ইবিটাইমস, ঢাকা: কোটা আন্দোলনের সমন্বয়দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ডিবি কার্যালয়ে গিয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। সোমবার (২৯ জুলাই) বিকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি।
পরে সেখান থেকে বের হয়ে ডিবি অফিসের গেটের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন কেন্দ্র করে যে সম্পদ ধ্বংস হয়েছে তা জনগণের টাকায়, আবার করা যাবে। প্রাণের তুলনায় এই সম্পদ কিছুই না।
তিনি বলেন, বিবেকের তাড়নায়, সাধারণ নাগরিক হিসাবে এসেছি, দেশের ওপর সবার হক আছে। এজন্য এসেছি ছাত্র-ছাত্রীদের বুকে যেন আর একটাও গুলি না করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, প্রত্যেকটা প্রাণহানির বিচার করতে হবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই দেশ তোমাদের, আশা ছাড়া যাবে না। সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমি ডিবি প্রধানের কাছে তিনটি প্রশ্ন নিয়ে এসেছিলাম। আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, এই সমন্বয়কারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাকি সেফ কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন, যদি গ্রেপ্তার হয়ে থাকে, তাহলে আমার কোনো প্রশ্ন নেই, দাবি নেই। কিন্তু যদি সেফ কাস্টডি হয়ে থাকে, তাহলে আমি তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। ডিবি প্রধান আমাকে পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, এই ছয় সমন্বয়কারী যেহেতু তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, সেই কারণে তাদের সেফ কাস্টডিতে নেয়া হয়েছে।
‘এই কথা শুনে আমি প্রশ্ন করেছিলাম যে, আপনারা কীভাবে বুঝলেন তারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন? তারা কি আপনাদের জানিয়েছিল, অনুরোধ করেছিল? আমাকে তখন তিনি জানিয়েছেন, না। উনারা বুঝতে পেরেছেন মনিটরিং (নজরদারি) করে। যেহেতু তারা সেফ কাস্টডিতে, আমি তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। প্রত্যুত্তরে আমাকে জানানো হয়েছে যে, দেখা করতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে দেখা করতে হবে,’ বলেন তিনি।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, তাদের কখন সেফ কাস্টডি থেকে মুক্তি দেওয়া হবে? জবাবে তিনি (হারুন) বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যখন তাকে নির্দেশনা দেবেন, তখনই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন এখন, একজন নাগরিক যদি রিকোয়েস্ট করে, তাহলে সেফ কাস্টডিতে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অনুরোধের বাইরে যদি সেফ কাস্টডিতে নেওয়া হয়, তাহলে এটা কি সেফ কাস্টডি নাকি অ্যারেস্ট?’
ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন