গ্রিসের সমুদ্র উপকূলে অভিবাসীদের নৌকা ডুবি, ৭৯ জনের মৃত্যু

গ্রিসের সমুদ্র উপকূলে নৌকাডুবিতে ৭৯ জন মারা গেছেন, উদ্ধার ১০৪ 

ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপের অভিবাসন সংক্রান্ত অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্রান্ডস তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ধারনা করা হচ্ছে ভূমধ্যসাগরের গভীর অঞ্চলে নৌকাটি ডোবার সময় তাতে ৭৫০ জনের মতো আরোহী ছিলেন ৷ বাকিদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে উঠছে ৷

এদিকে গ্রিস থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকায় বিডি নিউজ ইউরোপ ২৪ ডট কমে অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূইয়া ডালিম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গ্ৰিসের পাইলোসে বুধবার (১৪ জুন) ৭৫০ জন অভিবাসী নিয়ে নৌকা ডুবিতে এই পর্যন্ত ৭৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিবাসীদের নৌকা ডুবিতে প্রাণহানীর ঘটনায় গ্রিক সরকার তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

তিনি আরও লিখেছেন, অভিবাসীদের বহনকারী মাছ ধরার নৌকাটি ভূমধ্যসাগরের গভীরতম বিন্দুতে (৪ হাজার মিটার) দূরত্বের  মধ্যে ডুবেছিল। এটি ৫  দিন আগে লিবিয়ার টোব্রুক থেকে যাত্রা করে, সাগরের মাঝখানে এসে এটি হঠাৎ ঝাঁকুনির কারনে ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের অনেকেই বলেন, যাত্রী ও পাচারকারীদের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং অতিরিক্ত ঝাঁকুনির ফলে ডুবেছিল বলে  প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭৯ জন মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, এবং জীবিত  ১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, ৩০  জন অভিবাসীকে কালামাটা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথোপকথন জাহাজে থাকা লোকের সঠিক সংখ্যা রেকর্ড পাওয়া গেছে। কালামাটা হাসপাতালের একজন ডাক্তার এবং পাইলোসে জাহাজডুবিতে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কথোপকথন থেকে একটি এক্সক্লুসিভ ইআরটি নথিতে, যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন টিম শনাক্তকরণের জন্য মৃত ও জীবিতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করবে। অভিযানে সহায়তার জন্য গ্ৰিক পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার ব্রিগেড, সেনাবাহিনী, কালামাটা পৌরসভা এবং এ অঞ্চলের সদস্যরা কালামাটা বন্দরে রয়েছে।

বন্দরের সামনে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, গ্রীক রেড ক্রস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতো সংস্থাগুলি তাঁবু স্থাপন করেছেন। উদ্ধার হওয়া লোকদের শহরের বন্দরের গুদামগুলির মধ্যে একটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে তাদের খাবার এবং কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের  মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, জাহাজটিতে প্রায় ৭৫০  জন লোক ছিল, যার মধ্যে প্রায় ৫০-১০০ শিশু ছিল। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাটি সঠিক জানা যায়নি। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সিরিয়া এবং ফিলিস্তিনি অভিবাসী ছিল যারা নাকি ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসারে, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একটি আদেশ অনুসরণ করে, EKAV চিকিৎসা ও সেবা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নিকোস পাপাভেসটাটু জাহাজডুবি থেকে উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অপারেশনের সমন্বয় করতে তড়িঘড়ি করে কালামাতায় যান।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »