ববি দেওলের অ্যানিম্যাল ছবির “জামাল কুদু” গানটি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল

‘জামাল কুদু’তে নাচছে বিশ্ব, দেখে নেয়া যাক এর আসল রহস্য

ইতিহাস থেকে জানা যায়,১৯৫০ সালের দিকে দক্ষিণ ইরানে একদল তরুণী নিজেদের স্কুলে প্রথমবার এই গানটি গেয়েছিলেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে খারাজেমি গার্লস হাই স্কুলে গাওয়া এই গানটি হয়ে ওঠে পারস্য সংস্কৃতির এক বিশাল অঙ্গ। বিপুল জনপ্রিয় এই গানটি আদতে ভারতীয় গানই নয়। এটি আসলে ইরানের একটি লোকসঙ্গীত। ইরানের বিয়ের অনুষ্ঠানে এই গানটি গাওয়ার রীতিও রয়েছে।

বর্তমানে সকাল থেকে বিকাল, ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব অর্থাৎ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট খুললেই এখন একটাই গান। ‘জামাল-কুদু’ বা ‘জামাল জামালু’। অ্যানিম্যাল (Animal) সিনেমার এই গানের মন মাতানো সুরে মজেছে দুনিয়া। বর্তমানে ট্রেন্ডিং তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে এই গান। গানটির সুমধুর সুর শুনলেই নিজের থেকেই মন নেচে ওঠে। আর এতেই এখন কোমর দোলাচ্ছেন সেলিব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ সকলে।

ভারতের বিভিন্ন বিনোদন পত্রিকা এই গান সম্পর্কে বিরতিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। হঠাৎ করে কোথা থেকে এল এই ‘জামাল কুদু’ ? বলিউডের
নতুন চলচ্চিত্র অ্যানিম্যাল ছবিতে গানের মাধ্যমেই স্ক্রিনে এন্ট্রি নেন এই ছবির ‘খলনায়ক’ ববি দেওয়াল অর্থাৎ আব্রার হকের চরিত্রটি। অ্যানিমাল ছবিতে ববি দেওালের বিয়ের দৃশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে গানটি। তৃপ্তি দিমরির সঙ্গে রণবীর কাপুরের ‘বেডসিন’ যেমন হইচই ছড়িয়েছে, তেমনই ববি দেওয়ালের এন্ট্রির সাথে এখন মাথায় গ্লাস নিয়ে নাচে মজেছেন সকলে। তবে এই গানের আসল মানেটা কি?

জামাল কুদু’ গান বদলে দিয়েছে ইরানি মডেল তানাজা দাউদির জীবন: ‘জামাল কুদু’ গান বদলে দিয়েছে এই মডেল তানাজা দাউদির জীবন। পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙা নির্মিত আলোচিত সিনেমা ‘অ্যানিমেল’। রণবীর কাপুর ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত এ সিনেমা মুক্তির পরই বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে; সিনেমাটির এ জয়রথ এখনো চলছে। এরই মাঝে ভাইরাল হয়েছে সিনেমাটির ‘জামাল কুদু’ শিরোনামে একটি গান।

‘অ্যানিমেল’ সিনেমায় আবরার হক চরিত্রে অভিনয় করেছেন ববি দেওল। সবকিছু ছাপিয়ে ‘জামাল কুদু’ গানে নেচে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই অভিনেতা। মদের গ্লাস মাথায় নিয়ে ববি দেওলের নাচের ভূয়সী প্রশংসা করছেন নেটিজেনরা।

এ গানের শুরুতে দলীয়ভাবে গানটি গাইতে দেখা যায় কয়েকজন নারী শিল্পীকে। ১০-১২ জন নারীর ঠিক মাঝে থাকা একজন মডেল বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। তার উচ্ছ্বল উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণভাবে সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনদের দাবি— তার উপস্থিতি বদলে দিয়েছে এ গানের আবহ। কিন্তু অপরিচিত এই মুখটি কে? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডিএনএ জানিয়েছে, তার নাম তানাজা দাউদি। তিনি পেশায় মডেল-নৃত্যশিল্পী।

১৯৯৭ সালের ২৭ জুন ইরানের তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন তানাজ দাউদি। তার বাবার নাম মেহদি আলিয়ারি। তিনি পেশায় একজন সাংবাদিক। তিনি ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে ৩ বছর মেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বলিউডে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করার আগে একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

‘জামাল কুদু’ গানে মডেল হওয়ার আগে বলিউড সিনেমার বেশ কিছু গানে পারফর্ম করেছেন এই ইরানি মডেল-নৃত্যশিল্পী। এর মধ্যে রয়েছে— ‘পাগলাপান্তি’ সিনেমার ‘তুম পার হাম হ্যায়’, ‘তু ঝুটি ম্যায় মাক্কার’ সিনেমার ‘শো মি থুমকা’ প্রভৃতি। তা ছাড়া বরুণ ধাওয়ান, নোরা ফাতেহি, জন আব্রাহাম, সানি লিওনের মতো শিল্পীদের সঙ্গে স্টেজ শো করেছেন তানাজ।

‘জামাল কুদু’ গানে স্বল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হন তানাজ। কিন্তু এই গান তার জীবনে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। বলা যায়, বদলে দিয়েছে তার জীবন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জামাল জামালু গার্ল’ হিসেবে এখন পরিচিত তিনি। এ গান মুক্তির আগে ইনস্টাগ্রামে তানাজের অনুসারী ছিল ১০ হাজার। গানটি মুক্তির পর তার অনুসারী এখন প্রায় ৩ লাখ। এ পরিবর্তন মাত্র দুই সপ্তাহে হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিখ্যাত কবি বিজন সমাদ্দারের লেখা কবিতাকে গানে রূপান্তর করা হয়। এর সংগীতায়োজন করেছিলেন ইরানের খাতারেহ গ্রুপ। ১৯৫০ সালে প্রথম সমবেতভাবে গানটি কণ্ঠে তুলেন খারাজেমি গার্লস হাই স্কুলের গায়করা। গানটি মুক্তির পর বিয়ের গান হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘অ্যানিমেল’ সিনেমার জন্য ইরানের এই গান নতুন করে তৈরি করেছেন ভারতের হর্ষবর্ধন রামেশ্বর।

‘জামাল কুদু’ গানের অর্থ ব্যাখ্যা করে এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ গানের মুখ হলো— ‘জামাল জামালেক জামালু জামাল কুদু’। এর বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, ‘ওহ, আমার ভালোবাসা, আমার প্রিয়, আমার মিষ্টি ভালোবাসা।’ পরের অন্তরার অর্থ দাঁড়ায়, ‘ওহ, আমার প্রিয়, আমার হৃদয় নিয়ে খেলো না/ আমাকে ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করেছো/ আমি মজনুর মতো পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »