক চাহিদার জন্য আম গাছ লাগিয়েছেন। এই উপজেলায় রয়েছে স্থানীয়, আ¤্রপালি, বারি-৪, বারি-৮, বারি-১১ জাতের আম। তবে আ¤্রপালি সবচেয়ে বেশি।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু হাছনাইন জানায়, এসব আমচাষীদের বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের উপকরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। বিগত বছরের তুলনায় এবছর আমের মুকুল অনেক বেশি। প্রতিবছরই ঝড় বন্যায় অনেক আম ঝড়ে যায়। যদি আবহাওয়া অনুকুলে থাকে তাহলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছি।

জাহিদুল ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »