লালমোহনে নতুন জাতের ‘ব্রি ধান-৯৩’ চাষ করে কৃষকদের সফলতা

মনজুর রহমান, ভোলাঃ ভোলার লালমোহনে ২৫ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে নতুন জাতের ব্রি ধান-৯৩ চাষে সফলতা পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে লালমোহনের কালমা, ধলিগৌরনগর, চরভূতা ও রমাগঞ্জসহ ৫ টি ইউনিয়নের এ সকল  কৃষকদেকে বিনামূল্যে ব্রি ধান-৯৩ প্রদান করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের আমন ধানের নতুন জাত ব্রি ধান-৯৩। এর চাল মাঝারি মোটা ও সাদা।লালমোহন উপজেলায়  এ বছর প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৯৩ চাষ হয়েছে। অন্যান্য জাতের ধানের চাইতে অন্তত ২০ দিন আগে এ ধান কাটা সম্ভব হয়।কৃষকরা এ ধান চাষ করে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ৬.১৫ টন ফলন পেয়েছেন।

প্রথম বারের মতো ব্রি ধান-৯৩ চাষ করা কালমা ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাসউদ্দীন বলেন,ব্রি ধান- ৯৩ চাষ করে আমি অনেক খুশি। প্রথম চাষে আশানুরূপ ফলন হয়েছে। আশা করি আমরা অন্যান্য  জাতের ধান চাষ বাদ দিয়ে নতুন জাতের ব্রি-৯৩ চাষ করে  অধিক লাভবান হব।

চরভূতা ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম মিয়া বলেন, বিনামূল্যে কৃষি অফিস থেকে এ ধানের বীজ দিয়েছে। এরপর ব্রি ধান-৯৩ চাষ শুরু করি। অন্যান্য ধানের চাইতে এ ধান চাষে খরচ ও পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম। আর ফলনও ভালো পাওয়া গেছে।আশা করি লাভবান হতে পারবো।

রমাগঞ্জ  ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কৃষক সোলেমান  ৫ কেজি নতুন জাতের ব্রি ধান ৯৩ বীজ এনে ৫৪ শতাংশ জমিতে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।
এই ধান চাষ করার পরে দেখলাম  তেমন চিটা নেই, আবার উৎপাদনেও কম খরচ।ব্রি-ধান৯৩ আগেভাগেই ক্ষেত থেকে কাটা যাচ্ছে। এতে করে ওই জমি রবিশস্যের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছে।

এব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্যাহ বলেন, লালমোহনে যারা নতুন জাতের ব্রি ধান-৯৩ চাষ করেছেন তারা আশানরূপ ফলন পেয়েছেন। আমরা সব সময় এসব কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া আগামীতে যদি কেউ নতুন জাতের এ ধান চাষে আগ্রহী হয় তাদেরকেও কৃষি অফিস থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করা হবে।

ভোলা/ইবিটাইমস  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »