স্বাধীন প্রতিবেশী ছোট দেশ ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা
“বিশাল” নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইইউর সদর দফতর থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা, তাদের ভাষ্যমতে, “বিশাল” নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার গড়িয়ে শুক্রবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত চলে। রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, এমন খবর পাওয়ার সময়ে এই পদক্ষেপের ঘোষণাটি আসে।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশও ইউক্রেন আক্রমণের জন্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইইউ নেতারা জানান যে, তারা রাশিয়াকে পাঁচটি ক্ষেত্রে আঘাত করবে। আর সেগুলি হল যথাক্রমে আর্থিক, জ্বালানী, পরিবহন খাত এবং রফতানী নিয়ন্ত্রণ ও ভিসা নীতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ভয়েস অফ আমেরিকা জানায় বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইইউ নির্বাহী বিভাগের এক জরুরি বৈঠকের পর ইউরোপীয়ান কমিশন এর প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন বলেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতি ও দেশটির রাজনৈতিক অভিজাতদের উপর এর সর্বোচ্চ প্রভাবটি পড়বে।
ইইউ কমিশন প্রধান উরসুলা বলেন,তিনি বলেন, “এইবারের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুঁজি বাজারগুলোতে রাশিয়ার প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “এখন আমরা রাশিয়ার ৭০% ব্যাংকিং বাজারকে আমাদের লক্ষ্যবস্তু করেছি, কিন্তু একই সাথে প্রতিরক্ষা খাত সহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।”
ইইউ কর্মকর্তারা বলছেন যে,নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার অনেক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত হয়ে যাবে, বিমান ও বিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির লভ্যতা সীমিত হয়ে যাবে। এছাড়াও অন্যান্য প্রভাব তো রয়েছেই।
সর্বসাম্প্রতিক এই পদক্ষেপগুলো এমন সময়ে আসল যখন কিনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ইউরোপ ইতোমধ্যেই এর প্রভাব দেখতে শুরু করেছে। ইউক্রেনের সংঘাত এড়াতে সেখান থেকে পলায়নরত মানুষজন ইতোমধ্যেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন এই পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতিবেশী পোল্যান্ড, রুমানিয়া ও স্লোভাকিয়ায় প্রায় লাখ খানেক মানুষ ইতিমধ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে।
এদিকে ইউক্রেন থেকে টেলিফোনে ইউরো বাংলা টাইমসের প্রতিনিধকে একজন প্রবাসী জানান, পোল্যান্ডের দিকেই ছুটছেন ইউক্রেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পোল্যান্ড যেতে ভিসা লাগবে না। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা দলে দলে ইউক্রেন ছাড়তে শুরু করেছেন। শুক্রবার ভোরের দিকে পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের তরফে জানানো হয়, ইউক্রেন থেকে পোল্যান্ড যেতে হলে কোনো ভিসার দরকার হবে না। আগের সিদ্ধান্ত ছিল ১৫ দিনের ভিসা দেবে পোল্যান্ড।
রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে কারফিউ চলছে। কারফিউ উপেক্ষা করে শতাধিক বাংলাদেশি ইউক্রেন ছেড়েছেন। কেউ গেছেন ট্রেনে। অনেকে আবার প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে পাঁচশ’ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিচ্ছেন। বিকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগকে এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, পোল্যান্ড সরকার বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেয়ায় একটা ইতিবাচক ফল এসেছে।
যারা দোটানার মধ্যে ছিলেন তারা ইউক্রেন ছাড়তে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন পৌঁছে গেছেন। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যাদের পাসপোর্ট নেই তাদের জন্য দূতাবাস ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইস্যু করছে। তাছাড়াও পূর্ব ইউরোপের আরেক দেশ রুমানিয়ার সরকার ইউক্রেন থেকে আহতদের ভিসা ছাড়া দুইদিন অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে।
কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস/ এম আর