শহিদুল ইসলাম জামাল, চরফ্যাসন : গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার ঢালচর, চরনিজাম, কুকরী-মুকরী ও মুজিব নগরের সিকদারচর। এসব অঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ নিম্নচাপের থাবার মুখে পরেছেন। এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঢেউর তোড়ে ভেসে যায় বাঁধরক্ষা সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্লকের জিউ ব্যাগ। বিধ্বস্ত হয়েছে আবাসন প্রকল্পের ঘর, স্কুল, মাদ্রাসাসহ প্রায় ৩ শতাধিক বসতঘর।জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মানুষের পুকুরের ও ঘেরের মাছ, এবং ভেসে গেছে কৃষকের গবাদি পশু। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ডে ২ (পাউবো) এর উপ-প্রকৌশলী আহসান আহম্মেদ বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে নদীর পানি ৭ থেকে ৮ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু কোথায় বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে গত বুধবার রাতে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে খেজুরগাছিয়া বেরীবাঁধটি পানির স্রোতে ভেঙে পানি ভিতরে প্রবেশ করে। সেই বেরীবাঁধটি জরুরী মেরামতের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রাজন আলী বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে চরফ্যাশনে ২ হাজার ৯৮৮টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৬টি। এ ছাড়াও ২১১ একর চারণভূমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মৃত গবাদিপশুর ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ ২ হাজার ৮৮০ টাকা। এ ছাড়াও খামারের অবকাঠামো, শুকনো খড়, ঘাস, দানাদার খাবার সহ অন্যান্য ক্ষতির পরিমাণ ২৯ লাখ ১৯ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারণ করা এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে কৃষি খাতে ৪ কোটি টাকার ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে আউশধানের বীজতলা ৩৪ হেক্টর, সদ্য রোপা আউশধান ১০৫ হেক্টর, শাকসবজি ১৪৪ হেক্টর ক্ষতি হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৬০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিম্নচাপে মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমান ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মাছের ঘের ১২০টি, পুকুর ও দীঘি ১ হাজার ২০০টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ১৮ লাখ পোনা ও ১৫৩ দশমিক ০৩৬ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। এ ছাড়াও ৩২টি মৎস্য নৌযানের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ঢালচর, চরনিজাম,
চরকুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও মুজিব নগরসহ বিভিন্ন গ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে এসব প্রতিষ্ঠানকে টিন প্রদান করা হয়েছে। গৃহহীন পরিবারের মাঝে ৪০ বান টিন বিতরণ করেছি। পর্যায়ক্রমে আরো টিন বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও শুকনো খাবার, শাড়ি কাপড় বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে উল্লেখিত চারটি খাতের ক্ষতিপূরণ সরকারিভাবে নির্ধারিত নেই।
ঢাকা/ইবিটাইমস/এসএস