ইউরোপ ডেস্কঃ আজ বৃহস্পতিবার ২১ এপ্রিল অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ২০ তম রোজার ইফতারের সময় : ১৯:৫৩ মিনিট। (Ifter in Vienna at 19:53 p.m)
আগামীকাল শুক্রবার ২২ এপ্রিল ভিয়েনায় ২১ তম রোজার সেহরির শেষ সময় : রাত ৪:১৪ মিনিট।
ভিয়েনার সাথে অস্ট্রিয়ার অন্যান্য কয়েকটি ফেডারেল রাজ্যের প্রধান শহরের সময়ের পার্থক্য নিম্নে উল্লেখ করা হল,
* Innsbruck (Tirol) + 20 Min.
* Salzburg + 13 Min.
* Villach (Kärnten) + 10 Min.
* Linz (OÖ) + 08 Min.
*Klagenfurt (Kärnten) + 08 Min.
* Graz (Steiermark) + 4 Min.
* St. Pölten (NÖ) + 3 Min.
শবে কদরের রাত,শানে নুযূল ও তাঁর ইতিহাস আমরা মানুষেরা আমাদের জন্মদিন,মৃত্যুদিন, বিশেষ কোন ঘটনার দিন অত্যন্ত জাঁকজঁমক করে পালন
করে থাকি। তেমনি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও আলোচিত সৃষ্টি মানুষের জন্য তাঁর সংবিধান প্রনয়নের শুরুর সময়টা অবশ্যই এক বিরাট ঘটনা। কাজেই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এই এক রাতের ইবাদতকে হাজার মাসের বা প্রায় ৮৩ বছরের ইবাদাতের সমান ঘোষণা করেছেন।
রাসূল মোহাম্মদ সাঃ এক হাদীসে বলেছেন যে,আমার উম্মতের মধ্যে সে সবচেয়ে হতভাগা, যে শবে-কদর পেয়েও আল্লাহর এই অতি বোনাস পাওয়া থেকে বা গোনাহ মাফ করা থেকে বঞ্চিত হল। যেহেতু আল্লাহ বছরের এই এক রাতকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দিয়েছেন,তাই তাঁর কোন বান্দা এই রাতে তাঁকে ডাকলে বা ক্ষমা চাইলে ইনশাআল্লাহ তিনি অবশ্যই কাউকে ফিরিয়ে দিবেন না।
কোরআন ও হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এই বিশেষ রাতে তাঁর সৃষ্টির বাৎসরিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। এই এক রাত্রির ইবাদাতে এতো বেশী লাভ বলে একে মানুষের জন্য ভাগ্য রজনী নামেও অবহিত করা হয়।
৬১০ সালে শবে কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় ইসলাম ধর্মের মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ এর নিকট সর্বপ্রথম কোরআন নাজিল হয়। প্রথমে সূরা আলাক্বের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। অনেকের মতে এই রাতে ঐহী বহণকারী মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল আঃ এর মাধ্যমে সম্পূর্ন কোরআন অবতীর্ণের সূচনা হয়,যা পরবর্তিতে ২৩ বছর ধরে ইসলামের নবী মোহাম্মদ সাঃ নিকট তাঁর বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তা এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট আয়াত আকারে নাজিল করা হয়।
মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এই রাত সর্ম্পকে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। এমনকি মুসলমানদের প্রধান ধর্মী গ্রন্থ আল কোরআনে সূরা আল কদর নামে একটি স্বতন্ত্র পূর্ণ সুরা নাজিল হয়েছে। এই সুরায় শবে কদরের রাত্রিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন।
ইসলাম ধর্ম মতে, মোহাম্মদ সাঃ এর পূর্ববর্তী নবী এবং তাদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারনে বহু বছর আল্লাহর ইবাদাত করার সুযোগ পেতেন। কোরআন ও হাদীসের বর্ননায় জানা যায়, ইসলামের চার জন নবী যথাক্রমে হযরত আইয়ুব আঃ,হযরত জাকরিয়া আঃ , হযরত হিযকীল আঃ ও হযরত ইউশা ইবনে নূন আঃ প্রত্যেকেই আশি বছর বিরামহীন মহান স্রষ্টা আল্লাহর ইবাদাত করেন এবং তারা তাদের জীবনে কোন প্রকার পাপ কাজ করেননি।
কিন্তু আল্লাহর শেষ নবী ও রাসূল মোহাম্মদ সাঃ থেকে শুরু করে তার পরবর্তী অনুসারীগণের আয়ু অনেক কম হওয়ায় তাদের পক্ষে স্রষ্টার আরাধনা করে পূর্ববর্তীতের সমকক্ষ হওয়া কিছুতেই সম্ভপর নয় বলে তাদের মাঝে আক্ষেপের সৃষ্টি হয়। তাদের এই আক্ষেপের প্রেক্ষিতে তাদের চিন্তা দুর করার জন্য এই সুরা আল কদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের বর্ননায় জানা যায়।
সূরা আল-কদর নাযিলের পটভূমি শানে নুযূল হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, হযরত ইবনে আবী হাতেম -এর রেওয়ায়েতে আছে, রসূলুল্লাহ্ (সঃ) একবার বনী-ইসরাঈলের জনৈক মুজাহিদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। সে এক হাজার মাস পর্যন্ত অবিরাম জিহাদে মশগুল থাকে এবং কখনও অস্ত্র সংবরণ করেনি। মুসলমানগণ একথা শুনে বিস্মিত হলে এ সূরা কদর অবতীর্ণ হয়। এতে এ উম্মতের জন্যে শুধু এক রাত্রির ইবাদতই সে মুজাহিদের এক হাজার মাসের এবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ প্রতিপন্ন করা হয়েছে। ইবনে জরীর অপর একটি ঘটনা এভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বনী-ইসরাঈলের জনৈক ইবাদতকারী ব্যক্তি সমস্ত রাত্রি ইবাদতের মশগুল থাকত ও সকাল হতেই জিহাদের জন্যে বের হয়ে যেত এবং সারাদিন জিহাদে লিপ্ত থাকত। সে এক হাজার মাস এভাবে কাটিয়ে দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আল্লাহ্ তাআলা সূরা-কদর নাযিল করে এ উম্মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এ থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে, শবে-কদর উম্মতে মুহাম্মদীরই বৈশিষ্ট্য।
কবির আহমেদ 7ইবিটাইমস