বাংলাদেশ নিয়ে ১৪ কংগ্রেসম্যানের জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূতের কাছে পাঠানো চিঠির প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে কংগ্রেসম্যান বব গুড এবং তার ১৩ জন সহকর্মীর সাম্প্রতিক চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় “পক্ষপাতদুষ্ট” বিষয়বস্তুর জন্য সমালোচনার জন্ম দিয়েছে

আন্তরজাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ভয়েস অফ আমেরিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠি সম্পর্কে অনেক বাংলাদেশী সমালোচক বলেছেন, বিবৃতিতে করা দাবিগুলি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, ঠিক আগেরটির মতো যা বিশিষ্ট অধিকার কর্মীরা প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বাংলাদেশের স্থগিতাদেশের প্রথম দাবি হল ২০২২ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের পক্ষে বিশাল ভোটের প্রতি নিছক অবহেলা। ২০২৩-২৫ মেয়াদে ইউএনএইচআরসি-এর সদস্যপদ অর্জন করে বাংলাদেশ ১৮৯টি ভোটের মধ্যে ১৬০টি ভোট পেয়েছে।

চিঠিতে রেফারেন্স হিসাবে একটি বিদেশী সংস্থা এফআইডিএইচ যুক্ত করা হয়েছে তবে সমালোচকরা বলেছেন যে বাস্তবতা হল “অধিকার” হল এফআইডিএইচ-এর সদস্য সংস্থা – অধিকারের বিষয়গুলো নিয়ে অধিকার গোষ্ঠীর ‍ভূয়া তথ্য দেয়ার রেকর্ড দীর্ঘদিন ধরে প্রমাণিত হয়েছে।

ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ চিঠির প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইটে বলেছে,”কংগ্রেসম্যান, আমি ভেবেছিলাম যে আপনি মূলধারার সুশীল সমাজ এবং অধিকার গোষ্ঠীগুলি সহ বাংলাদেশের বিষয়ে আপনার শেষ চিঠিতে যে প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, তার পরে আপনি বুঝতে পেরেছেন যে আপনাকে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে লবিং করতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।”

তিনি আর বলেন, “মূলত একটি পক্ষপাতমূলক গোষ্ঠীর কথা বলার পয়েন্টগুলি পুনরাবৃত্তি করে, আপনি মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের পক্ষ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে এবং মুসলিম ব্রাদারহুড-অনুষঙ্গী জামাত ই-ইসলামী এবং অন্যান্য ইসলামপন্থীদের মতো দলগুলির সাথে একটি শিবিরকে উত্সাহিত করছেন৷”

চিঠিতে গুড এবং তার সহকর্মীরা, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য অবিলম্বে জাতিসংঘের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই চিঠিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে র‌্যাব এর রেকর্ডের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত জাতিসংঘের শান্তি অপারেশন বিভাগকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের কোন সদস্যকে আপাতত গ্রহণ না করার দাবি জানানো হয়েছে।

কংগ্রেসম্যান গুড টুইটে বলেছেন, “বাংলাদেশের জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার রাখে। আমি আমার ১৩ সহকর্মীর সাথে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে একটি চিঠি পাঠিয়েছি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।”

এর আগে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত এবং আর্চবিশপ ইমেরিটাস প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা, শিক্ষাবিদ এবং যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রচারকরা যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন কংগ্রেসম্যানকে উল্লেখ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থাকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রক্ষেপণ” বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশী আইন প্রয়োগকারী এবং সামরিক কর্মীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার জন্য “যথাযথ ব্যবস্থা” নিতে আবেদেন করেছেন। তারা একে “বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি” বলে অভিহিত করেছেন।

তবে এই সমালোচনা শুধুমাত্র বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ১৪ জন কংগ্রেস সদস্য স্বাক্ষর সম্বলিত চিঠিটি জাতিসংঘে
নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিন ফিল্ড অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন। তিনি সম্ভবত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এনটনি ব্লিন্কেনের সাথে আলোচনা করে কোন এক সময় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করতে পারেন।

বর্তমান বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ও বিরোধীদের ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের ব্যাপারে প্রায়শই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য আসছে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বেশ ওয়াকিবহাল আছেন। যুক্তরাষ্ট্র বারবার বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং সব দলের অংশগ্রহণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যাক্ত করে আসছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »