ইবিটাইমস ডেস্ক: বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে বাধ্য হয়ে স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে এখন রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে।
স্বৈরাচারের মাথা পালিয়েছে, কিন্তু তার প্রেতাত্মারা সমাজে এবং প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় এখনও রয়ে গেছে। এ সব স্থানে থেকে তারা তাদের ষড়যন্ত্রের বীজ বপনের চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে যশোর টাউন হল মাঠে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির প্রয়াত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক স্মরণসভায় ‘ভার্চূয়াল প্লাটফর্মে’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন।
‘দেশের এই ক্রান্তিকালে তরিকুল ইসলামের মতো আদর্শবান ও নির্লোভ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের অভাব অনুভব করছি’ উল্লেখ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তাঁর (তরিকুল ইসলাম) মতো সাংগঠনিক দক্ষতা-সম্পন্ন রাজনীতিক বেঁচে থাকলে আমরা আরও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেতে পারতাম, যা দেশ ও দলের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে পারত।
‘অনেকেই অনেক রকম সংস্কারের কথা বলছেন’-এ কথা উল্লেখ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাদের সকলের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সংবিধানের মধ্যে কতকগুলো লাইনের পরিবর্তনই কি সংস্কার?
তিনি বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সংস্কার বলতে আমরা সেই সংস্কারই বুঝি, যে সংস্কার করলে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যে সংস্কার করলে বেকারদের কর্মসংস্থান, নারীদের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দেশের সন্তানেরা সুশিক্ষা পাবে ও মানুষ ন্যুনতম চিকিৎসা নিতে পারবে।’
তারেক রহমান জানান, দেশে ও দেশের মানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য সংস্কারের কথা যদি কেউ বলে থাকে, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিই বলেছে।
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধান মন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘২০৩০ ভিশন’ নামে সংস্কারের কথা বলেছেন। ২০২৩ সালে দলের পক্ষ থেকে, এবং এর কয়েকদিন পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে থাকা সকল দলকে একত্রিত করে সংস্কারের জন্য আমরা ৩১ দফা দিয়েছি।’
সংবিধান পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সংবিধানে অবশ্যই কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। দিন-দুনিয়ার পরিবর্তিত সময়ের প্রেক্ষাপটে কিছু সংস্কার করতে হবে। সেই সংস্কারগুলো যাতে সফল সংস্কার হয় সে জন্য কী কী করা উচিৎ তা সকল দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে এ স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইউব, আবুল হোসেন আজাদ ও সাবিরা নাজমুল মুন্নী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বক্তৃতা করেন।
ডেস্ক/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন