সরকারকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বললেন মির্জা ফখরুল

ইবিটাইমস, ঢাকা: দেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভয়াবহ দানব ও লুটেরা আওয়ামী লীগের হাতে দেশ, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস হয়ে গেছে। সবকিছুই এরা গিলে খেয়ে ফেলতে চায়।

শনিবার (২৯ জুন) বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি, নতুবা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগ সরকার দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কাঠামো ও অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্যাংকগুলো লুট করে টাকা বিদেশে পাচার করছে। স্তম্ভিত হই, যখন দেখি সাবেক সেনাপ্রধান গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য জড়িত। সাবেক পুলিশ প্রধান হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। এতো মাত্র শুরু। এরকম আজিজ, বেনজীর ও মতিউর হাজার হাজার আছে। আজকে বড়বড় রাঘব বোয়ালকে ধরা হচ্ছে না। অথচ, গণতন্ত্রের মাকে ছয়বছর ধরে বন্দী রাখা হয়েছে। সময় আছে এখনও সময় আছে বেগম জিয়াকে মুক্তি দেন। নতুবা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম করতে গিয়ে আজও হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে বন্দী। উদ্দেশ্য একটি, গণতন্ত্রকামী মানুষকে আটক করে গণতন্ত্রকে চিরদিনের জন্য নির্বাসিত করা, করেছেও তাই। অবৈধ সরকার একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসে আছে। দিনের ভোট আগের রাতে করছে। ইতিহাসে তাদের নাম লেখা থাকবে। মানুষের মৃত্যু একবার হয়, বারবার নয়। মরে যাওয়ার ভয়ের চেয়ে সাহস করে প্রতিরোধ গড়তে হবে। তাই সকল অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে হবে। এজন্য তরুণদের জেগে উঠতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সমাবেশের মূল লক্ষ্য খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি। শহীদ জিয়া যখন নিজের জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন তখন দুই শিশু সন্তানসহ গ্রেপ্তার হোন খালেদা জিয়া। স্বামী যুদ্ধের ময়দানে, স্ত্রী বন্দী। বেগম জিয়া দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। তিনি শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নয়, এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারেও তার প্রধান ভূমিকা ছিল। তিনি ক্ষমতায় এসে সংসদীয় গণতন্ত্র কায়েম করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য ১৫ বছর আন্দোলন করছি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তার কয়েকদিন আগে হোটেল মেরিডিয়ানে তিনি বলেছিলেন আমাকে আটক করা হতে পারে। আপনারা রাজপথ ছেড়ে যাবেন না, যতদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না, ততদিন সংগ্রাম চলবেই। ’

ভারতের সঙ্গে চুক্তি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘চুক্তি নিয়ে শুধু বিএনপি নয়, দেশের আইন বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন, এটি অসম চুক্তি। আমরা পানি চাই। আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা চাই। মানুষ এ চুক্তিতে কী পেয়েছে? পেয়েছে ঘৃণা। সম্পদ লুণ্ঠন করার পাঁয়তারা।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘২৮ অক্টোবর আমরা আন্দোলনের ফসল ঘরে আনতে পারি নাই। কারণ আমাদের মৃত্যু ভয় ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার কারণে পুরোদেশ আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ’

তিনি বলেন বলেন, ‘সারাদেশ আজ চোর-বাটপারে ভরে গেছে। ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়ার মিডিয়ার কারণে সরকারের অনেক অপকর্ম ফাঁস হচ্ছে।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তানিদের থেকে মুক্ত হয়েছি দিল্লীর দাসত্ব করার জন্য নয়। ’’ বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকতে পারে, প্রভু নয়। আজকে আওয়ামী লীগ ভারতের সেবা দাসে পরিণত হয়েছে। ’

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহিদ চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল/আরএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »