ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে বিভিন্ন সময় হারিয়ে যাওয়া এবং চুরি হওয়া ১১টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে জেলা পুলিশ।
শনিবার দুপুরে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল ফোনের মালিকের হাতে তা তুলে দেন। এ উপলক্ষে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ফোন উদ্ধার ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে কথা বলেন পুলিশ সুপার।
জানুয়ারি মাসে ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হত্যাকাণ্ডের রসহ্য উন্মোচন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সুপার জানান, গত ১৫ জানুয়ারি ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি এলাকায় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রিপন মল্লিককে হত্যার সঙ্গে জড়িত নারী শিরিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে গত ৭ জানুয়ারি নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফুয়াদ কাজীকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাজী শাহ নেওয়াজ জনি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহ নেওয়াজ পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। এছাড়াও এ দুটি হত্যাকাণ্ডে আরো যারা জড়িত আছে, তাদেরকেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার। দুটি হত্যাকাণ্ডই ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। এখানে কোন রাজনৈতিক কারণ নেই। তিনি বলেন, ঝালকাঠি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার সাঈদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ ইমরানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে শাহজাদি শারমিন বলেন, গতবছরের ডিসেম্বর মাসে আমার মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। এরপর আমি থানায় জিডি করি। জেলা পুলিশ আমার ফোনটি উদ্ধার করে দিয়েছে। খুব হারানো মোবাইল অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে পেয়ে খুশির প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন আশিক বনিক, মোঃ আবুবক্কর, মোঃ জসিম, মোঃ মাসুদ মিয়া, মোঃ রুহুল আমিন তালুকদার, শাহজাদা সারমিন, প্রদ্বীপ রায়, মোঃ হুমায়ুন কবির, চারুলতা দর, তহমিনা খাতুন, বীনা রানী দাশ ।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, দুটি হত্যাকাণ্ড কেন হয়েছে আমরা তা জেনেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আমরা তাদের চিহ্নিত করে ফেলেছি। আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যে তরাও গ্রেপ্তার হবে। হত্যাকাণ্ড দুটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। কোন রাজনৈতিক কারন এর মধ্যে নেই। ঝালকাঠি ঝেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। আমরা কম্বিং অভিযান শুরু করেছি। শীতে চুরি-ডাকাতি রোধে এ অভিযান চলবে। আমরা ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন মানুষের হারিয়ে যাওয়া ১১টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করেছি। এগুলো প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি।
বাধন রায়/ইবিটাইমস