পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুরে আওয়ামীলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে তার নিজ বাড়ির সামনে ঝাড়– মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি উত্তম কুমার মৈত্রের বাড়ির সামনে স্থানীয় প্রায় ৪০-৫০ জন নারী ওই বিক্ষোভ করেন। ওই বিক্ষোভের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ঝাড়– মিছিল ও বিক্ষোভে অংশ নেয়ারা উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি উত্তম কুমার মৈত্রের গ্রামের বাড়ির এলাকার লোক জন।
ওই ভিডিওতে বিক্ষোভে অংশ নেয়া খোকন মন্ডল (মিল্টন) নামের এক যুবক ও সেখানে থাকা কিছু হিন্দু নারীদের ওই চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শোনা যায়। এ সময় ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান সবুজকে বিক্ষোভ কারীদের শান্তনা দিয়ে নিভৃত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভে অংশ নেয়া খোকন মন্ডল জানান, গত প্রায় ৪ বছর আগে তার মা রানী শিকদার (৬০) কে ভুল বুঝিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র স্থানীয় এমপি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ শ.ম রেজাউল করিম এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানীকর বক্তব্য দেয়ায়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তার মা দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। বাবাও গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘ দিন পলাতক ছিলেন। কিন্তু পরে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাবা এলাকায় আসেন। মায়ের মুক্তির জন্য মামলা বাবদ চেয়ারম্যান উত্তম কুমার মৈত্র ৩ লাখ টাকা নিয়েও কোন কাজ করেন নি। তার মা কাশিমপুর কারাগারে গুরুতর অসুস্থ রয়েছেন।
এ ব্যাপারে উত্তম কুমার মৈত্রের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই নারীর নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ওই নারীর ছেলে সহ কিছু হিন্দু মহিলারা আমার বাড়ির সামনে ঝাড়– মিছিল করেছে । পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন বেপারী বলেন, উত্তম কুমার মৈত্র চেয়ারম্যান থাকা কালে ওই হিন্দু নারীকে দিয়ে মন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মনগড়া ভিত্তিহীন বক্তব্য দেয়ান। এ নিয়ে ঢাকায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা হয়। মামলায় ওই ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ ওই নারীকে গ্রেফতার করেন।
ওই ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও শ্রীরামকাঠী বন্দর কমিটির সভাপতি মো. মিঠু শেখ জানান, ওই নারীকে দিয়ে চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আউয়ালের ঘনিষ্টজন হিসাবে পরিচিত টুপাই নামের এক যুবকের যোগসাজসে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়া হয়। এ নিয়ে দায়েরকৃত মামলায় ওই টুপাই ও রানী শিকদার করাগারে রয়েছেন। ওই রানী শিকদারকে জামিন করানোর জন্য বিভিন্ন সময় আ’লীগ নেতা উত্তম মৈত্র ৩ লাখ নিয়েছেন বলে আমাদের কাছে ওই যুবক অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু জামিন না হওয়ায় ওই যুবক ও তার আত্মীয় স্বজনরা ওই বিক্ষোভ করেছেন।
এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার অফিসার ইচ চার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, বিক্ষোভের খবর শুনে সেখানে পুলিশ পাঠনো হয়েছিলো। পুলিশের হস্তক্ষেপে সেখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি।
উল্লেখ্য, গত ৪ বছর আগে একটি চক্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিম ও তার পরিবারকে নিয়ে একটি আপত্তিকর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ে। ওই ভিডিওর ভিত্তিতে ঢাকায় সাইবার ক্রাম মাশরা দায়ের হয়। ওই মামলায় ঢাকার ডিবি পুলিশ ওই রানী শিকদার এবং টুপাইকে গ্রেফতার করেন। তারা এখনো কারাগারে রয়েছে।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস