২য় পর্ব
ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ১১। একথা স্মরণ রাখা আবশ্যক যে পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নের সময়ে এবং প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণের সময় এই সেতুতে রেল লাইন স্থাপনের জন্য কোন সিদ্ধান্ত কিংবা কোন পরিকল্পনা ছিলনা। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রেলপথ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্যাপকভাবে দাবি উঠে। ফলে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ২০১১ সনের জানুয়ারি মাসে পদ্মা সেতুতে রেলপথ সংযোজন করার জন্য শেখ হাসিনা নির্দেশ প্রদান করেন। তাই মূল সেতুর ডিজাইন তথা নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। এমতাবস্থায় সেতুর উপর দিয়ে সড়ক পথ এবং নিচ দিয়ে রেলপথ তথা দু’তলা সেতু নির্মাণের জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এহেন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দু’তলা বিশিষ্ট সেতুর উপর তলায় চার লেনের মোটরযান সড়ক এবং নিচ তলায় এক লেনের রেলপথের ব্যবস্থা রেখে সেই মোতাবেক নকশা প্রণয়ন করা হয়। তাই খুব স্বাভাবিক এবং সঙ্গত কারণেই রেলপথ নির্মাণের নিমিত্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
১২। সচেতন দেশবাসী নিশ্চয়ই অবগত রয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্প নির্মাণের নিমিত্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর থেকেই দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং এই দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জনসভায় কখনো প্রত্যক্ষ আবার কখনো পরোক্ষভাবে এই সেতু প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বিগত ২০০১ সনে নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি একাধিকবার বলেছেন আওয়ামী লীগ কখনো এই সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। এই সেতু উদ্বোধন তাদের নির্বাচনী স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয়। গত ২০১৮ সনের ২রা জানুয়ারি ছাত্রদলের এক অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন– “সরকার পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে এই সেতু হবে না। এই সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এই সেতুতে কেউ উঠবেন না। এটি ভেঙ্গে পড়বে।” দলীয়ভাবে বিএনপির সব সিনিয়র নেতৃবৃন্দই বলেছেন এই সেতু আওয়ামী লীগের নির্বাচনী স্টান্ট। তারা কখনো এই সেতু নির্মাণ করতে পারবে না। বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সমমনা গুটি কয়েক ভণ্ড কুশীলবদের এহেন বৈরী এবং নেতিবাচক প্রচারণার দাঁত ভাঙা জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা প্রচণ্ড মনোবল, সুদৃঢ় আস্থা এবং অফুরন্ত ধৈর্য সহকারে অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং খুবই সতর্কতার সাথে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে এই সেতু নির্মাণ করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই সেতু এখন বিশ্বের বিস্ময়। এরই পাশাপাশি এই সেতু শেখ হাসিনার অসীম সাহসী ভূমিকার এক অনবদ্য এবং অনন্য সাধারণ অর্জন বলে তার কট্টর সমালোচকেরাও এখন স্বীকার করেন।
১৩। দেশবাসীর জানা আবশ্যক যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকাসমূহের পাশাপাশি স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণের নিমিত্তে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকা সমূহ এবং সেতু সম্পর্কে প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন ধরনের মতামতের ভিত্তিতে মোট ৫ টি প্যাকেজ প্রকল্প তথা বিষয়বস্তু সমূহ নির্ধারণ করা হয়। উপরোক্ত বিষয়গুলো ছিল – ক) মূল সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ খ) জমি অধিগ্রহণ গ) এ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ ঘ) নদী শাসন এবং ঙ) পরামর্শক নিয়োগ
পরবর্তীকালে মূল সেতুর প্রাক্যোগ্যতা নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় মোট ১১ টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এহেন অবস্থায় বিভিন্নভাবে যাচাই বাছাই করে এবং বিশ্ব ব্যাংকের মানদণ্ড সমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করে চূড়ান্ত বিবেচনায় উপরোক্ত ১১ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তাই যোগ্যতার মানদণ্ডে বিবেচিত না হওয়ায় তথা অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়া বাদবাকি ৬ টি প্রতিষ্ঠানসমূহ যে হাত গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকবেনা এবং বিভিন্নভাবে সেতু প্রকল্পের বিরোধিতা করে যাবে বলে খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়। আর তারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং খুবই সচেতনভাবে ঠিক এই কাজটিই করে গিয়েছেন।
১৪। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, পদ্মা সেতু নির্মাণের ঐকান্তিক প্রত্যাশায় প্রাথমিক পর্যায়ে সর্বাত্মক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নিমিত্তে গঠিত মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক কারিগরি এবং আর্থিক মূল্যায়নের নিমিত্তে আন্তর্জাতিকভাবে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। একাধিক প্রতিষ্ঠান উক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। উপরোক্ত সব গুলি টেন্ডারসমূহ সর্বাত্মক সাবধানতা এবং সতর্কতার সহিত বিচার বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে কানাডার এসএনসি- লাভালিন প্রথম স্থান অধিকার করে। এহেন অবস্থায় মুল্যায়ন কমিটি উক্ত প্রতিষ্ঠানকেই কার্যাদেশ প্রদান করে। এমতাবস্থায় বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাদেরই ইঙ্গিতে ও প্ররোচনায় ঘুষ প্রদানের ইচ্ছে পোষণ এবং কার্যাদেশ পাওয়ার জন্য পৃথকভাবে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করে কানাডার Ontario Court of Justice -এ মামলা দাখিল করা হয়।
১৫। উপরোল্লিখিত মামলায় এসএনসি- লাভালিনের দুই কর্মকর্তা যথাক্রমে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসমাইল এবং ভারতের বংশোদ্ভূত রমেশ সাহা ঘুষ গ্রহণের ইচ্ছে পোষণমূলক অনৈতিক কাজ করেছেন বলে অভিযোগ আনয়ন করা হয়। এছাড়া রমেশ সাহার কাছে একটি ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে বলে এবং উক্ত ডায়েরিতে বাংলাদেশের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও পদ্মা সেতু প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ কতিপয় ব্যক্তিবর্গের নাম উল্লেখ করে তাদেরকে প্রভাবিত করার নিমিত্তে অর্থ খরচের অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে বলে উক্ত মামলায় অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কিন্তু উক্ত মামলাটি দাখিল করার সময় থেকে রায় ঘোষণার দিনটি পর্যন্ত উক্ত মামলার সমর্থনে কোন কাগজপত্র কিংবা কোন প্রমাণাদি মামলা দাখিলকারী বাদীপক্ষ থেকে কোর্টে দাখিল করা হয়নি।
১৬। অপ্রিয় হলেও সত্য যে উপরোক্ত অত্যন্ত গুরুতর এবং স্পর্শকাতর অভিযোগ সমূহ উত্থাপন করা হলেও বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কেউ উপরোক্ত ডায়েরিটি বাংলাদেশ সরকার কিংবা এদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের নিকট প্রেরণ করেননি। এছাড়া কানাডা সরকারের বিচার বিভাগ কিংবা অন্টারিও কোর্ট অফ জাস্টিসের পক্ষ থেকেও উপরোক্ত অভিযোগ সমূহের সমর্থনে দালিলিক কোন সাক্ষ্য প্রমাণ তথা কোন প্রকার Documentary evidence কিংবা কোন একজন সাক্ষী অথবা অন্য কারও কোন বক্তব্যসমূহের কোন অনুলিপি তারা কোন পত্র পত্রিকায় কিংবা জনসমক্ষে প্রকাশ করেননি এবং বাংলাদেশ সরকারের নিকট ও তা প্রেরণ করেননি। যা প্রকাশ করা তাদের জন্য অত্যাবশ্যক এবং অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল বলে জোরালভাবেই বিবেচিত হয়।
১৭। এমতাবস্থায় বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক আনীত এবং উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ সমূহ গ্রহণযোগ্য কিংবা নির্ভরযোগ্য অথবা বিশ্বাসযোগ্য বলে কোন প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণাদির অভাবে আদৌ ধোপেই টিকে না। এহেন অবস্থায় বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক আনীত কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তথা ঘুষ লেনদেনের অভিপ্রায় সংক্রান্ত বক্তব্য সমূহের সত্যতা, বিশ্বস্ততা এবং যথার্থতা প্রমাণের নিমিত্তে তাদের ব্যর্থতা এবং অপারগতার কারণে তা কোনভাবেই প্রমাণিত হয় না। উপরন্তু এতদ সংক্রান্ত অভিযোগ সমূহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে সৃজিত, ভিত্তিহীন এবং অশুভ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অকাট্য এবং জোরালোভাবেই বিবেচিত হয়। তাই অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সঙ্গত কারণেই বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ সমূহ “অসত্য এবং নেহায়েত গালগল্প ভিন্ন অন্য কিছু নয়” বলে উল্লেখ করে অন্টারিও কোর্ট অফ জাস্টিস -এর তৎকালীন বিচারপতি Mr. Ian Nordheimar (ইয়ান নরদেইমার) উপরোক্ত মামলাটি বিগত ১৫-১২-২০১৭ ইং তারিখে খারিজ তথা Dismiss করে দেন। এহেন ডিসমিস সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংক কিংবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কোথাও কোন আপিল করেননি কিংবা কোন উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট কোন প্রকার প্রতিকার ও প্রার্থনা করেননি। যার অন্তর্নিহিত কারণসমূহ সন্দেহজনক এবং রহস্যাবৃত বলে বিবেচিত হয়।
১৮। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে কানাডার পরামর্শক সংস্থা এস এন সি – লাভালিন পদ্মা সেতুর কাজ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী, সেতু সচিব এবং সেতু প্রকল্পের পিডি সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে ঘুষ দিয়েছেন বলে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ উত্থাপন করেন। এহেন ঘুষ এবং দুর্নীতির যথেষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। এমতাবস্থায় ঐ সমস্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তারা শেখ হাসিনা সরকারকে চাপ দিতে থাকেন। এরই পাশাপাশি তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, পিডি এবং অন্যান্যদেরকে সেতু প্রকল্পের কাজ হতে অব্যাহতি দেয়ার জন্য ও পরামর্শ দেন। এমনকি বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী সরকার কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা সরেজমিনে পরিদর্শন করার জন্য বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধি দল পাঠান। ঐ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাথে বৈঠক করেন এবং এতদ সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান।
১৯। এমতাবস্থায় বিশ্ব ব্যাংকের অব্যাহত চাপ, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে অপপ্রচার এবং তৎসহ সরকার বিরোধী কতিপয় রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি এবং সুবিধাবাদী সুশীল সমাজের নানামুখী সমালোচনায় সরকার অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়ে। এরই পাশাপাশি কোন কোন গবেষণা সংস্থার বিশেষ করে সিপিডি (Center for Policy Dialogue) এবং টিআইবি (Transparency International Bangladesh) -এর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের বক্তৃতা বিবৃতিতে দেশে এমন আবহের সৃষ্টি হয় যে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে আসলেই দুর্নীতি হয়েছে বলে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হতে থাকেন। উপরোক্ত সমালোচনাকারীদের এহেন বিরামহীন নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণায় সরকার বিরোধী জনমত দানা বাঁধতে থাকে। তাই বিশ্ব ব্যাংকের কথিত উপরোক্ত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না নিলে মনে হবে যে, উপরোক্ত দুর্নীতিবাজদেরকে সরকার কোন না কোনভাবে রক্ষা করতে চাচ্ছে। প্রকৃত প্রস্তাবে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এবং এদেশে যাতে করে পদ্মা সেতু না হয় অন্তত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে না হয়- এরকম একটি অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্যই সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে উপরোক্ত নেতিবাচক প্রচারণা এবং কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল বলে এখন দেশবাসীর নিকট দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
২০। সচেতন দেশবাসী নিশ্চয়ই জানেন বিগত ২৮-০৪-২০১১ ইং তারিখে বিশ্ব ব্যাংক (World Bank) -এর সাথে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে ১২০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। বিশ্ব ব্যাংকের সাথে এহেন চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিগত ১৮-০৫-২০১১ ইং তারিখে জাইকা (JAICA), ২৪-০৫-২০১১ ইং তারিখে আইডিবি (IDB) -এর সাথে এবং ০৬-০৬-২০১১ ইং তারিখে এডিবি (ADB) -এর সাথে সরকারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, উপরোক্ত কোন একটি চুক্তির প্রেক্ষিতে একটি টাকাও বাংলাদেশকে কখনো প্রদান করা হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও সম্পূর্ণভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কাল্পনিক দুর্নীতির ভুয়া অভিযোগ উত্থাপন করে বিগত ২৯-০৬-২০১২ ইং তারিখে এই ঋণ চুক্তিসমূহ বাতিল করা হয়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিঃ রবার্ট ব্রুস জোয়েলিক (Robert Bruce Zoellick) তার অবসরে যাওয়ার ঠিক আগের দিন এই চুক্তি বাতিল করে দেন। যা ছিল চরম অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অমানবিক। এই ঋণচুক্তি বাতিল ঘোষণাটি বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির জন্য ছিল অত্যন্ত গ্লানিকর, লজ্জাজনক এবং অপমানজনক। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার অদম্য সাহস ও মনোবল, কঠোর সততা এবং প্রখর দূরদৃষ্টির কারণে এহেন অন্যায় এবং অপমানের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাস্তবায়ন হলো দৃষ্টিনন্দন পদ্মা সেতু।
ড. মোঃ ফজলুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট
(চলবে)
বি/ ইবিটাইমস /এম আর