পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ৪ সন্তানের জননী বকুল বেগম (৫৫) নামের এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন থানা পুলিশ। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভেচকি গ্রাম থেকে ওই গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদল খানকে আটক করা হয়েছে। নিহতের ভাই সহ পিতার পরিবারের দাবী তাকে হত্যা করা হয়েছে। আর স্বামী সহ পুত্রের দাবী তাকে ভূতে মেরেছে।
জানা গেছে, নিহত ওই গৃহবধু উপজেলার ভেচকী বাদল খানের স্ত্রী । আর আটককৃত স্বামী বাদল খান উপজেলার ভেচকি গ্রামের মৃত রুস্তুম খানের ছেলে। ওই গৃহবধুর পিতার বাড়ি পাশর্^বর্তী বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার গোলাঘাট গ্রামে।
নিহত বকুল বেগমের ভাই মো. সুলতান হাওলাদার বলেন, শনিরার সকাল ৯ টায় আমাদের জানানো হয় সকাল ১০ টায় বোন বকুল বেগমের জানাযা। তার মৃত্যুর কারন জানতে চাইলে স্বাভাবিক আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যু বলে জানায়। কিন্তু আমরা এসে মৃত্যের সমস্ত শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখি। বোন বকুল বেগমকে বাবার বাড়ির জমি বিক্রি করে টাকা এনে দেয়ার জন্য কয়েক বছর ধরে দফায়-দফায় মারপিট করতো তার স্বামী। মার-ধরের ভয়ে আমাদের বাড়িতে সম্প্রতি পালাতে গিয়েছিলো। গত দুই দিন আগে তার স্বামী বাদল খান আর কখনোই মারবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। দুই দিনের মাথার ঘরের পিছনের বারান্দার পরিকল্পিক ভাবে হত্যা করে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। এমন পরিকল্পিত হত্যার বিচার চাই।
নিহতের ভাই আরো অভিযোগ কওে বলেন, তার বোনের মৃত্যু শুক্রবার রাতে হয়েছে। কিন্তু তাদের সেই রাতে না জানিয়ে পরের দিন না জানানোর প্রশ্ন করলেও তারা কোন স্বদ্যুত্তর দিতে পারে নি।
নিহতের স্বামী মো. বাদল খান ও তার ছেলে বেল্লাল এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বলেন, বকুল বেগমের দীর্ঘদিনের জ¦ীন-ভুতের আচর রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে বকুল বেগমকে খুঁজতে-খুঁজতে ঘরের পাশে ধান ক্ষেতে মৃত অবস্থায় দেখে ঘরে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরকে অবহিত করি। মৃতের পরিবারের (স্বামী ও পুত্র) দাবী তাকে ভূতে মেরেছে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক সুরতহালের লাশের মুখমন্ডল ও শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী বাদল খানকে আটক করা হয়েছে।
এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস