ভিয়েনা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা পাকিস্তান মানবিক সাহায্যের জন্য আফগান সীমান্ত খুলে দিতে পারে বুলগেরিয়ান সীমান্তে তিন মিশরীয় অনিয়মিত অভিবাসী প্রত্যাশী কিশোরের মৃত্যু ইন্দোনেশিয়য় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেন শান্তি পরিকল্পনার আলোচকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন – ভলোদিমির জেলেনস্কি অস্ট্রিয়ার আগামী বাজেট ঘাটতি পেনশন ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়তে পারে মাভাবিপ্রবিতে পরিবেশ বিষয়ক ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি তফসিল ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে : সিইসি

বৃটেনে তিন সপ্তাহ পর পুনরায় করোনার লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ ফিরে আসতে পারে

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০২:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই ২০২১
  • ১৯ সময় দেখুন

ইউরোপ ডেস্কঃ বৃটেনের SAGE (Scientific Advisory Group for Emergencies) এর বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে,দেশে সংক্রমণের বিস্তারের ফলে আগামী তিন সপ্তাহ পর পুনরায় বাধ্য হয়েই লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ আসছে।

বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,বর্তমানে বৃটেনে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নতুন প্রাদুর্ভাবের ফলে যদি হাসপাতাল ও আইসিইউতে রোগী ভর্তির সংখ্যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বেড়ে যায় তাহলে বৃটিশ সরকারকে পুনরায় বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়া সহ করোনার অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বৃটেনের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। ফলে বর্তমানে প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়েছে বরিস জনসনের সরকার।

বৃটেনের জরুরী অবস্থার জন্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা গোষ্ঠীর সদস্যগণ (এসএজিই) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে বরিস জনসন এনএইচএসকে অভিভূত করতে না পারার জন্য আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। “আই” পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর ভর্তির পরিমাণ যদি হাসপাতালে অনুমানের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়েই লকডাউন ও বিধিনিষেধে ফেরত যেতে হবে।

বৃটিশ সরকারী বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই আগামী আগষ্ট মাসে বৃটেনে দৈনিক ১,০০০ হাজার থেকে ২,০০০ হাজার রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং দৈনিক করোনায় মৃত্যু ২০০ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা সরকারকে বাধ্যতামূলক মুখোশের মতো পদক্ষেপ এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহের পর পুনরায় লকডাউন সহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করেছেন।

সাম্প্রতিককালের এক সরকারী পরিসংখ্যান দেখা গেছে যে,বৃটেনে ইতোমধ্যেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৫ এ পৌঁছে গিয়েছে।- পূর্বাভাসের শিখরের ছয় সপ্তাহ আগে এবং ‘স্বাধীনতা দিবস’ সীমাবদ্ধতা অপসারণের আগেই।

ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসার প্রফেসর ক্রিস উইট্টির তার সর্বশেষতম সতর্কতায় বলেছিলেন যে, প্রতি তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি দ্বিগুণ হচ্ছে – এবং শীঘ্রই “বেশ ভয়ঙ্কর” স্তরে পৌঁছতে পারে।

ডারউইন কাউন্সিলের ব্ল্যাকবার্নের জনস্বাস্থ্যের পরিচালক প্রফেসর ডমিনিক হ্যারিসন বলেন, “ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে অ-ফার্মাসিউটিক্যাল হস্তক্ষেপে যে কোনও প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাবর্তন করা উচিত যাতে সংক্রমণের বিস্তার পূর্বের মতোই ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি আরও বলেন,করোনা মহামারীর নতুন এই প্রাদুর্ভাব থেকে দ্রুত বের হতে হলে কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধের বিকল্প নেই।

নতুন এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বৃটেনের সব জায়গাতেই প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে প্রায় নয়জনের মধ্যে এখন কোভিড -১৯ অ্যান্টিবডি রয়েছে।  অনুমানটি স্কটল্যান্ডের ৮৮,৬ শতাংশ থেকে ওয়েলসের ৯২,৬ শতাংশ পর্যন্ত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৯০.০ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডের ৯৯.৯ শতাংশ। করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডিগুলির উপস্থিতি সূচিত করে যে অতীতে কাউকে সংক্রমণ হয়েছিল বা টিকা দেওয়া হয়েছিল। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শরীরে সংক্রমণ বা টিকা দেওয়ার পর  দুই থেকে তিন সপ্তাহের মত সময় লাগে।অ্যান্টিবডিগুলি তখন নিম্ন স্তরের রক্তে থাকে, যদিও এই স্তরগুলি সময়ের সাথে সাথে এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে যেগুলি করোনার পরীক্ষায় আর শনাক্ত নাও হতে পারে। সর্বশেষতম অনুমানগুলি অফিস অফ ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) থেকে এবং ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহের রক্ত ​​পরীক্ষার ফলাফলের নমুনার উপর ভিত্তি করে। ওএনএস বলেছে, কোভিড -১৯ অ্যান্টিবডিগুলির জন্য টিকা দেওয়ার এবং পজিটিভ পরীক্ষার মধ্যে একটি পরিষ্কার প্যাটার্ন রয়েছে তবে “টিকা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা সুরক্ষার একমাত্র সঠিক অ্যান্টিবডি শনাক্তকরণ নয়”। একবার সংক্রামিত বা টিকা দেওয়ার পরে, রক্তে অ্যান্টিবডিগুলি শনাক্তকরণের পর্যায়ে থাকা সময়ের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি জানা যায় না।

বৃটিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এর তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার বৃটেনে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৪,১০৪ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩ জন। বৃটেনে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫,৬৩,০০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,২৮,৮৯৬ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৪,১৯,৮৬৮ জন। বর্তমানে বৃটেনে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ১৪ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আইসিইউতে আছেন ৬১৮ জন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস

জনপ্রিয়

কৃষ্ণ সাগরে দুইটি বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারের ওপর হামলা

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

বৃটেনে তিন সপ্তাহ পর পুনরায় করোনার লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ ফিরে আসতে পারে

আপডেটের সময় ০২:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুলাই ২০২১

ইউরোপ ডেস্কঃ বৃটেনের SAGE (Scientific Advisory Group for Emergencies) এর বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে,দেশে সংক্রমণের বিস্তারের ফলে আগামী তিন সপ্তাহ পর পুনরায় বাধ্য হয়েই লকডাউন ও কঠোর বিধিনিষেধ আসছে।

বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছেন,বর্তমানে বৃটেনে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের নতুন প্রাদুর্ভাবের ফলে যদি হাসপাতাল ও আইসিইউতে রোগী ভর্তির সংখ্যা আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে বেড়ে যায় তাহলে বৃটিশ সরকারকে পুনরায় বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়া সহ করোনার অন্যান্য বিধিনিষেধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন বৃটেনের সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা। ফলে বর্তমানে প্রচন্ড চাপের মধ্যে পড়েছে বরিস জনসনের সরকার।

বৃটেনের জরুরী অবস্থার জন্য বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা গোষ্ঠীর সদস্যগণ (এসএজিই) এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে বরিস জনসন এনএইচএসকে অভিভূত করতে না পারার জন্য আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকতে হবে। “আই” পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর ভর্তির পরিমাণ যদি হাসপাতালে অনুমানের চেয়ে বেশি হয় তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়েই লকডাউন ও বিধিনিষেধে ফেরত যেতে হবে।

বৃটিশ সরকারী বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই আগামী আগষ্ট মাসে বৃটেনে দৈনিক ১,০০০ হাজার থেকে ২,০০০ হাজার রোগীর হাসপাতালে ভর্তি এবং দৈনিক করোনায় মৃত্যু ২০০ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা সরকারকে বাধ্যতামূলক মুখোশের মতো পদক্ষেপ এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহের পর পুনরায় লকডাউন সহ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করেছেন।

সাম্প্রতিককালের এক সরকারী পরিসংখ্যান দেখা গেছে যে,বৃটেনে ইতোমধ্যেই জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৫ এ পৌঁছে গিয়েছে।- পূর্বাভাসের শিখরের ছয় সপ্তাহ আগে এবং ‘স্বাধীনতা দিবস’ সীমাবদ্ধতা অপসারণের আগেই।

ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিকেল অফিসার প্রফেসর ক্রিস উইট্টির তার সর্বশেষতম সতর্কতায় বলেছিলেন যে, প্রতি তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি দ্বিগুণ হচ্ছে – এবং শীঘ্রই “বেশ ভয়ঙ্কর” স্তরে পৌঁছতে পারে।

ডারউইন কাউন্সিলের ব্ল্যাকবার্নের জনস্বাস্থ্যের পরিচালক প্রফেসর ডমিনিক হ্যারিসন বলেন, “ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে অ-ফার্মাসিউটিক্যাল হস্তক্ষেপে যে কোনও প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাবর্তন করা উচিত যাতে সংক্রমণের বিস্তার পূর্বের মতোই ছড়িয়ে না পড়ে। তিনি আরও বলেন,করোনা মহামারীর নতুন এই প্রাদুর্ভাব থেকে দ্রুত বের হতে হলে কঠোর লকডাউন ও বিধিনিষেধের বিকল্প নেই।

নতুন এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বৃটেনের সব জায়গাতেই প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে প্রায় নয়জনের মধ্যে এখন কোভিড -১৯ অ্যান্টিবডি রয়েছে।  অনুমানটি স্কটল্যান্ডের ৮৮,৬ শতাংশ থেকে ওয়েলসের ৯২,৬ শতাংশ পর্যন্ত, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ৯০.০ শতাংশ এবং ইংল্যান্ডের ৯৯.৯ শতাংশ। করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডিগুলির উপস্থিতি সূচিত করে যে অতীতে কাউকে সংক্রমণ হয়েছিল বা টিকা দেওয়া হয়েছিল। ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শরীরে সংক্রমণ বা টিকা দেওয়ার পর  দুই থেকে তিন সপ্তাহের মত সময় লাগে।অ্যান্টিবডিগুলি তখন নিম্ন স্তরের রক্তে থাকে, যদিও এই স্তরগুলি সময়ের সাথে সাথে এমন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে যেগুলি করোনার পরীক্ষায় আর শনাক্ত নাও হতে পারে। সর্বশেষতম অনুমানগুলি অফিস অফ ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) থেকে এবং ২৮ জুন থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহের রক্ত ​​পরীক্ষার ফলাফলের নমুনার উপর ভিত্তি করে। ওএনএস বলেছে, কোভিড -১৯ অ্যান্টিবডিগুলির জন্য টিকা দেওয়ার এবং পজিটিভ পরীক্ষার মধ্যে একটি পরিষ্কার প্যাটার্ন রয়েছে তবে “টিকা দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা সুরক্ষার একমাত্র সঠিক অ্যান্টিবডি শনাক্তকরণ নয়”। একবার সংক্রামিত বা টিকা দেওয়ার পরে, রক্তে অ্যান্টিবডিগুলি শনাক্তকরণের পর্যায়ে থাকা সময়ের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি জানা যায় না।

বৃটিশ ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) এর তথ্য অনুযায়ী গতকাল বুধবার বৃটেনে নতুন করে করোনায় সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৪৪,১০৪ জন এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৭৩ জন। বৃটেনে এই পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫,৬৩,০০৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১,২৮,৮৯৬ জন। করোনার থেকে এই পর্যন্ত আরোগ্য লাভ করেছেন ৪৪,১৯,৮৬৮ জন। বর্তমানে বৃটেনে করোনার সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ১৪ হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আইসিইউতে আছেন ৬১৮ জন।

কবির আহমেদ/ ইবিটাইমস