ফারজানা রহমান লাভলী, ভিয়েনা: অস্ট্রিয়া প্রজাতন্ত্রের সাথে বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই অস্ট্রিয়ান রাষ্ট্রদূত যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ২০০০ সালে উভয় দেশের মধ্যে সচিব ও মন্ত্রী পর্যায়ে বিনিময় হয়।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগঃ বাংলাদেশ ও অস্ট্রিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মার্কিন ডলার ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি এবং অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রফতানি প্রায় ৩ ৩৬০ মিলিয়ন ডলার। তবে, ইপিবি প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, রফতানি ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। তবে চামড়াজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হস্তশিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানি বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশে টেক্সটাইল মেশিনারিজ, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উত্পাদন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে পারে অস্ট্রিয়া। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
ভিয়েনায় বাংলাদেশের প্রবাসীদের প্রানের দাবী ছিল কূটনৈতিক মিশন চালুর। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের নভেম্বরে ভিয়েনায় চারু হয় আবাসিক মিশন। এররপই গতি বাড়ে সম্পর্ক উন্নয়নে।
সাংস্কৃতিক,বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাঃ বর্তমানে অস্ট্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশের তেমন কোনও চুক্তি বা সহযোগিতা নেই। তবে, বাংলাদেশ সরকারের সাথে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি এবং সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি খসড়া চুক্তি করেছে অস্ট্রিয়া।
এছাড়া শিক্ষাখাতে কয়েকটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সমঝোতা চুক্তিগুলো সই হলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, গবেষকদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে সম্প্রতি ভিয়েনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুন রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান নয়ন ২৩নং ডিসট্রিক্টের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন । বাংলাদেশী প্রবাসীরা মনে করেন, তার মাধ্যমে অষ্ট্রিয়া এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে ।
লাভলী/ভিয়েনা/আরএন/২১.১২