বাঁচার অধিকার না থাকলে সবাইকে একসাথে মেরে ফেলুন: বিএনপি নেতা-কর্মীদের স্বজনরা

ইবিটাইমস ডেস্ক: ‘বিএনপির রাজনীতি করা যদি অপরাধ হয়, তাহলে সবাইকে একসঙ্গে মেরে ফেলুন। একজন একজন করে কষ্ট দিয়ে মারবেন না। গ্রেপ্তার-গুম-খুন করে আমার পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে সরকার। আমার দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এক ভাইকে এক মাস গুম রেখে পরে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। আমার ভগ্নিপতি বিএনপি করতেন। লক্ষ্মীপুরে এক বছর আগে র‍্যাব গুলি করে মেরে ফেলেছে তাঁকে।’

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গুম-খুন-গ্রেপ্তারের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীর স্বজনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এভাবেই বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর যুবদলের নেতা লিয়ন হক ও রাজীব হাসানের বোন আফরোজা পারভীন জেবা।

বিএনপি নেতাকর্মীর স্বজনরা বলেন, সারাদেশে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, গুম ও খুন করছে। অনেককে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে দিনের পর দিন বিনা বিচারে আটক রাখছে। কখনও বিএনপি নেতাকে বাসায় না পেলে স্বজনকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। খারাপ আচরণের পাশাপাশি ভাঙচুর করে আসবাব তছনছ করা হচ্ছে। অনেকের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ছোট ছেলে সৈয়দ আরাফাত আব্দুল্লাহ অন্তর বলেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবার কিডনি অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রে মেডিকেল তোশক এবং কোলবালিশ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। তাঁকে তারা এসব ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। ১৫ দিন ঘুরিয়ে সেসব ফেরত দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় বাবা জামিন না পেলে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনের স্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী শিরিন সুলতানা বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়া হয়নি।’

জেলখানায় মারা যাওয়া বিএনপি নেতা আবুল বাশারের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামীকে মেরে সন্তানকে এতিম করা হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করে অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন করায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের স্ত্রী রহিমা জাহান মায়া বলেন, ‘আমার স্বামীকে দুই বছরের জেল দিয়েছে। কী অন্যায় করেছেন তিনি। এটা কোন দেশে বাস করছি। যেখানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে বিচার করতে আদালত গঠন করা হয়েছে। তাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা আবদুল হাই ভূঁইয়া বলেন, ‘তিন ছেলে ও এক ছেলের বউকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করে অমানসিক নির্যাতন করছে জেলে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের দেখতে গেলেও আত্মীয়স্বজনকে হয়রানি করছে পুলিশ।’

বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মেয়ে ব্যারিস্টার তাসনুভা তাবাসসুম রাত্রী বলেন, ‘আমার বাবা ক্যান্সারের রোগী। নিয়মিত কেমোথেরাপি দিতে হয়। তাঁর চিকিৎসার সব কাগজ জমা দেওয়ার পরও জামিন দেননি আদালত।’

সংহতি জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ফিলিস্তিনের গাজায় যে রকম মানবিক বিপর্যয় চলছে, সে রকমই পরিস্থিতি এখন দেশে। কেন এভাবে অন্যায়, অমানবিকভাবে গ্রেপ্তার, নির্যাতন করা হচ্ছে, হত্যা করা হচ্ছে?’

মানববন্ধনে মহিলা দলের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস বলেছেন, সরকার নিজেরাই ধাক্কাধাক্কি করে শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ভোটের অধিকার চাচ্ছি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘কারাগারে বিএনপি নেতাদের নির্বাচনে অংশ নিতে ও কিংস পার্টিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমরকে সরকারের তৈরি করা কিংস পার্টিতে যোগ দিতে চাপ দিয়েছে। কিন্তু শাহজাহান ওমর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অখ্যাত এসব দলে যোগ দেবেন না।’

ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »