যুক্তরাজ্যের দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এই বছরের তালিকায় রাজধানী ঢাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কিয়েভেরও নীচে
ইউরোপ ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার (২২ জুন) অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। এই বছর শহরের স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ এবং অবকাঠামোর মত পাঁচটি বিভাগে মোট ৩০টি মানদণ্ড মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
বৃটেনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের ২০২৩ সালের প্রকাশিত”দি গ্লোবাল লিভেবিলিটি রিপোর্ট ২০২৩” – এ দেখা যায় যে, তালিকায় শেষের দিক থেকে ঢাকার অবস্থান সপ্তম স্থানে। বিভিন্ন দেশের শহরের ওপর জরিপ চালিয়ে ১৭৩টি শহরের এই র্যাঙ্কিংয়ে ১৬৬ নম্বরে রয়েছে ঢাকা।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা। ভিয়েনা ইতিপূর্বে আরও একাধিকবার বিশ্বের মানুষের বাসযোগ্য শ্রেষ্ঠ শহর নির্বাচিত হয়েছিল। এপিএ আরও জানায় ২০১৮,২০১৯ ও ২০২২ সালেও ভিয়েনা বিশ্বের বাসযোগ্য দশটি শহরের “ইকোনমিস্ট” র্যাঙ্কিংয়ে ছিল। ২০২৩ সালে ভিয়েনার উচ্চ স্তরের নিরাপত্তা, ভাল পাবলিক সুবিধা এবং বিস্তৃত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কারনে তাকে প্রথম স্থানে নিয়ে এসেছে।
এরপরে যথাক্রমে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন দ্বিতীয়,অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন তৃতীয় ও সিডনি চতুর্থ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। তারপর কানাডার ভ্যানকুভার পঞ্চম ও সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করে। যৌথভাবে ৭ নম্বরে আছে কানাডার ক্যালগেরি ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। ৯ নম্বরে কানাডার টরেন্টো এবং যৌথভাবে ১০ নম্বরে রয়েছে জাপানের ওসাকা নগরী ও নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহর।
এই তালিকায় সবচেয়ে শেষের দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া ও ইউক্রেনের শহরের সঙ্গে আছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। তালিকার শেষের দিক থেকে যথাক্রমে আছে ক্যামেরুনের দৌয়ালা, ইউক্রেনের কিয়েভ, যৌথভাবে জিম্বাবুয়ের হারারে ও বাংলাদেশের ঢাকা, পাপুয়া নিউ গিনির পোর্ট মোর্সবি, পাকিস্তানের করাচি, নাইজেরিয়ার লাগোস, আলজেরিয়ার আলজিয়ার্স, লিবিয়ার ত্রিপোলি ও সিরিয়ার দামেস্ক।
এই বছর স্টকহোম, রটারডাম এবং লন্ডন সহ বেশ কয়েকটি পশ্চিম ইউরোপীয় শহর ২০২২ সালের তুলনায় এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে বাসযোগ্য শহরের স্কোরে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। যদিও তাদের রেটিং উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়নি।
এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের শহরগুলির অবস্থা এ বছর অনেক খারাপ অবস্থানে রয়েছে। তবে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মহামারী থেকে এই অঞ্চলের পুনরুদ্ধারে কিছু এশিয়ান মেট্রোপলিস উপকৃত হয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে ধর্মঘট এবং সহিংস বিক্ষোভ, যা সম্প্রতি আরও ঘন ঘন ঘটছে, তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এবার শীর্ষ দশে কোনো জার্মানির শহর প্রতিনিধিত্ব করেনি। পঞ্চম স্থানে এসেছে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহর। জুরিখ, যা গত বছর তৃতীয় ছিল, ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। এ বছর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং বার্লিন ১৭ তম স্থানে রয়েছে ৷ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস রয়েছে ২৪তম স্থানে। ইকোনমিস্ট গবেষণার লেখকদের মতে, পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ফরাসি রাজধানীর রেটিংকে প্রভাবিত করেছে, যা গত বছর ১৯তম স্থানে ছিল। তুলনার জন্য: লন্ডন এই বছর ৪৬তম স্থানে, নিউ ইয়র্ক ৬৯তম স্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুসারে, দামেস্ক, ত্রিপোলি, লাগোস এবং কিয়েভ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কম আকর্ষণীয় শহরের মধ্যে রয়েছে।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস