৪র্থ পর্ব
ড. মোঃ ফজলুর রহমানঃ ৩১। স্বীকৃত মতেই মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তথা ১৯৭১ সনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামে আদৌ কোন দলই ছিল না। এই দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৭ (সাত) বছর পরে বিগত ১৯৭৮ সনের ১লা সেপ্টেম্বর। তাই এই দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা দলনেতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি তার দলের নেতাকর্মীগণ প্রকৃত প্রস্তাবেই যদি যথোপযুক্ত সম্মান কিংবা শ্রদ্ধা পোষণ করতে চান এবং বিএনপি -এর একাধিক অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীগণ ও যদি তাদের প্রয়াত উপরোক্ত দলনেতার প্রতি সত্যিকার অর্থেই কোন প্রকার ভক্তি, শ্রদ্ধা এবং আনুগত্য প্রদর্শন করতে চান, তাহলে দলীয় নেতার উপরোক্ত উপলব্ধির প্রেক্ষিতে তার লিখিত বক্তব্য সমূহের প্রতি তথা উপরোল্লিখিত আর্টিকেলে সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট (Clearly, categorically and specifically) ভাবে বিবৃত এবং বিধৃত বক্তব্যসমূহের প্রতি তাদের যথোপযুক্ত সম্মান এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত কিনা তা তারা ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখতে পারেন।
৩২। একথা সবাই জানেন, মানেন এবং স্বীকার করেন যে, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা ১৯৭১ সনে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালে তথা ১৯৭১ সনে বাংলাদেশে যে সমস্ত দল সমূহ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল তন্মধ্যে অনেক দল ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত বিলুপ্ত দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি তথা ন্যাপ (মোজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী), মুসলিম লীগ, পিডিপি এবং নেজামে ইসলাম অন্যতম। এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী সহ ধর্মাশ্রয়ী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম দেশ স্বাধীনের পর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পরে ঐ সমস্ত ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলিকে রাজনীতি করার সুযোগ প্রদান করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধনহীন অবস্থায় রয়েছে বটে।
৩৩। দেশবাসী অবশ্যই জানেন, বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং গণফোরাম সহ আরও অনেক দল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আদৌ আত্মপ্রকাশই করেনি। অর্থাৎ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে উপরোক্ত কোন একটি দলের আদৌ জন্মই হয়নি। তাই দলগতভাবে তথা উপরোক্ত কোন একটি দলের কোন নেতা কিংবা কর্মীরই উপরোল্লিখিত কোন একটি দলের পরিচয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার কোন সুযোগ কিংবা কোন অবকাশই ছিল না। এমতাবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং পুরো দেশবাসী তথা সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। আর এই যুদ্ধের নির্ভুল পথিকৃৎ ছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বয়ং। তাঁরই নেতৃত্বে এবং দিক নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। একথা ঐতিহাসিকভাবেই সত্য যে, ১৯৭১ সনে বঙ্গবন্ধু ছাড়া দেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ে কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়া কিংবা তা ঘোষণা করার মতো আইনানুগ কোন ক্ষমতা (Legitimate right) কিংবা কর্তৃত্ব (Lawful aurhority) অথবা কোন এক্তিয়ার (Locus Standi) অন্য কারও ছিল না। আর তা কেউ করেন ও নি।
৩৪। সুতরাং আজ যারা গলা ফাটিয়ে কিংবা আঙ্গুল উঁচিয়ে অথবা টেবিল চাপড়ে গরম গরম কথা বলেন, একবার শুধু বুকে হাত দিয়ে বলুন তো বাঙালির এই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনার নিজের জন্ম হয়েছিল কি না? আর যদি জন্ম গ্রহণ করেও থাকেন, বাঙালির এই মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে আপনার নিজের কিংবা আপনার পরিবারের কার কতটুকু অবদান ছিল? আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বুকে হাত দিয়ে একবার শুধু নিজেকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন তো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আপনার দলের জন্ম হয়েছিল কি না? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে আপনি নিজে কিংবা আপনার পরিবার অথবা আপনার দল এবং আপনার নেতা কার আহবানে এবং কার নেতৃত্বে উক্ত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন? তাই দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ এবং এই যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা এবং অবদান সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তোলার আগে আপনার উপরোল্লিখিত অবস্থান সমূহ একবার বিবেচনা এবং পর্যালোচনা করে দেখা উচিত নয় কি?
৩৫। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ঘাত-প্রতিঘাতের অভিজ্ঞতার আলোকে একথা অবলীলাক্রমে বলা যায় যে, বাঙালির স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে যে কোন কার্যক্রম তথা পদক্ষেপ গ্রহণের সময়েই বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত তীক্ষ্ণতা এবং প্রখর বুদ্ধিমত্তার সাথে কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন এবং অগ্রপশ্চাৎ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিন্তা- ভাবনা করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খুবই নির্ভুলভাবে অগ্রসর হয়েছেন। বাঙালি জাতি যদি হয় একটি স্বপ্নের নাম, আকাঙ্ক্ষার নাম, আন্দোলন ও সংগ্রামে সফলতার নাম, তাহলে তার সার্থক রূপকার বঙ্গবন্ধু মুজিব। আবহমান কালের শাশ্বত বাঙালির সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক স্বপ্নকে তিনি বাস্তবায়ন করেছেন তাঁর আজীবন স্বপ্নের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে তাঁর জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি সর্বান্তকরণে এবং সর্বাত্মকভাবে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করেছেন। তাই বাঙালি জাতির রাজনৈতিক স্বাধীনতার কালজয়ী প্রতীক বঙ্গবন্ধু।
৩৬। বঙ্গবন্ধুর চিরশত্রুরাও একথা অসংকোচে এবং অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি (বঙ্গবন্ধু) ক্ষমতায় গিয়ে নেতা হননি। বরং সুদীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন প্রকার দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন ও সংগ্রাম করে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার ও নির্যাতনের পাশাপাশি জেল জুলুম সহ্য করে এবং দীর্ঘ দিন কারাভোগ করে নেতা হয়েছেন এবং ক্ষমতায় গিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাঙালির সার্বিক মুক্তি এবং গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধে অতুলনীয় এবং অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি অবধারিতভাবেই বাঙালি জাতির পিতা হিসেবে অভিষিক্ত এবং পরিগণিত হয়েছেন। তাই বাঙালির গৌরবদীপ্ত ইতিহাসের পাতায় তিনিই একমাত্র মৃত্যুঞ্জয়ী বীর। বঙ্গবন্ধুর তুখোড় সমালোচকরাও স্বীকার করেন যে, বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর মতো সোচ্চার এবং আপোষহীন নেতা আর কেউই ছিলেন না। বাঙালি জাতির অধিকার এবং ন্যায্য দাবি দাওয়া নিয়ে কেউই তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন সংগ্রাম করতে কিংবা প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি। সুতরাং একথা অনস্বীকার্য যে, অধিকার বঞ্চিত বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর কোন বিকল্প কিংবা সমকক্ষ তাঁর সমসাময়িক কালে আর কেউই ছিলেন না।
৩৭। ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রাণপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের জন্য ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। দেশমাতৃকার মুক্তির লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাঁর সংগঠনকে দেশব্যাপী ব্যাপৃত তথা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি এই সংগঠনকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি ভীষণভাবে তৎপর ছিলেন। কেননা তিনি ভাল করেই জানতেন কোন আন্দোলনে সফলতা পেতে হলে শক্তিশালী সংগঠন থাকা দরকার। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে অনেকে মন্ত্রী হওয়ার পর কখনো কখনো দলের সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন। আবার কখনোবা তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে এরকম কোন ঘটনা কখনো ঘটেনি। উপরন্তু তিনি তাঁর নিজ দলীয় নেতাকর্মীগণ ছাড়াও তাঁর নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত বৈরী মনোভাব পোষণকারী ভিন্ন ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদেরকেও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন বলে ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে অনেকেই মন্ত্রিত্বের জন্য দল ছেড়ে দেন। এমনকি দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং আদর্শ অকাতরে বিসর্জন দিয়েও অনেকে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করে থাকেন এক্ষেত্রে গণমানুষের পরীক্ষিত নেতা শেখ মুজিব নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম বটেন।
৩৮। আওয়ামী লীগের ইতিহাস সম্পর্কে যারা খোঁজ খবর রাখেন তারা অবশ্যই জানেন বিগত ১৯৫৭ সালের ৭ ও ৮ ই ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু তথা নীতি এবং আদর্শ নিয়ে মাওলানা ভাসানীর সাথে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবের মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। এহেন মতপার্থক্যের জের ধরেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৫৭ সনের ১৮ই মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ঐ বছরের ২৫শে জুলাই তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী) গঠন করেন। ঐ সময়ে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক মন্ত্রী সভার সদস্য ছিলেন উদীয়মান নেতা শেখ মুজিব। মাওলানা ভাসানীর এহেন আকস্মিক পদত্যাগের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পরিত্যাগের সুমহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ মুজিব প্রাদেশিক মন্ত্রী সভার সদস্যপদ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছেড়ে দেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। স্বীকৃত মতেই মন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদত্ত মন্ত্রিত্বের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাও তাঁকে ছাড়তে হয়। মন্ত্রিসভা থেকে এহেন স্বেচ্ছায় এবং হাসিমুখে পদত্যাগ করে দলের নেতৃত্বে ফিরে আসায় শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। সুতরাং মন্ত্রিত্বের কারণে দল ত্যাগ নয় বরং দলের কারণে মন্ত্রিত্ব ত্যাগের এহেন সুমহান দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।
৩৯। বাঙালি মাত্রই জানেন, দেশমাতৃকার টানে মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং প্রস্তুতিপর্ব প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু নিজে স্বয়ং। পরে তাঁরই আহবানে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানপন্থী এবং স্বাধীনতা বিরোধী কতিপয় ব্যক্তি ছাড়া দেশের আপামর জনসাধারণ তথা সাড়ে সাত কোটি বাঙালি মনে প্রাণে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তারও পরে মরণপণ লড়াই করে অবর্ণনীয় এবং অচিন্তনীয় ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে বীর বাঙালি জাতি তাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়। এহেন রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর সুচিন্তিত ছক ও নির্ভুল পরিকল্পনা এবং সঠিক দিক নির্দেশনার আলোকেই স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই প্রতিরোধ, তারও পরে মুজিবনগরে এসে প্রবাসী সরকার গঠন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পাদন, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দান এবং যুদ্ধ পরিচালনা সংক্রান্ত সমুদয় কার্যক্রম সমূহ সম্পন্ন করেন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পরিচালিত আওয়ামী লীগ। এই জ্বাজল্যমান সত্য অস্বীকার করার মতো কারও কোন উপায় নেই।
৪০। একথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, কোন যুদ্ধ এমনি এমনি করা যায় না। এর জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্র ও পটভূমি এবং ধারাবাহিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন। আর এই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচী এবং তৎপরতার মাধ্যমে। তাই একথা স্বীকৃত ও প্রমাণিত যে, বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধ সফলভাবে পরিচালনা এবং উক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাবে বিজয়ের কৃতিত্বের দাবিদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আর এই দলের অবিসংবাদিত নেতা হলেন বঙ্গবন্ধু। সুতরাং একথা বললে কোনভাবেই অত্যুক্তি কিংবা অতিরঞ্জিত হয়না যে, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাসই আওয়ামী লীগের ইতিহাস। আর আওয়ামী লীগের ইতিহাসই আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাস। পাকিস্তানের ২৪ বছরের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল কিংবা কোন দলের কোন নেতারই আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর মতো এমন সংগ্রাম মুখর জীবন ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নেই। অবশ্য কেউই তা কখনো দাবি ও করেননি। সুতরাং একথা অনস্বীকার্যভাবেই সত্য যে, বাঙালির শুদ্ধ নাম শেখ মুজিবুর রহমান।
ড. মোঃ ফজলুর রহমান,সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অবঃ), লেখক ও কলামিস্ট
(চলবে)
বি /ইবিটাইমস/ এম আর