অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও ইউরোপের বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম
ভিয়েনা ডেস্কঃ রবিবার (১২ অক্টোবর) ভিয়েনার ১০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের তুর্কী ইসলামিক সংগঠন ও মসজিদ আনাদুলু এর বিশাল হলরুমে বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতি তাদের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও কমিউনিটির একাধিক মসজিদে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিভিন্ন ইসলামিক ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির সভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন। আর প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট লন্ডনের মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং ইউরোপের বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শায়খ গাজী হাসান। তারপর কমিউনিটির একাধিক কিশোর পবিত্র কোরআন থেকে
তেলাওয়াত করেন। সমিতির সভাপতি মামুন হাসান এক সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী বক্তব্যে ভিয়েনায় শায়খ আব্দুল কাইয়ুমকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সন্মানিত ইমাম সাহেবগণ ও কমিউনিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহ প্রায় ৬ শতাধিক মানুষ। মাগরিব নামাজের বিরতির পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটির ইমাম শায়খ আবু মুসা,শায়খ গুলামুর রহমান,শায়খ মহিউদ্দীন মাসুম,শায়খ আবদুস সাত্তার এবং শায়খ মুমিনুল ইসলাম। সকলেই পারিবারিক জীবনে ইসলামিক নিয়মকানুন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মাগরিব নামাজের পর কমিউনিটির একাধিক কিশোর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। তার মধ্যে অন্যতম শায়খ সাঈদুর রহমান আযহারী হুজুরের ছেলে হাম্মাদ সাঈদ। তারপর ওয়াজে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সিনিয়র ইমাম ও মাদানী কোরআন স্কুল ভিয়েনার প্রতিষ্ঠাতা ড.ফারুক আল মাদানী।
তিনি তার বক্তব্যের শুরুতেই জানান, লন্ডনে একটি বিশাল মসজিদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান অতিথি শায়খ আব্দুল কাইয়ুম। তিনি
বলেন,আমাদের মাঝে শায়খের মতো একজন ব্যস্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন আলেমে দ্বীন পেয়ে আমরা মহান আল্লাহতায়ালার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পারিবারিক জীবনে আমাদের ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কি ধরনের শিক্ষা ও প্রস্তুতি নিলে, আমাদের সন্তানদের আসন্ন মহাবিপদ থেকে বেঁচে থাকার সৌভাগ্য দান করবেন মহান আল্লাহতায়ালা – তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইমাম ও ইউরোপের বাংলাদেশী মুসলিম কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শায়খ আব্দুল কাইয়ুম প্রায় দেড় ঘন্টা ওয়াজ করেন। তিনি তার বক্তব্যে, বিশেষ করে ইউরোপে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পরিবারের সন্তানদের অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, আমরা বর্তমান আমাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে কঠিন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তিনি বলেন অস্ট্রিয়ার তুলনায় যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীরা দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করছে।
যার ফলে সেখানে বর্তমানে অনেক পরিবারের উঠতি বয়সী সন্তানদের ইসলামিক অনুশাসনে নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তিনি আশঙ্কা করে বলেন, ক্রমশ এই সমস্যা সমগ্র ইউরোপের মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি তার কাছে নিয়ে আসা এই জাতীয় একাধিক পরিবারের কাহিনী উদাহরণ হিসাবে উপস্থাপন করেন।
তিনি এই সমস্যার থেকে পরিত্রাণ পেতে পারিবারিক সু সম্পর্ক ইসলামিক অনুশাসনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। শায়খ আব্দুল কাইয়ুম সাহেবের বক্তব্যের পর অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির আলমগীর হোসেনের তরুণ ছেলের হাফেজী পড়া সম্পন্ন হওয়ায় মাথায় পাগড়ি পড়ানো হয়। ভিয়েনার ২০ নাম্বার ডিস্ট্রিক্টের বায়তুল মামুর মসজিদের সন্মানিত ইমাম মুমিনুল ইসলামের অধীনে হাফেজী পড়া সম্পন্ন করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত শিশুদের বিভিন্ন ইসলামিক বিষয় ভিত্তিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির পক্ষ থেকে আগত অতিথিদের রাতের খাবারে আপ্যায়ন করা হয়। আপ্যায়নে খাবার রান্নার দায়িত্ব পালন করেন কমিউনিটির সকলের পরিচিত দুলাল মিয়া।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস