৯ম পর্ব
ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ৮১। শিক্ষিত এবং সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন মীর জাফর আলি খান নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পলাশীর প্রান্তরে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হন। তাই ইতিহাসের আলোকে দেখা যায় যে, একদিকে ঘনিষ্ট আত্মীয় এবং অন্যদিকে সিরাজের প্রধান সেনাপতি তথা সিপাহসালার হওয়া সত্ত্বেও ইংরেজ বেনিয়াদের সাথে হাত মিলিয়ে মীর জাফর আলী খান এবং তদীয় পুত্র মিরন সিরাজ-উদ-দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। পরে মীর জাফরের পুত্র মিরনের নির্দেশে সিরাজেরই পালিত পুত্র মোহাম্মদী বেগ তাকে হত্যা করে। সিরাজকে হত্যার পর আনন্দ ভরে তার লাশ সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় ঘোরানো হয়েছিল একজন “বিশ্বাসঘাতক” হিসেবে। কিন্তু সেদিনকার সেই সিরাজ আজকের সিরাজ ছিলেন না। আজকে আমরা যাকে মীর জাফর বলে চিনি সেদিন সিরাজকে সেইভাবে চিন্তা করা হতো। এভাবেই তারা দীর্ঘদিন প্রচার- প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
৮২। বিগত ১৭৫৭ সালে সিরাজের ভাবমূর্তিতে ছিলেন মীর জাফর। আর মীর জাফরের ভাবমূর্তিতে ছিলেন সিরাজ। প্রায় দুই শত বছর পর ভারতবর্ষের আপামর জনসাধারণ চোখের পানির ভিতর দিয়ে বুঝতে পারলো যে, মীর জাফর আসলেই মীর জাফর এবং দেশপ্রেমিক সিরাজ প্রকৃত প্রস্তাবেই সিরাজ। আজ সচেতন ব্যক্তি মাত্রই মীর জাফরকে একজন কুলাঙ্গার ও বেঈমান এবং বিশ্বাসঘাতক বলেই চিনেন। প্রকৃত সত্য হলো যে, মীর জাফর এখন একটি গালিতে পরিণত হয়েছে। মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের কবরকে এখন সেখানকার লোকজন ‘নিমক হারামের’ কবর বলে ধিক্কার দেন। মীর জাফরের যে দুই একজন বংশধর এখনো মুর্শিদাবাদে রয়েছেন তারা জনসমক্ষে আসতে লজ্জা বোধ করেন এবং তাদের পরিচয় দিতেও বিব্রতবোধ করেন। পক্ষান্তরে দেশপ্রেমিকের কথা উঠলে সিরাজের নামে সবাই এখনো শ্রদ্ধায় মাথা নত করেন।
৮৩। ভারতের স্বাধীনতার মহান স্থপতি এবং অহিংসার দর্শনের প্রবর্তক মহাত্মা গান্ধীকে অত্যন্ত নির্দয়, নিষ্ঠুর এবং নির্মমভাবে হত্যা করার পর ঘাতক দল প্রকাশ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছিল। অহিংস এবং অসহযোগ আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী কত বড় মাপের এবং কত উচ্চমার্গের নেতা ছিলেন পাপিষ্ঠ ঘাতকের দল তা কখনো বুঝতেই পারেনি এবং তা পরিমাপ ও করতে পারেনি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ভারতে কংগ্রেসের শাসন অবসানের পর গান্ধীর হত্যাকারী দলই তার অহিংসার বাণীকে সচেতনভাবে বিসর্জন দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, গুপ্ত ঘাতক নাথুরাম গডস্ নামক আততায়ীর হাতে মহাত্মা গান্ধী যেদিন নিহত হলেন, গণতন্ত্রের মানসপুত্র এবং বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দীক্ষাগুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সেদিন অত্যন্ত বেদনা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছিলেন –“Weep India, weep until thy heart break.”
৮৪। মহিমান্বিত মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত বিশ্বাস ছিল যে, স্বাধীন বাংলাদেশে কোন বাঙালি তাঁর নিরাপত্তার জন্য কখনো কোন হুমকি হতে পারে না। বাংলার কাদামাটিতে যার জন্ম, বাংলাদেশের হৃদয় থেকে উৎসারিত অফুরন্ত মমতা এবং ভালবাসায় যিনি সিক্ত হয়েছেন, বেড়ে উঠেছেন; যে বিশাল বক্ষ জুড়ে বাংলার মানুষের জন্য ছিল অন্তহীন ভালবাসা, কোন বঙ্গসন্তান সেই বক্ষে গুলি চালাতে পারে- বঙ্গবন্ধু তা দুঃস্বপ্নেও কখনো ভাবেননি। আর ঠিক একারণেই তিনি সুপরিসর সরকারী বাসভবন গণভবনের পরিবর্তে থাকতেন তাঁর বহুদিনের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর ধানমন্ডির অপরিসর নিজস্ব বাসভবনে। বাঙালির স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের সূতিকাগার এই বাড়িটি তাঁর অসম্ভব প্রিয় ছিল বটে। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন ধরে উদার মন মানসিকতায় আচ্ছন্ন ছিলেন বিধায় তিনি ধারণাই করতে পারেননি যে, তাঁর প্রতি স্বাধীনতার বিপক্ষ তথা পরাজিত শক্তির প্রচণ্ড রকম ক্ষোভ এবং নিদারুণ আক্রোশ দিন দিন বেড়ে উঠতেছিল। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে তারা পাশবিক জিঘাংসা এবং দুর্দমনীয় প্রতিশোধ স্পৃহা চরিতার্থ করার মাধ্যমে।
৮৫। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ১৯৭০ সনের ২৮শে অক্টোবর বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষণ দেন। ঐ ভাষণের শেষ পর্যায়ে বাঙালিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- “… জীবনে যদি আমি একলাও হয়ে যাই, মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মতো আবারও যদি মৃত্যুর পরোয়ানা আমার সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলেও আমি শহীদের পবিত্র রক্তের সাথে
বেঈমানী করবো না। আপনারা আমার প্রতি যে ভালবাসা আজও অক্ষুণ্ন রেখেছেন, জীবনে যদি কোনদিন প্রয়োজন হয় তবে আমার রক্ত দিয়ে হলেও আপনাদের ভালবাসার এই ঋণ আমি পরিশোধ করবো [দ্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, ২৯ অক্টোবর, ১৯৭০]।” অনন্তকাল ধরে ইতিহাস সাক্ষ্য দিবে বঙ্গবন্ধু তাঁর উপরোক্ত প্রতিজ্ঞা তথা ওয়াদার মর্যাদা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। এরই পাশাপাশি দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর ঋণ তিনি পরিশোধ করেছেন ঠিকই, তবে অনেক বেশি পরিমাণে শোধ করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শুধু নিজেই রক্ত দিয়ে ক্ষান্ত হননি, তাঁর স্ত্রী পুত্র পরিজন মিলে সপরিবারে রক্ত দিয়ে গিয়েছেন। আর তাতে করে সারা দেশ এবং পুরো বাঙালি জাতিই বঙ্গবন্ধুর কাছে অনেক কঠিন ঋণভারে আবদ্ধ হয়েছে।
৮৬। দেশবাসী অবশ্যই জানেন আমাদের স্বাধীনতার প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতার কারণে বঙ্গবন্ধু প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বাধা এবং প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। এহেন অবস্থায় শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঐকান্তিক প্রত্যাশায় বাঙালির মুক্তিসনদ হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাঁর দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচীর ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু বলেন- “আমার অবস্থা যদি চিলির সালভেদর আলেন্দের মতো হয় তবুও আমি সাম্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করবো না…।” বঙ্গবন্ধুর এহেন প্রত্যয় দৃঢ় বলিষ্ঠ ঘোষণাকে তাঁর শত্রুপক্ষীয় লোকজন এবং তাদের সহযোগী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সহজভাবে নেয়নি। সারা বিশ্বে পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে বঙ্গবন্ধুর উপরোক্ত যুগান্তকারী কর্মসূচী ঘোষণার মাধ্যমে সংস্কারের যে পথে তিনি পা বাড়িয়েছিলেন, তাতে করে তাঁর শত্রুপক্ষীয় লোকজন অত্যন্ত বেসামাল হয়ে পড়ে। আর ঠিক একারণেই তারা বঙ্গবন্ধুকে ধরাধাম থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে এবং তা’ বাস্তবায়নের জন্য সুযোগের সন্ধান করতে থাকে।
৮৭। দল নিরপেক্ষ সুধীজনেরা অবশ্যই স্বীকার করবেন, নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। প্রায় সর্বক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ তিনি সুকৌশলে কাটিয়ে উঠে ধীরে ধীরে দেশকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তিনি ঈর্ষণীয় সফলতাও অর্জন করেছেন। দেশ পুনর্গঠনের কোন একটি ক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টার কোন কমতি ছিল না। তাঁর আগ্রহের ও কোন ঘাটতি কিংবা ত্রুটি ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর এহেন গণমুখী এবং
সুদূরপ্রসারী কর্মসূচী ও সাফল্য স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সহ্য হয়নি। তাই দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজশে পথভ্রষ্ট কতিপয় নরপশু ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। বাঙালি জাতির সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অত্যন্ত লজ্জাজনক পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে পাকিস্তানেরই কতিপয় ভাড়াটে খুনী এবং বিবেকবর্জিত কতিপয় পথভ্রষ্ট নরপশুদের এহেন পাশবিক এবং দানবীয় কর্মকাণ্ডে মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে নিষ্ঠুর এবং জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের উন্মত্ততায় বিসর্জনের পালায় আমরা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হারালাম।
৮৮। জাতি-ধর্ম-বর্ণ এবং গোত্র নির্বিশেষে একথা সবাই স্বীকার করেন যে, বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতি তাঁর দরদ ছিল অসীম এবং অফুরন্ত। এরই পাশাপাশি দেশের মানুষদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা ছিল অপরিমেয় এবং অপরিসীম। তাই তাঁকে যখন অভিজ্ঞ সাংবাদিক David Frost প্রশ্ন করেন- “Your excellency, what is your qualification?” তিনি অকপটে এবং অসংকোচে বলেন- “I love my people.” বিদগ্ধ সাংবাদিক যখন পালটা প্রশ্ন করেন- “What is your disqualification?” প্রত্যুৎপন্নসম্পন্ন মুজিব কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দিলেন- “I love them too much.” সুতরাং এদেশ এবং দেশবাসীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর দায়িত্ব, কর্তব্য এবং দরদ ও মমত্ববোধের পাশাপাশি তাঁর শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা কতটা ব্যাপক, গভীর এবং আন্তরিক ছিল উপরোক্ত জবাব পর্যালোচনা করে তা সহজেই অনুধাবন করা যায়।
৮৯। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সিংহ হৃদয়ের বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানী বর্বর সামরিক জান্তা কখনো লায়ালপুর আবার কখনোবা মিয়ানওয়ালি কারাগারে সুদীর্ঘ নয়টি মাস ধরে আটক রেখে এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা সত্ত্বেও তা কার্যকর করা দূরে থাক তাঁর কেশাগ্র পর্যন্ত স্পর্শ করতে সাহস পায়নি। অথচ তাঁরই স্বপ্নধরায় সৃজিত স্বাধীন বাংলার মাটিতে ইতিহাসের নিষ্ঠুর এবং জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞের পৈশাচিকতায় তাঁকেই অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংসভাবে জীবন দিতে হলো। উন্মত্ত ঘাতকদল তাদের প্রভূদের নির্দেশে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এবং অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে রাতের অন্ধকারে হামলা চালিয়ে পৈশাচিক পন্থায় অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং নির্দয়ভাবে স্বাধীনতার এই মহান স্থপতিকে সপরিবারে হত্যা করে। অপরিণামদর্শী নরপশুদের এই নিষ্ঠুর এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তারা সারা দেশ এবং বাঙালি জাতিকে পিছিয়ে দেয় প্রগতি এবং সমৃদ্ধির অগ্রগামী মিছিল থেকে। অতঃপর যুদ্ধে বিজয়ী বাঙালি জাতির পরিচয় হয় পিতৃ হন্তারক বিশ্বাসঘাতক জাতি হিসেবে।
৯০। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, পাকিস্তানী সামরিক জান্তা যে রায় কার্যকর করতে পারেননি, তাদেরই বশংবদ ক্রীতদাস একদল রক্তপিপাসু নরঘাতক জল্লাদ ইয়াহিয়া খানের উক্ত রায় কার্যকর করেছিল উপরোল্লিখিত রায়ের সুদীর্ঘ চার বছর পরে ১৯৭৫ সনের ১৫ই আগস্ট। কুলাঙ্গার ঘাতকেরা এইদিন হিংস্র উল্লাসে মেতে উঠে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িটিতে। এই দিনে দেশদ্রোহী কতিপয় ঘাতকদের নির্মম বুলেট আমাদের মাঝ থেকে সপরিবারে ছিনিয়ে নেয় জাতির পিতা মুজিব সহ মোট ১৭ জনকে। আমরা সবাই জানি যুদ্ধক্ষেত্রেও কোন নারী কিংবা কোন শিশুকে হত্যা
করা নিষিদ্ধ বটে। কিন্তু মদ্যপ এবং লম্পট ইয়াহিয়ার ভাড়াটে খুনীরা তাদের পশু প্রবৃত্তির তাড়নায় ১৫ই আগস্টের কালরাত্রিতে বঙ্গবন্ধুকে ছাড়াও তাঁর সহধর্মিণী, নবপরিণীতা দুই পুত্র বধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং অন্তঃসত্ত্বা নারী আরজু মনি সহ অবুঝ শিশু রাসেলকেও অত্যন্ত নির্দয় এবং নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। কারবালার নির্মম ট্রাজেডির পর এমন লোমহর্ষক এবং হৃদয় বিদারক হত্যাকাণ্ডের আর দ্বিতীয় কোন নজির সারা বিশ্বের কোথাও নেই।
ড. মোঃ ফজলুর রহমান,সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট
(চলবে)
বি রি/ইবিটাইমস/এম আর