নির্বাচন শেষে এখন কি দেশের রাজনীতিতে শান্তি ফিরবে?

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর বর্জন সত্ত্বেও সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে

ইবিটাইমস ডেস্কঃ রবিবার (১৪ জানুয়ারি) বৃটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসি বাংলাদেশের ওপর তাদের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে জানায়, নির্বাচনের পর বিএনপি সহ অন্যান্য সমমনা সরকার বিরোধীদল হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি থেকেও সরে এসেছে। তবে তারপরেও নির্বাচনের আগে কয়েক মাসের সহিংস ঘটনাবলী ও পরিস্থিতির পর নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা এলো সেই প্রশ্নও এখনো আলোচনায় আসছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সহ পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মন্তব্য করেছে। তবে বিরোধী দল বিএনপি সাতই জানুয়ারির নির্বাচনের দিন পর্যন্ত হরতাল পালন করলেও নির্বাচনের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ জাতীয় কোন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।

দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রবিবার বলেছেন ‘সরকার আরও একটি ইলেকশন ক্রাইম করায় তাদের নিরাপদ প্রস্থানের পথ সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে’ এবং আন্দোলনের মুখেই তাদের পতন ঘটানোর আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নতুন সরকার দেশি বিদেশি চাপ অতিক্রম করে এগিয়ে যাবে। তার অভিযোগ দেশের ‘অর্থনীতিকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে’। সবমিলিয়ে আপাতত দৃশ্যমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সরকারের সামনে না থাকলেও এতে করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে কি-না বা আসার ইঙ্গিত মিলছে কি-না সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরিন বিবিসিকে বলছেন, রাজনীতিতে দৃশ্যমান সহিংসতা নেই সত্যি কিন্তু এবারের নির্বাচনটি রাজনীতিকে স্থিতিশীল না করে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে গেছে। অন্যটিকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, দেশে বিরোধী দল বিহীন গণতন্ত্রের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আছে।

“এখন তার সাথে অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হলে এখনকার আপাত স্থিতিশীল পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে,” বলছিলেন তিনি। তবে তারা দুজনেই বলেছেন পরিস্থিতি কোন দিকে যায় কিংবা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে টেকসই স্থিতিশীলতা আসে কি-না সেটি বুঝতে আরও সময় লাগবে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »