হবিগঞ্জে নিম্নমানের ধান বীজে কৃষকের সর্বনাশ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়া গ্রামে সুপ্রিম সীড কোম্পানির নিম্নমানের ধান বীজ রূপন করে ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন এক কৃষক। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক সুমন তালুকদার।

অভিযোগ সূত্রে জানা, গত ১৬ ই আগস্ট শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার স্টেশন রোড এলাকার ইকবাল ট্রেডার্স থেকে সুপ্রিম সীড কোম্পানির এজেড ৭০০৬ নামে হাইব্রিড ধানের বীজ ক্রয় করেন। প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা ধরে মোট ৬ হাজার ৩ শ টাকায় ১৮ কেজি ধানের বীজ ক্রয় করে বপন করেন। পরবর্তীতে যথাসময়ে সেই ধানের চারা জমিতে রূপন করেন। রূপনের পর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও ধানের শীষ বের না হওয়ায় তিনি ইকবাল ট্রেডার্সে যোগাযোগ করেন। পরে সুপ্রিম সীড ফুড লিমিটেডের জোনাল ম্যানেজার মশিউর রহমান তার জমি পরিদর্শন করে কয়েকটি ওষুধ প্রয়োগের কথা বলেন। তার কথামতো কৃষক সুমন তালুকদার জমিতে ওষুধ প্রয়োগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। একপর্যায়ে কৃষককে আগামী মৌসুমে সার-বীজ দিয়ে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে সটকে পড়েন।

এই বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সুমন তালুকদার বলেন, আমি জমিতে সকল পরামর্শ মেনে ধান রূপন করেছিলাম। এতে আমার ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একইদিনে রূপন করা অন্যান্য জমিতেও ভালো ফলন হয়েছে। তাদের নিম্নমানের ধান বীজের কারনে আমার দেড়লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই বিষয়ে সুপ্রিম সীড লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত জোনাল ম্যানেজার মশিউর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা বায়ার কোম্পানির কাছ থেকে আমদানি করে এ জেড ৭০০৬ হাইব্রিড ধান বীজ বাজার জাত করি। আমি সমস্যার কথা শুনে যখন জমিটি পরিদর্শন করেছিলাম তখন জমি একদম শুকনো ছিলো। ধানের ফুল ফোটা থেকে ধান পুষ্ট হওয়া পর্যন্ত জমিতে পানি থাকা জরুরী। আমি তাকে জমিতে পানি এবং ফ্লোরা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলাম।

একই বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগামীকালকে উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হবে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। শুনানি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মোতাব্বির হোসেন কাজল/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »