আশ্রয়প্রার্থীদের আলবেনিয়ায় স্থানান্তর চুক্তির অনুমোদন দিল ইতালির মন্ত্রিপরিষদ

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে একটি অংশকে আলবেনিয়া পাঠাতে গত ৬ নভেম্বর একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল রোম। এবার এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন করতে প্রস্তাবিত ডিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ইটালির মন্ত্রিপরিষদ

ইউরোপ ডেস্কঃ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশি অভিবাসন বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল ইনফোমাইগ্র্যান্টস জানায়,গত মঙ্গলবার পাশ হওয়া ডিক্রি অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপীয় জলসীমার বাইরে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ অথবা ফ্রন্টেক্স উদ্ধার করবে তাদেরকে আলবেনিয়ায় পাঠাতে পারবে ইতালি সরকার। সেখানেই তাদের আশ্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

আলবেনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ নয়। গত মাসে ইতালির কট্টর ডানপন্থি প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি এবং আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে সম্পন্ন চুক্তির আওতায় আলবেনিয়া বছরে ৩৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে গ্রহণ করতে পারবে।

তবে ইতালির মন্ত্রিপরিষদ এই চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু নির্দেশিকাও প্রদান করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আলবেনিয়ায় স্থাপন হতে যাওয়া দুটি কেন্দ্রে শুধুমাত্র এমন আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর করা যাবে যাদেরকে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আন্তজার্তিক জলসীমা থেকে উদ্ধার করা হবে। অর্থাৎ মানবিক উদ্ধার জাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া আশ্রয়প্রার্থীরা এবং ইইউ জলসীমা থেকে কর্তৃপক্ষের জাহাজে ওঠা ব্যক্তিরা এই চুক্তির বাইরে থাকবেন।

স্থানান্তর হতে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য উল্লেখিত কেন্দ্র দুটি খোলা হবে আলবেনিয়ার শেনজিন এবং গজদার অঞ্চলে। প্রথম কেন্দ্রটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রাথমিক নিবন্ধন ও শনাক্তকরণ করা হবে। দ্বিতীয়টিতে তাদের আশ্রয় আবেদনের যাবতীয় প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হবে।

ইতালীয় গণমাধ্যম লা রিপাবলিকা জানিয়েছে, “সব আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তর না করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য নিয়ম করে সরকার মূলত ইউরোপীয় আইনের সাথে সংঘাত এড়াতে চায়। কারণ ইউরোপীয় জলসীমায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য ইউরোপীয় আইন প্রযোজ্য হবে।”

এদিকে ইতালীয় বার্তা সংস্থা আনসা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় উদ্ধার কাজ পরিচালিত হলে সেক্ষেরে ইইউর আইন আরোপিত হয় না। সেক্ষেত্রে ইতালি চুক্তি অনুযায়ী অভিবাসীদের আলবেনিয়া বা অন্যদেশে পাঠাতে পারবে।নতুন এই চুক্তির ফলে অনেক আশ্রয়প্রার্থী সমুদ্র থেকে উদ্ধার হলেও ইটালির ভূখণ্ডে নামার সুযোগ পাবেন না। তাদেরকে উদ্ধার করে সরাসরি আলবেনীয় বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে।

গত ৬ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরের পরদিন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এটির সমালোচনা করে জানিয়েছিল, “শরণার্থী আবেদনের মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য প্রাথমিক দায়িত্ব ওয়ই রাষ্ট্রের উপর বর্তায় যেখানে আশ্রয়প্রার্থীরা প্রথমে অবতরণ করেন।”

লা রিপাবলিকা জানায়, নতুন ডিক্রির পর দেখা যাবে আইনের ভেতর থাকতে ইতালীয় উপকূলরক্ষীরা দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে দীর্ঘ এলাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালাবে।.ডিক্রিতে আলবেনিয়ার ভবিষ্যৎ কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতার বিবরণ দেয়া হয়েছে। আশ্রয়প্রার্থীদের সর্বোচ্চ আটকের সময়কাল ১৮ মাসের বেশি হওয়া উচিৎ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আশ্রয়প্রার্থীরা আলবেনিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের আইনজীবীর সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া আপিলের ক্ষেত্রেও রোমের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি প্রক্রিয়া অনলাইনে পরিচালিত হবে।

আলবেনিয়ার শেংজিন কেন্দ্রটি আনুমানিক ২৫০ মিটার পরিধির উপর নির্মিত হবে এবং এটি চার মিটার উঁচু কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বেষ্টিত হবে। অপরদিকে, অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং প্রত্যাবাসনের শর্তগুলো যাচাই করার উদ্দেশ্যে গজদার কেন্দ্রটি ৭৭ হাজার ৭০০ বর্গ মিটার আয়তনের একটি নির্মাণযোগ্য ভূমিতে নির্মিত হবে। বর্তমানে এই স্থানে মাত্র ১০টি জীর্ণ ভবন রয়েছে।

কেন্দ্রগুলি পরিচালনার জন্য ইতালীয় সরকারি কর্মচারী, বিচারক, ডাক্তার এবং নার্সদেরও নিয়োগ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১৩৫ জন কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আশ্রয় ব্যবস্থার এই আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে মোট খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো। এই অর্থের অর্ধেক ২০২৪ সালের মধ্যে বরাদ্দ করা হবে। তারপর চার বছরের জন্য প্রতি বছর ৫০ মিলিয়ন ইউরো করে প্রদান করা হবে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »