ভিয়েনা ১০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৭:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮ সময় দেখুন

মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেলসি রদ্রিগেজ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক সংসদীয় অধিবেশনে ৫৬ বছর বয়সী দেলসি শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি।’ এ সময় তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

সংসদীয় অধিবেশনে মাদুরোর ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার মা-বাবার ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সময় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানান।

এদিকে নিউইয়র্কের আদালতে শুনানির সময় নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা নিকোলাস মাদুরো। দেলসি রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ম্যানহাটনের আদালতে হাজির করা হলে মাদুরো নিজেকে একজন ‘সজ্জন ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।

এ সময় মাদুরো নিজেকে ‘অপহৃত’ ও ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর এক বড় মাপের অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে মাদুরোকে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা এ ঘটনাকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার একজন ‘পলাতক অপরাধীর’ হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে।

তবে দেলসি রদ্রিগেজ কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইবিটাইমস/আরএন

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে এসআইদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন দেলসি রদ্রিগেজ

আপডেটের সময় ০৭:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেলসি রদ্রিগেজ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানী কারাকাসে এক সংসদীয় অধিবেশনে ৫৬ বছর বয়সী দেলসি শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দেলসি রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের ঘটনাকে ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘একটি অবৈধ সামরিক আগ্রাসনের বেদনা নিয়ে আমি দায়িত্ব নিচ্ছি।’ এ সময় তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

সংসদীয় অধিবেশনে মাদুরোর ছেলেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার মা-বাবার ফিরে আসার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সময় পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে হাজার হাজার সমর্থক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে মাদুরোর মুক্তির দাবি জানান।

এদিকে নিউইয়র্কের আদালতে শুনানির সময় নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছেন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা নিকোলাস মাদুরো। দেলসি রদ্রিগেজের শপথ গ্রহণের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ম্যানহাটনের আদালতে হাজির করা হলে মাদুরো নিজেকে একজন ‘সজ্জন ব্যক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দাবি করেন যে তিনি এখনো ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট।

এ সময় মাদুরো নিজেকে ‘অপহৃত’ ও ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদের চারটি অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১৭ মার্চ নির্ধারণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শনিবার ভোরে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর এক বড় মাপের অভিযানের পর মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দী করে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে মাদুরোকে আটকের ঘটনায় জাতিসংঘে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা এ ঘটনাকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই অভিযানকে সমর্থন করে বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ভান্ডার একজন ‘পলাতক অপরাধীর’ হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরইমধ্যে জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে। একই সঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও ‘বড় মূল্য’ দিতে হতে পারে।

তবে দেলসি রদ্রিগেজ কিছুটা নমনীয় সুর বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ইবিটাইমস/আরএন