বাংলাদেশে শুরু হলো সিয়াম সাধনার মাস, প্রথম রোজায় স্কুল বন্ধ

চন্দ্র মাসের নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ায় বাংলাদেশের মুসলমানরা আজ মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে পবিত্র রোজা পালন শুরু করেছে

ইবিটাইমস ডেস্কঃ সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এমতাবস্থায়, মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা শুরু হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, শনিবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।

রোজার প্রথম দিন মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ: রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে নাকি খোলা থাকবে তা এখন উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে আপিল শুনানির জন্য মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিকে সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। তাই হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী প্রথম রোজার দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিলেও মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে আনঅফিসিয়ালি জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদালত রায় দেবেন, আশা করছি কালই এটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। যেহেতু চাঁদ দেখা গেছে, তাই মঙ্গলবার যথারীতি ক্লাস বন্ধ থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে আদালতের আদেশ মানতে হবে।

আদালতের আদেশ যেহেতু এখন পর্যন্ত বন্ধ রাখার পক্ষে, সুতরাং রোজার প্রথমদিন স্কুল বন্ধ থাকবে বলে মনে করছেন তারা। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত কী? জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে তা এখন নির্ভর করছে উচ্চ আদালতের আদেশের ওপর।

আজ যেহেতু আপিল বিভাগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি, তাই হাইকোর্টের আদেশ বহাল থাকবে এমনটা ধরে নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আদালতের আদেশ মানবে। তার মানে মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে? এমন প্রশ্নে জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘নো কমেন্ট’। যেহেতু আদালতের বিষয়, আদালত যেভাবে বলেছেন, সেভাবে চলতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে। এ বিষয়ে সমাধান চেয়ে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা ফোন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি)। কিন্তু তারা কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছেন না।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর সৈয়দ জাফর আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সবাই আপনার মতো একই প্রশ্ন করছে, মঙ্গলবার কী হবে? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, বিষয়টি আদালতে এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাইকে আদালত যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবে চলার অনুরোধ করেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনে রমজানের সময় ১৫ দিন সরকারি-বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর রমজানের প্রথম ১০ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ও। উভয় সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শফিউর রহমান চৌধুরী।

এরপর রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আদেশ দেন আদালত। হাইকোর্টের আদেশের বিপক্ষে আজ সোমবার সকালে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম হাইকোর্টের আদেশ আপাতত বহাল রাখেন। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আপিল শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »