মো. নাসরুল্লাহ, ঢাকা: বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে অনেক শিল্প কারখানা বসে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ।
রবিবার (২৩ জুন) রাজধানীর মহাখালীতে ব্রাক ইন সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত বিদ্যুত জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্ধ নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং এর কারনে কারখানা সচল রাখতে উচ্চমূল্যের ডিজেল ব্যবহার বাড়ছে। এতে কারখানার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কোম্পানি বসে গেছে।
এ কে আজাদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে কারখানার যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ অন্যান্য পন্যের আমদানি সবমিলে ৪৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমেছে গত বছরের তুলনায়। সামিগ্রিক ভাবে কমেছে সরকারের রাজস্ব আয়। গতবার এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য মাত্রা পুরন করতে পারেনি। এবার ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার যে লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে সেটা পুরন করা সম্ভব হবেনা। এনবিআর চেয়ারম্যান নিজে এটা স্বীকার করেছেন। এভাবে চললে বিদ্যুৎ খাতে বাজেটে যে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ রাখা হয়েছে সেটা আদৌ সরকার দিতে পারবে কী না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা দেশের উন্নয়নে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের প্রতিটি স্তরে স্বচ্চতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার।
আলোচনায় সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকারের ভুলনীতির কারনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবিকে ২০২৫ সাল নাগাদ ১৮ হাজার কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারের ভর্তুকি দেয়ার পরও এই বিপুল পরিমান লোকসান হবে পিডিপির।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন কালে তিনি আরো বলেন, সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে পরিকল্পনা নিয়েছে সেটা উচ্ছাবিলাসী। ওই সময় ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত রিজার্ভ ধরেও সর্বোচ্ছ ৩৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হলেই যথেষ্ট। সক্ষমতার অতিরিক্ত বিদুতের কারনে জ্বালানি সংকট এবং বিতরন ও সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতার কারেন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ থাকার পরও বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রেখে বিপুল পরিমান ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। এরফলে পিডিবির লোকসান বাড়ছে। সেই সঙ্গে ভোক্তার বিদ্যুতের দামও বাড়ছে।
ড. মোয়াজ্জেম বলেন, বিপিসি বছরের শুরুতে লোকসান দেখায় কিন্তু বছরের শেষে তারা মুনাফা করে। তারা আসলে করছে টা কী? তারা কী প্রক্রিয়ায় তেলের মূল্য নির্ধারন করছে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দেন তিনি।
মোয়াজ্জেম বলেন, ব্যয়বহুল সত্বেও সরকার জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে যাচ্চে। উচ্চমূল্যের জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসেত হবে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে আরো বেশি আন্তিরক হওয়া দরকার।
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য সঞ্চালন ও বিতরন লাইনের উন্নয়নের পাশাপাশি স্মার্ট গ্রীড ব্যবস্থায় উত্তোরনের জন্য সরকারকে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্টানে বুয়েটের অধ্যাপক ড. ম তামিম, বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট এর রেক্টর মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বক্তব্য দেন।
ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন