স্পেশাল প্রতিনিধি ইতালি: বাংলাভিশন টেলিভিশনের সিনিয়ার সংবাদ উপস্থাপক রেজওয়ানা এলভিস অনার্স পাশ করার পর থেকেই টেলিভিশনে কিছু একটা করার তাগিদ কাজ করত।
রেজওয়ানা এলভিস, বাংলাদেশের যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করা এক উজ্জল নক্ষত্রের নাম। তিনি জন্মের পর থেকেই সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই নাটক, সংগীত, নাচ সহ নানান ধরনের কর্মকান্ডের সাথে সফলতার প্রমান রেখেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নানান ধরনের সমাজসেবা মুলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতেন। সেই সুবাদে তিনি বৃটিশ কাউন্সিল থেকে স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডে ইন্টোরিওর ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা করেছেন এবং সেখানে তিনি ব্রিটিশ ইয়োথ কাউন্সিলের সাথে কাজ করেছেন।
তারপর তিনি তার দেশের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। আসার পর তিনি ২০০৯ সালে একুশে টেলিভিশনের স্পোর্টস রিপোর্টার হিসাবে কাজ শুরু করেন, সেখানে তিনি রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি সংবাদ উপস্থাপনা, অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও স্পোর্টস ডিপার্টমেন্ট পরিচালনা এবং স্পোর্টস অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করতেন। একুশে টেলিভিশনের স্পোর্টসে কাজ করা অবস্থায় তিনি বিভিন্ন জাতিয় এবং আন্তর্জাতিক ইভেন্ট কাভার করেছেন সফলতার সাথে।
তারপর ২০১৩ সালে তিনি বাংলাভিশন টেলিভিশনে সিনিয়ার প্রেজেন্টার হিসাবে কাজ শুরু করেন। সেখানেও তিনি সফলতার পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সকলের মন জয় করে নেন। ওখানে কর্মরত অবস্থায় তিনি তার মনের বাসনা মেটাতে পুরোদমে সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেন। তিনি লায়ন্সে যোগ দেন। সেখানে তিনি প্রতিতি লায়ন্স ক্লাবের ক্লাব সেক্রেটারি হিসাবে কাজের মাধ্যমে দুস্থ জনগোষ্ঠির পাশে দাঁড়ান । তিনি সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে হিউম্যান রাইট্স রিভিউ সোসাইটির সেক্রেটারি হিসাবেও কাজ করেন।
রেজওয়ানা এলভিস নারি অধিকার নিয়ে” ধ্রুপদী কথন” শিরোনামে একটি বইও প্রকাশ করেন। তিনি বাচ্চাদের সুস্থ্য বিনোদনে লক্ষ্যে “বেবিটিউবে” এর উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করেছেন। এলভিস সুজোগ পেলেই তার আশেপাশের সকল ক্যান্সার রোগীদের পাশে থেকেছেন। এসব কারনে তিনি বিভিন্ন সময় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও সম্মাননা পেয়েছেন।
রেজওয়ানা এলভিস এ সকল সামাজিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল মা বলেও প্রমান করেছেন। এক সন্তানের জননী রেজওয়ানা এলভিস ভালোবাসেন সংবাদের সাথে নিজেকে জড়িত রাখতে। তিনি তার এই পেশাকে অত্যান্ত সম্মানজনক বলে মনে করেন। তিনি রান্না করতে পছন্দ করেন, মানুষজনেকে তিনি নিজের রান্না খাওয়াতে ভালোবাসেন, অবসরের পুরোটাই তিনি নিজের পরিবার ও সন্তানকে দিতে পছন্দ করেন। রেজওয়ানা এলভিস মনে করেন বাংলাদেশের সকল নারীই তার ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।
মোহাম্মাদ উল্লাহ সোহেল/ইবিটাইমস