ভিয়েনা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাস্ট্রকে ভারতের বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ: ভারতের অস্বীকার নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা খামেনিকে হত্যার চড়া মূল্য দিতে হবে ট্রাম্পকে – লারিজানি হবিগঞ্জ র‍্যাব-৯ এর বিশেষ অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেওয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লালমোহনে বিলুপ্তির পথে উপকারী ভেন্না (ভেরেন্ডা) গাছ যমুনার চরে সোনালি বিপ্লব: সূর্যমুখীতে বদলাচ্ছে টাঙ্গাইলের কৃষি অর্থনীতির মানচিত্র

ভোলার সিঁধকাটা চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৯:০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
  • ৩৩ সময় দেখুন

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে সিঁধকাটা ও গরু চোরের উপদ্রব বেড়েই চলছে। নেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ রাজাপুর ২নং ওয়ার্ডে কয়েকটি ঘরে চুরি  হয়েছে। এ চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। 

গত শুক্রবার রাতে  টুনু সাজি নামের এক ব্যক্তির ঘরে সিঁধকেটে প্রবেশ করে ২৭ হাজার টাকা ও ২ টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়, মাসুদ মেম্বার বাড়ী সংলগ্ম দুই বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘরের সকল জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।  গত ঈদুল আযহার দিন রাতে কাদির মাতাব্বরের ঘরের মূল্যবান সকল জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং পরের দিন জহিরুল ইসলাম সর্দার বাড়িতে সিঁধ কেটে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সহ স্বর্ণের অলংকার নিয়ে যায়। এবং গত ঈদুল আযহার একদিন আগে আমিন মাতব্বর ঘরে সিঁধ কেটে নগদ টাকা স্বর্ন অলংকার মোবাইল ফোন চোরে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ৪ নং ওয়ার্ডের চর কন্দকপুর গ্রামের মোঃ হোসেন ১ টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।  গত  ঈদের পাঁচ দিন আগে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের এরশাদ সর্দার গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে গরু নেওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ীর মালিক সজাগ হয়ে যাওয়ায় চোর পালিয়ে যায়।

৫ নং ওয়ার্ডের রমিজল হক মেম্বার জানান, কন্দকপুর গ্রামের নাগর  জমদার ঘরে সিঁধ কেটে স্বর্ন- অলংকার নিয়ে গেছে। স্থানীয় বাকের মাঝি জানান,চোর তো এলাকার-ই। বিলেত থেকে কি আর এই চোর আছে? আমাদের এলাকার কর্তারাই চোরদের লালন পালন করে। তিনি আরো বলেন  চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়া পর অভিযোগ করলে থানা পুলিশ এসে কর্তাদের সাথে চা খেয়ে চলে যায়। কিছু কিছু স্থানে চোর ধরা পরলেও জামিনে বের হয়ে তাঁরা আবারও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে বলেও জানান তিনি । স্থানীয় লোকজন মনে করেন জেলা জুড়ে বেশ কিছু গরু ও সিঁধকাটা চোরের বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। কঠোর ভাবে অভিযান চালিয়ে এ-সব সিন্ডিকেটের সদস্যদের কে আটক করে আইনের আওতায় আনলে কমে আসবে সকল ধরনের চুরি। তবে জেলা বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি হলেও রাজাপুরে সবচেয়ে বেশি,  এ যেন চোরের গোডাউন।

গত তিন মাস আগে রাজাপুর ইউনিয়নের কন্দ্রকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো কামাল হোসেন নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তাঁর দুই মেয়ে, এক ছেলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গভীর রাতে একমাত্র সম্বল তিনটি গরু চোরে নিয়ে গেছে। যে ঘটনাটি পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় হয়েছে।  প্রথম আলোতে ও রাজাপুরের এ চোরের সংবাদ ছাপা হয়েছে।

ওই সময়ে তাদের সহযোগীতা করেছে ভোলা সদর মডেল থানার (ওসি)  মোঃ শাহীন ফকির, ইলিশা ফাড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা, রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী রাজাপুরে জনপ্রতিনিধিরা শক্ত ভুমিকা নিলেই চোর দমন করা সম্ভব কিন্তু চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী এ ভাবে কঠোর থাকলেও অনেক মেম্বার বা দলীয় নেতারাই সরাসরি চোরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন সময়ে চোর, জুয়ারীদের পক্ষ নিতে চিহ্নিত অনেক জনপ্রতিনিধিদের দেখা গেছে। যার জন্যই রাজাপুরের চোর দমন করা চেয়ারম্যান মিঠু চৌধুরীর একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় রাজাপুরবাসীর।

এদিকে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এড়িয়াতে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটলেও তাদের চোর দমনে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে চোঁখে না পড়ায় আরো হতাশ হয়েছে সাধারণ মানুষ।

রাজাপুরের চিহ্নিত চোরদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতে পুলিশ সুপার ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ,  ইলিশা ফাঁড়ি ইনচার্জ এবং চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাধারণ মানুষ।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস

Tag :
জনপ্রিয়

১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

ভোলার সিঁধকাটা চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে মানুষ

আপডেটের সময় ০৯:০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে সিঁধকাটা ও গরু চোরের উপদ্রব বেড়েই চলছে। নেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তৎপরতা।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ রাজাপুর ২নং ওয়ার্ডে কয়েকটি ঘরে চুরি  হয়েছে। এ চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসী। 

গত শুক্রবার রাতে  টুনু সাজি নামের এক ব্যক্তির ঘরে সিঁধকেটে প্রবেশ করে ২৭ হাজার টাকা ও ২ টি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়, মাসুদ মেম্বার বাড়ী সংলগ্ম দুই বাড়ীতে প্রবেশ করে ঘরের সকল জিনিসপত্র নিয়ে গেছে।  গত ঈদুল আযহার দিন রাতে কাদির মাতাব্বরের ঘরের মূল্যবান সকল জিনিসপত্র নিয়ে যায় এবং পরের দিন জহিরুল ইসলাম সর্দার বাড়িতে সিঁধ কেটে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সহ স্বর্ণের অলংকার নিয়ে যায়। এবং গত ঈদুল আযহার একদিন আগে আমিন মাতব্বর ঘরে সিঁধ কেটে নগদ টাকা স্বর্ন অলংকার মোবাইল ফোন চোরে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ৪ নং ওয়ার্ডের চর কন্দকপুর গ্রামের মোঃ হোসেন ১ টি গরু চুরি করে নিয়ে যায়।  গত  ঈদের পাঁচ দিন আগে দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের এরশাদ সর্দার গোয়াল ঘরে প্রবেশ করে গরু নেওয়ার চেষ্টা করলে বাড়ীর মালিক সজাগ হয়ে যাওয়ায় চোর পালিয়ে যায়।

৫ নং ওয়ার্ডের রমিজল হক মেম্বার জানান, কন্দকপুর গ্রামের নাগর  জমদার ঘরে সিঁধ কেটে স্বর্ন- অলংকার নিয়ে গেছে। স্থানীয় বাকের মাঝি জানান,চোর তো এলাকার-ই। বিলেত থেকে কি আর এই চোর আছে? আমাদের এলাকার কর্তারাই চোরদের লালন পালন করে। তিনি আরো বলেন  চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়া পর অভিযোগ করলে থানা পুলিশ এসে কর্তাদের সাথে চা খেয়ে চলে যায়। কিছু কিছু স্থানে চোর ধরা পরলেও জামিনে বের হয়ে তাঁরা আবারও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে বলেও জানান তিনি । স্থানীয় লোকজন মনে করেন জেলা জুড়ে বেশ কিছু গরু ও সিঁধকাটা চোরের বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। কঠোর ভাবে অভিযান চালিয়ে এ-সব সিন্ডিকেটের সদস্যদের কে আটক করে আইনের আওতায় আনলে কমে আসবে সকল ধরনের চুরি। তবে জেলা বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি হলেও রাজাপুরে সবচেয়ে বেশি,  এ যেন চোরের গোডাউন।

গত তিন মাস আগে রাজাপুর ইউনিয়নের কন্দ্রকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো কামাল হোসেন নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তাঁর দুই মেয়ে, এক ছেলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গভীর রাতে একমাত্র সম্বল তিনটি গরু চোরে নিয়ে গেছে। যে ঘটনাটি পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় হয়েছে।  প্রথম আলোতে ও রাজাপুরের এ চোরের সংবাদ ছাপা হয়েছে।

ওই সময়ে তাদের সহযোগীতা করেছে ভোলা সদর মডেল থানার (ওসি)  মোঃ শাহীন ফকির, ইলিশা ফাড়ির ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা, রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবী রাজাপুরে জনপ্রতিনিধিরা শক্ত ভুমিকা নিলেই চোর দমন করা সম্ভব কিন্তু চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরী এ ভাবে কঠোর থাকলেও অনেক মেম্বার বা দলীয় নেতারাই সরাসরি চোরদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন সময়ে চোর, জুয়ারীদের পক্ষ নিতে চিহ্নিত অনেক জনপ্রতিনিধিদের দেখা গেছে। যার জন্যই রাজাপুরের চোর দমন করা চেয়ারম্যান মিঠু চৌধুরীর একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আর নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় রাজাপুরবাসীর।

এদিকে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এড়িয়াতে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটলেও তাদের চোর দমনে তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে চোঁখে না পড়ায় আরো হতাশ হয়েছে সাধারণ মানুষ।

রাজাপুরের চিহ্নিত চোরদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতে পুলিশ সুপার ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ,  ইলিশা ফাঁড়ি ইনচার্জ এবং চেয়ারম্যান রেজাউল হক মিঠু চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সাধারণ মানুষ।

মনজুর রহমান/ইবিটাইমস