ভিয়েনায় জালালাবাদ সমিতি অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত

ওয়াজ মাহফিলের শেষে কমিউনিটির বিভিন্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিভিন্ন ইসলামিক ইভেন্টে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে

ভিয়েনা ডেস্কঃ রবিবার (১০ ডিসেম্বর) ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের বায়তুল মামুর মসজিদে অনুষ্ঠিত এই ওয়াজ মাহফিল ও শিশুদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হোসাইন খাঁন। তাছাড়াও অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সন্মানিত ইমাম সাহেবগণও উপস্থিত ছিলেন।

জালালাবাদ সমিতি অস্ট্রিয়ার সভাপতি আবু সাঈদ চৌধুরী লিটন-এর সভাপতিত্বে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাহেদ আহমেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল বাসিত ও বায়তুল মামুর মসজিদ ভিয়েনা ১০ এর কমিটির নেতৃবৃন্দ।

ওয়াজ মাহফিলের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল,”আদর্শ পরিবার গঠনে স্বামী ও স্ত্রীর ভূমিকা।” এই বিষয়ে প্রথমে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সন্মানিত ইমাম সাহেবগণ কোরআন ও হাদীসের আলোকে কিভাবে স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর,আনন্দ ও শান্তিময় পরিবার গঠিত হয়,তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা উদাহরণস্বরূপ আল্লাহর নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সা: এর দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন উপমা তুলে ধরেন।

ওয়াজ মাহফিলে অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সন্মানিত ইমাম সাহেবগণের মধ্যে যারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে অন্যতম শায়খ ড.মোহাম্মদ ফারুক আল মাদানী,শায়খ আব্দুল মতিন আযহারী,শায়খ মুমিনুল ইসলাম, শায়খ সাইদুর রহমান আযহারী,শায়খ মহিউদ্দিন মাসুম, শায়খ গোলামুর রহমান আযহারী, শায়খ আব্দুস সাত্তার ও শায়খ আবু মুসা।

আমাদের কমিউনিটির সন্মানিত ইমাম সাহেবগণের মধ্যে অনেকেই বলেন,আমাদের সংসার বা পারিবারিক জীবনকে সুখময় করে তুলতে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সু-সম্পর্ক,সহানুভূতিশীলতা এবং একে অপরের প্রতি সম পরিমাণ ভালোবাসার কোনো বিকল্প নাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হোসাইন খাঁন কমিউনিটির ইমাম সাহেবগণের সাথে
একমত প্রকাশ করেন। তিনি বর্তমান ইউরোপে আমাদের কমিউনিটির বিভিন্ন পরিবারের দুর্দশা তুলে ধরে,ইসলামের বিধি -বিধান দিয়ে এই ভয়াবহ বিপর্যয়
থেকে উত্তরোণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরুন এক গ্রামের একটি বাড়িতে আগুন লাগলো,তখন তার প্রতিবেশীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকলো এই ভেবে যে,আমার বাড়িঘর ঠিক আছে। প্রতিবেশীর ঘর পুড়লে পুড়ুক তাতে আমার কি। তারপর দেখা গেল,এক ঝড়ো হাওয়া এসে আগুনে আরও আট-দশটি ঘর পুড়িয়ে ফেললো।

তিনি উদাহরণের মাধ্যমে এটা স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে ইউরোপে আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটির পারিবারিক জীবনে যে,কালো মেঘের
ঘনঘাটা বাসা বাঁধছে,তা ক্রমশ আমাদের সমগ্র কমিউনিটিকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। কাজেই এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য রাসূল মুহাম্মদ সা: এর পারিবারিক জীবনের অনুসরণ এবং কমিউনিটির সকলকে সকলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।

ওয়াজ মাহফিল শেষ হওয়ার পর অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিভিন্ন ইসলামিক ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরনীর অনুষ্ঠানের পর ইমাম শায়খ সাইদুর রহমান আযহারী ঈশার নামাজ পড়ান। নামাজের পর বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়খ মহিউদ্দিন মাসুম কাফ্ফারাতুল মজলিশের দোয়া পড়ে ওয়াজ মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তারপর জালালাবাদ সমিতি অস্ট্রিয়ার পক্ষ থেকে আগত অতিথিদের রাতের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »