মো. নাসরুল্লাহ, ঢাকা: গ্যাস ও জ্বালানি তেলের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ভর্তুকি তুলে নেয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রসংশা করেছে সফররত আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলায় আলাদা আলাদা বৈঠক করেছে সফররত প্রতিনিধি দলটি।
বৈঠকে গত ৩০ এপ্রিল জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয়ের প্রশংসা করেছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের ভতুর্কি ও বসে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। এছাড়া পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি পন্য কেনার বিপরীতে বিল পরিশোধ ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে আইএমএফ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, আইএমএফ প্রতিনিধি পেট্রোবাংলার সামগ্রিক কার্যক্রম জানতে চায়। আমরা এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পেট্রোবাংলার ২০৪১ সাল পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন, এলএনজি আমদানি, সরবরাহ, বিক্রি ও রেভিনিউ আদায়ের বিষয়টি তুলে ধরি। এছাড়া জ্বালানিখাতে সামগ্রিক সংস্কারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার প্রথমে জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেন আইএমএফ প্রতিনিধি দল। অতিরিক্ত সচিব হুয়ান কবীরের নেতৃত্বে জ্বালানি বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গেও বৈঠক করে আইএমএফ প্রতিনিধি দল। এসময় আইএমএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির গবেষণা বিভাগের উন্নয়ন সামষ্টিক অর্থনীতি শাখার প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও। আর বিদ্যুৎ বিভাগের নেতৃত্বে ছিলেন সিনিয়র সচিব হাবিবুর রহমান। বৈঠক সুত্রে জানা গেছে, আইএমএফ প্রতিনিধি দল বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের ভতুর্কির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। এসময় তারা বিদ্যুতের ক্যপাসিটি চার্জ নিয়েও জানতে চায়। বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই দু’টি বিষয় নিয়ে জানানোর পর আইএমএফ প্রতিনিধিরা উদ্বেগ জানায়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অব্যাহত লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ শে এপ্রিল গ্যাস এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে ভর্তুকিকে শুন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে পজেটিভলি দেখছে আইএমএফ। তিনি বলেন, আইএমএফ মূলত যে ঋন দিবে সেটা আদায় করার লক্ষ্যে নানা পরার্মশ দেয়। বাংলাদেশ সেটা করতে পারবে।
এদিকে, বিকেলে পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি এলএনজি আমদানি এবং দেশের ভেতর কাজ করা আর্ন্তজাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানী বকেয়া পরিশোধ করতে না পারার কারণ জানতে চায় আইএমএফ। পেট্রোবাংলা থেকে ডলার সংকটের কথা জানানো হয়। বৈঠকে পেট্রোবাংলা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান।
গত বছরের অক্টোবরে বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে আইএমএফ প্রতিনিধি। ওই সময় বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভতুর্কি কমানো, আর্ন্তজাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করাসহ আরও বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিলো আইএমএফ।
জানা গেছে, আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে সংস্থাটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কারের জন্য বেশ কিছু শর্ত দিয়েছিল। সেসব শর্ত সরকার কতটা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে তাই পর্যালোচনা করতে সফরে এসেছে প্রতিনিধি দলটি। দ্বিতীয় কিস্তি ছাড়ের আগে পিডিবির আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো আইএমএফ। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে যে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, তা কী করে সমন্বয় করা হবে, সেটিও জানতে চেয়েছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএন