আমেরিকা প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ, বাংলাদেশ সোসাইটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এ্যাসোসিয়েশন সারাদিন ব্যাপী যথাযত মর্যাদায় মহান একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ‘শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদযাপনের লক্ষ্যে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চ আয়োজিত জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে অস্হায়ী শহিদ মিনার স্হাপন করে ২১ উদযাপনের ৩৩ বছর পূর্তি করে।
একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২:০১ মিনিট বাংলাদেশের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ২০শে ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক সময় দুপুর ১:০১ মিনিটে শহিদ বেদীতে ভাষা শহিদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিনটি উদযাপন করে।
এদিকে, সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে বাংলাদেশ সোসাইটি ও সহযোগী সংগঠন মিলে শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৫২-এর ভাষা শহিদদের পবিত্র রক্তস্রোতের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের গৌরবগাথা। ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলার ছাত্রসমাজ আত্মদান করে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। রক্তরাঙা অমর একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তের প্লাবনের মধ্য দিয়ে আজ সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরবময় আসনে আসীন। এসময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করা ছোট শিশুদের পুরষ্কৃত করা হয়। পরে হয় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অন্যদিকে, উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে ঢাকা এলামনাই এ্যাসোসিয়েশনের একুশের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কনস্যাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, বাঙালি নয়, সারা পৃথিবীতে সব ভাষার মানুষের কাছে ২১ ফেব্রুয়ারি এখন একটি বিশেষ দিন। যাদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি প্রাণের ভাষা, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তাদের জন্য গভীর শ্রদ্ধা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন। আর সারাবিশ্ব দিনটি পালন করছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’-এক কথায় এটাই হচ্ছে একুশের চেতনা। এই একুশের পথ ধরেই এসেছে আমাদের মহান স্বাধীনতা।
এছাড়া রাত ১২.০১ মিনিটে ডাইভারসিটি প্লাজায় আমেরিকা- বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে অস্থায়ী শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হয়।
রেজওয়ানা এলভিস /ইবিটাইমস