যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা রাজ্যের অ্যানকোরেজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বৈঠক
সফল ও ফলপ্রসূ হলেও কোনও চুক্তি হয়নি
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৮ মিনিটে অ্যানকোরেজে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বিমানবন্দরে পৌঁছান ট্রাম্প-পুতিন উভয়েই। তারপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের গাড়িতে চেপে বৈঠকের ভেন্যুতে যান দু’জন। সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক হয় তাদের মধ্যে।
এ বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। আর পুতিনের সঙ্গে ছিলেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং পুতিনের সহকারী ও মুখপাত্র ইউরি উশাকভ।
উল্লেখ্য যে,কৃষ্ণ সাগরের ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের আবেদনকে ঘিরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী, যা এখনও চলছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।
চলমান এই যুদ্ধ বন্ধের জন্যই আলাস্কায় বৈঠকে বসেছিলেন বিশ্বের দুই পরাশক্তির শীর্ষ দুই নেতা। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে খোলামেলাভাবে ইউক্রেনকে
সামরিক ও আর্থিক সাহায্য এবং সমর্থন দিয়ে আসছে তার মিত্র দেশ সমূহকে নিয়ে।
আড়াই ঘন্টার বৈঠক শেষে সামান্য বিরতি দিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ইউক্রেন নিয়ে কোনও চুক্তি হয়নি। তবে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, তিনি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাদের বৈঠকের ‘সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ দিকটি নিয়ে কোনও চুক্তিতে পৌঁছাননি, তবে সেখানে পৌঁছানোর খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন,তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালাত না।
পূর্ব ইউরোপেও কোনো যুদ্ধ হতো না। তবে সে সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার কথা শোনেননি বলেই রাশিয়া বাধ্য হয়ে ইউক্রেন আক্রমণ করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ সময় ট্রাম্প তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পুতিন বলেন, ২০২২ সালে আমি মার্কিন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, পরিস্থিতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া উচিত নয়, যেখান থেকে যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে এবং আর ঠেকানো যাবে না। আমি বলেছিলাম, বড় ভুল হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো, ব্যবসায়িক এবং বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এই পথে এগোলে আমরা দ্রুত ইউক্রেন সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো যাবে।
রাশিয়া এবং আমেরিকার সম্পর্ক অতীতে খুব একটা মসৃণ ছিল না উল্লেখ করে পুতিন বলেন, এখন সম্পর্ক ‘মেরামত’ করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের কথার ধরন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ হওয়ায় তার সঙ্গে আলোচনায় সুবিধা হয়েছে।
তবে আলাস্কার বৈঠককে উভয় নেতা ‘ফলপ্রসূ’ ও ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ট্রাম্প মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, এর পর বাকিটা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপর নির্ভর করছে। তাকে পুতিনের সঙ্গে চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প। পুতিন এবং জেলেনস্কির মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করার কথা বলেন। ওই বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানান ট্রাম্প।
উল্লেখ্য যে,২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর আমেরিকা তাদের উপর একাধিক বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বাজারে এর পর খনিজ তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছিল মস্কো। তার পর থেকে ভারত তাদের থেকে কম দামে তেল কিনে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, ভারতের তেল কেনার ফলে রাশিয়ার আর্থিক সুবিধা হচ্ছে এবং সেই অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর পরই আলাস্কায় পুতিন–ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস