সমগ্র অস্ট্রিয়া করোনার অব্যাহত “ঘন লাল জোনে”

ইউরোপিয়ান মেডিক্যাল এজেন্সি(EMA) ইইউ দেশ সমূহে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের বায়োএনটেক ও ফাইজারের টিকার অনুমোদনের সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে।

ইউরোপ ডেস্কঃ অস্ট্রিয়ান সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশন তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে সমগ্র অস্ট্রিয়াকে অব্যাহত করোনা সংক্রমণের অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘন লাল জোনেই রেখেছে।তবে ট্রাফিক লাইট কমিশনের কার্যকারী নথি অনুসারে, এপিএ আরও জানায়, অস্ট্রিয়ার ৯ টি রাজ্যের মধ্যে রাজধানী ভিয়েনা,বুর্গেনল্যান্ড ও ক্যারিন্থিয়া(Kärnten) কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।

বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ফেডারেল রাজ্য সমূহের মধ্যে তিরল,ফোরালবার্গে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।এই সপ্তাহে তিরল রাজ্যে প্রতি ১ লাখ জনপদে করোনায় আক্রান্ত ২,২০৪ জন এবং ফোরালবার্গে ১,৭৭৭ জন।আপার অস্ট্রিয়া, লোয়ার অস্ট্রিয়া,স্টায়ারমার্ক এবং সালজবুর্গে এখনও সংক্রমণ প্রায় হাজারের উপরে।

করোনা কমিশন এপিএ-কে আরও জানিয়েছে এই সপ্তাহে অনেক রাজ্যে এমনও জেলা রয়েছে যেগুলির নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে, স্বীকার্য মাত্র সাতটি এবং এর চেয়ে বেশি কিছু নয়৷

করোনা ট্র্যাফিক লাইট কমিশন কোন কোন রাজ্য বা জেলায় সংক্রমণের বিস্তার কিছুটা স্থিতিশীল হলেও এখনও সমগ্র দেশকেই করোনার সংক্রমণের বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলই মনে করছেন। ইইউর নির্দেশনা অনুযায়ী কোন দেশ বা অঞ্চলে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনার সংক্রমণ ১০০ জন এবং তার অধিক হলে সে অঞ্চল বা দেশকে করোনার সংক্রমণের বিস্তারের অতি ঝুঁকিপূর্ণ লাল জোন ধরা হয়ে থাকে।

অস্ট্রিয়ার করোনার ট্র্যাফিক লাইট কমিশনের এই সপ্তাহের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজধানী ভিয়েনায় গত সাত দিনে প্রতি এক লাখ জনপদে করোনায় সংক্রমিত ২৯৩ জন। প্রতিবেশী বুর্গেনল্যান্ড ৩৫৭ জন এবং দক্ষিণের ক্যারিন্থিয়ায় প্রায় ৩০০ জন। ফলে অস্ট্রিয়ার ৯ টি রাজ্যের মধ্যে রাজধানী ভিয়েনা অনেকটাই ভাল অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইইউর মেডিক্যাল এজেন্সি(EMA) সদস্য দেশ সমূহে ৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের করোনার প্রতিষেধক টিকার জন্য বায়োএনটেক ও ফাইজারের ভ্যাকসিন অনুমোদনের সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুকস্টাইন ইইউর মেডিক্যাল এজেন্সির এই সবুজ সঙ্কেতকে স্বাগত জানিয়েছেন।ভিয়েনা রাজ্যে ইতিমধ্যেই তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে।

এখন আমরা অস্ট্রিয়ার জাতীয় টিক বোর্ডকে (এনআইজি) সমগ্র দেশে অনুমোদন দেয়ার জন্য সুপারিশ করব।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, “শিশুদের টিকা দেওয়া নিরাপদ।স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান।এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়ার জাতীয় টিকা বোর্ডের প্রধান উরসুলা উইডারম্যান-শ্মিড্ট।

আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১৩,৫৯২ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৩ জন। রাজধানী ভিয়েনায় আজ নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ১,৩৯৬ জন।আজ অস্ট্রিয়ায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত কিছুটা কম হলেও কয়েকটি রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।এর মধ্যে অন্যতম Salzburg, OÖ এবং NÖ রাজ্য।

অন্যান্য ফেডারেল রাজ্যের মধ্যে OÖ রাজ্যে ২,৭১৫ জন, NÖ রাজ্যে ২,৩৯২ জন, Steiermark রাজ্যে ১,৯৩৯ জন, Tirol রাজ্যে ১,৬৬৯ জন, Salzburg রাজ্যে ১,৫১৪ জন, Kärnten রাজ্যে ৮৭৬ জন, Vorarlberg রাজ্যে ৭৮৯ জন এবং Burgenland রাজ্যে ৩০২ জন নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন।

অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী আজ সমগ্র অস্ট্রিয়াতে করোনার প্রতিষেধক টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ১১,৯৬৮ ডোজ এবং অস্ট্রিয়াতে এই পর্যন্ত করোনার প্রতিষেধক টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছেন মোট ৫৯ লাখ ১৫ হাজার ৬০ জন,যা দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৬,২ শতাংশ।

অস্ট্রিয়ায় এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১,০৮,৮৮৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১২,২৩৩ জন।করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন মোট ৯,৪৪,১৭৩ জন। বর্তমানে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১,৫২,৪৮৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে আছেন ৬১৯ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩,২৪৬ জন। বাকীরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »