৮ মাস পর এলপিজি’র দাম কমলো ৪০ টাকা

মো. নাসরুল্লাহ, ঢাকা: টানা আট মাস ধরে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৪৮৩ টাকা বৃদ্ধির পর তা ৪০ টাকা কমেছে। চলতি মাস থেকে এর মূল্য ১ হাজার ৪৮২ টাকা থেকে ৪০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৬৮ টাকা ৫ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৬ টাকা ২১ পয়সা। একইভাবে অন্যান্য আকারের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও কমেছে।

তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও সারাদেশে চাহিদার তুলনায় এটি মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশের মত সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে। আবার যাও সরবরাহ করা হয় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে নতুন দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী, আবুল খায়ের মো. আমিনুর রহমান, ড. মো. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

গত বছরের জুলাই মাসে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি ওজনের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ছিল ৯৯৯ টাকা। ৮ মাসের ব্যবধানে গত মার্চ মাসে সমপরিমাণ এলপিজির দাম বেড়ে ১৪৮২ টাকা দাঁড়িয়েছিলো। এরপরও বাজারে বিক্রেতা আরও বেশি দামে বিক্রি করেছেন।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন এর একটি মিশ্রিত অনুপাত। এই দুটিই আমদানি করা হয়। সৌদি আরামকোর ঘোষিত মূল্য (সৌদি সিপি) ধরে দেশে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে বিইআরসি। এলপিজি আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর ইনভয়েস মূল্যকে আমলে নিয়ে দর ঘোষণা করে। দেশে ২০টি কোম্পানি এলপিজির কাাঁচামাল আমদানি করে। দাম নির্ধারণে ডলারের মূল্যও একটি ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে প্রোপেন বিউটেনকে ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রিত করে এলপিজি তৈরি করা হয়।

সংবাদ সম্মেনে বলা হয়, সৌদি আরামকোর মাধ্যমে নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী  প্রোপেন ও বিউটেনের গড় মূল্য মার্চে ছিল ৬৩৬ দশমিক ৫০ ডলার; এপ্রিলে তা ১৮ দশমিক ২৫ ডলার কমে ৬১৮ দশমিক ২৫ ডলার হয়েছে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি ডলারের দাম ধরা হয়েছিল ১২০ টাকা ৫২ পয়সা, মার্চে সেটা আরেকটু কমিয়ে ১১৯ টাকা ৮৯ পয়সা ধরা হয়েছে। এপ্রিলে ডলারের মূল্য ধরা হয়েছে ১১৮ টাকা ৭৫ পয়সা। এই দুই কারণে এবার এলপিজির দাম কমেছে।

এপ্রিল মাসের জন্য এলপি গ্যাসের দাম কেজিতে ৩ টাকা ৩৪ পয়সা কমিয়ে ১২০ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত রেটিকুলেটেড পদ্ধতির এলপিজির দাম ঠিক করা হয়েছে প্রতি কেজি ১১৬ টাকা ৩৬ পয়সা।

বাজারে সাড়ে ৫ কেজি থেকে শুরু করে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়। গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বাজারের ৯৯ শতাংশের বেশি বেসরকারি খাতের দখলে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করা হলেও ব্যবসায়ীরা ভোক্তার কাছ থেকে ইচ্ছেমত বাড়তি অর্থ আদায় করছেন, এমন অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তদারকি করা হচ্ছে।

ঢাকা/ইবিটাইমস/এনএল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »