নাজিরপুরে ভাগ্নীকে ধর্ষন, ভিডিও ধারন করে হুমকি; আদালতে মামলা

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের কলারদোয়ানিয়া গ্রামে আপন ভাগ্নিকে মিষ্টির সাথে অচেতন নাশক ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করে তার ভিডিও ধারণ করে হুমকির অভিযোগে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ভাগ্নী (২৬)।

রোববার (২৭ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো: আসাদুল্লাহ এর আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত তা আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

ভুক্তভুগী ওই নারী উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের কলারদোয়ানিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আসামী মো. হায়দার (৬০) একই এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের পুত্র।

মামলা সূত্রে জানা গেছে , ভুক্তভোগীর স্বামী একজন জাহাজের ইঞ্জিন মিস্ত্রি। তাই তিনি বাড়িতে না থেকে বিভিন্ন সময় তার বিভিন্ন কর্মস্থলে থাকেন। তাই ধর্ষণের স্বীকার ওই নারী তার পুত্র সন্তান নিয়ে পিতার বাড়িতে বসবাস করেন। চলতি বছরের ১২জুন আসামী মো: হায়দার মিষ্টি নিয়ে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে । বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে মিষ্টিতে অচেতনাশক মিশিয়ে এনে ভাগ্নিকে খাইয়ে অচেতন করে একাধীকবার ধর্ষণ করে। রাতে ঘুম ভাঙলে বুঝতে পারলে ভাগ্নীকে সবকিছু মোবাইলে ভিডিও করা আছে বলে হুমকি দেয়।

ঘটনার পর মোবাইলে ধারন করা ভিডিওর ভয় দেখিয়ে একাধিকবার মামা হায়দার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। তবে ভাগ্নী রাজি না হওয়ায় ভিডিও ভাইরাল করা হবে এবং ভাগ্নীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো ।

বাদী পক্ষের আইনজীবী আবু সালেহ ওমান জানান, বাবার সমতুল্য আপন মামা মো: হায়দার তার ভাগনী কে পরিকল্পিত ভাবে চেতনানশক ঔষধ খাবারে মিশিয়ে অজ্ঞান করে তাকে জোড় পূর্বক রাতভর ধর্ষণ করে। ভিকটিম ডাক চিৎকার দিতে গেলে তার সবকিছু ভিডিও করা আছে বলে হুমকি দেয়। ধারণ করা ভিডিও ভাইরাল করে দিবে বলে একাধিক বার কুপ্রস্তাব ও হুমকি দিলে ভিকটিম বাদী হয়ে রবিবার (২৭ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তবে এ বিষয়ে আসামী মো. হায়দার এর সাথে মোবাইল ফেনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

এইচ এম লাহেল মাহমুদ/ইবিটাইমস  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »