ঝালকাঠি প্রতিনিধি: কেউ কাজ করে বিড়ি কারখানায়, কেউ আবার দোকানে। অনেকে আবার পথে পথে ঘুরে প্লাটিকের বোতল কুড়িয়ে বেড়ায়। সবাই কোন না কোন কাজে জড়িত থাকলেও পড়ালেখা করতে সময় মতো চলে আসে বিদ্যালয়ে। ঝালকাঠি শহরের কলেজ খেয়াঘাট এলাকায় শিশু কল্যাণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা মেলে এসব শিশুদের। তাদের নিয়ে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ আয়োজন করে ফল উৎসবের। শিশুদের হাতে আম তুলে প্রধান অতিথি ঝালকাঠি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সাংবাদিক দুলাল সাহা। শিশুদের নিয়ে আনন্দ হই-হুল্লোরে কাটে পুরো সময়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পড়া লেখার পাশাপাশি শিশুদের গান শোনেন অতিথিরা।
উপস্থিত ৮০ জন শিক্ষার্থীকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা। ফল উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান মামুন, কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি কে এম সবুজ, শুভসংঘের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাসিন অনিক মৃধা ও যুগ্মসম্পাদক জুনায়েদ হোসেনসহ শুভসংঘের সদস্য ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
শুভসংঘের ফল পেয়ে কালের কণ্ঠ’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রবিউল হাওলাদার জানায়, আমরা পথে ঘাটে কাজ করি। আমাদের স্কুলের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিড়ি কারখানায় কাজ করে। এখানে পড়ালেখা করা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমাদের হাতে কালের কণ্ঠ শুভসংঘ আম দেওয়ায় আমরা খুশি।
বিদ্যালয়ের প ম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে আয়শা জানায়, এ বছর প্রথম আম পেয়েছি। আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। এ ধরণের উৎসব মাঝেমধ্যে আমাদের বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হলে আমরা আরো আনন্দিত হবো।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুবুর রহমান মামুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে ১৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই পাল্লায় ক্লাস হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুই পাল্লায় ক্লাস চলে। এখানে শিশু শ্রেণি থেকে অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। শিশুদের নিয়ে ফল উৎসব করায় আমরা কালের কণ্ঠ ও শুভসংঘের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সাহা বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ বাংলাদেশের একটি সনামধন্য প্রতিষ্ঠান। কালের কণ্ঠ দেশের একটি মার্জিত পত্রিকা। এর পাঠক সংগঠন শুভসংঘ বিভিন্ন সময় নানা অনুষ্ঠান মানুষের মন কাড়ে। বিশেষ করে আজকের ফল উৎসব আনন্দে কেটেছে। শিশুরাও আম পেয়ে খুশি। এ ধরণের অনুষ্ঠান অব্যহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাধন রায়/ইবিটাইমস/এম আর