৫ কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় ২ বছর বাড়ছে

ঢাকা: ৫ কুইক রেন্টাল ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় ২ বছর বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। ৪৫৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক এসব কেন্দ্রের জন্য নতুন মেয়াদে বিদ্যুতের দাম কমাতে চায় বিদ্যুৎ বিভাগ। একই সাথে বিদ্যুৎ না কিনলেও উদ্যোক্তাদের যে চার্জ দেওয়া হতো (ক্যাপাসিটি পেমেন্ট) নতুন মেয়াদে সেই শর্ত থাকবে না। বিদ্যুৎ কিনলেই শুধু বিল পাবে। কিন্তু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্যোক্তারা এসব শর্তে রাজি নয়। তারা প্রতি দিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার গ্যারান্টি চায়। একই সাথে ট্যারিফ কমাতেও রাজি নয়।

মঙ্গলবার উদ্যোক্তাদের সাথে চুক্তির নবায়ন সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের সমাঝোতা বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

যে পাঁচটি কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ছে, তার মধ্যে একটি সামিট গ্রুপের, দুটি ওরিয়ান গ্রুপের আর অবশিষ্ট দু’টি তে ইউনাইটেড ও সামিট গ্রুপের যৌথ মালিকানার খুলনা পাওয়ার কোম্পানির (কেপিসিএল)। এগুলোর মধ্যে সামিট গ্রৃপের কেন্দ্রটি  নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জে অবস্থিত ১০২ মেগাওয়াটের। ওরিয়ন গ্রুপের কেন্দ্র দুটি হলো -নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে স্থাপিত ১০০ মেগাওয়াট (সাবেক আইইএল কনসোর্টিয়াম) ও সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাপিত ১০০ মেগাওয়াট (ডাচ্-বাংলা পাওয়ার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট)। কেপিসিএলের কেন্দ্র দুটি খুলনায় অবস্থিত। এগুলো হলো- খানজাহান  আলী পাওয়ারের ৪০ মেগাওয়াট (নোয়াপাড়া) ও ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-২ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এই ৫ কেন্দ্রই বিশেষ বিধানের আওতায় দরপ্রত্রিয়া ছাড়াই নির্মিত হয়। উৎপাদনে আসে ২০১১ সালে। ২০১৬ সালে ৫ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। চলতি বছর সবকটির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন আরও ৫ বছর সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে খুলনা পাওয়ার এবং সামিট পাওয়ার।

সূত্র জানিয়েছে, কুইক রেন্টাল ধরনের এসব কেন্দ্র উৎপাদনে না থাকলেও চুক্তির আওতায় সরকারের কাছ থেকে ভাড়া পেয়ে থাকে যা রেন্টাল ভাড়া বা ক্যাপাসিটি পেমেন্ট নামে পরিচিত। মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া থাকায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোর একেকটির পেছনেই গত এক দশকে গড়ে এক হাজার ২০০ কোটি থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »