আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে ভয় পায় – মির্জা ফখরুল

আওয়ামীলীগ তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনে ভয় পায় বলে তারুণ্যের সমাবেশে বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ইবিটাইমস ডেস্কঃ শনিবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির তিন অঙ্গ সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে ভয় পায় বলে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনে ভয় পায়। আমরা এই মুহূর্তে নির্বাচন চাই। তবে, সেটা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নয়। নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তাই, অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। তাকে বলছি, বিলম্ব না করে নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। তরুণরা জেগে উঠেছে, তারা সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ২০১৪ সালে ভোটই হয়নি, আর ২০১৮ সালে রাতে ভোট হয়েছে। এবারের ভোটের আলামত ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে সবাই দেখেছে। বেচারা হিরো আলম, একটা আশা নিয়ে গিয়েছিল, অন্তত তাকে ভোটটা করতে দেবে। এই সরকারের নাম যে আওয়ামী লীগ, সেটা হিরো আলম বুঝতে পারেনি। আওয়ামী লীগ হচ্ছে সেই দল, যারা অন্য কাউকে সহ্য করতে পারে না। তারা মানুষের কথা বলাও সহ্য করতে পারে না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ ভোট দিক, সেটাও সহ্য করতে পারে না। তারা মনে করে, দেশটা তাদের বাপের জমিদারি।

বিএনপি নির্বাচনে যেন অংশ নিতে না পারে, সেজন্য সরকার একটার পর একটা মামলা দিচ্ছে, এ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাড়ে তিনশ’ মামলা আছে। কেন এত মামলা দেয়? কারণ, তারা বিএনপিকে ভয় পায়। বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা বিদেশিদের বলছেন, সংবিধানের অধীনে এবার খুব ভালো নির্বাচন হবে। অথচ তারা বাস্তবে কী করছেন? বিএনপির যারা নির্বাচন করবে, তাদের নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নতুন কৌশল নিয়েছে। সেই কৌশল হচ্ছে—আমাদের সিনিয়র নেতা, যারা নির্বাচন করতে পারে, তাদের মামলাগুলোকে শেষ করে দ্রুত সাজা দেওয়া। আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাছান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহকে সাজা দিয়েছে। এই অপকৌশল দেশের মানুষ সহ্য করবে? এই সরকারের অধীনে কি নির্বাচনে যাওয়া যাবে? দেশের মানুষ কি নিরাপদ?

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য আমেরিকা র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু, এখনও তারা সেই কাজগুলো করে যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নেতাকে তুলে নিয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টা পর চোখে কালো কাপড় বেঁধে ফেলে রেখে যায়। লক্ষ্য একটা—ভয় দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা।

ফখরুল বলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। এটা শুধু বিএনপির দাবি নয়, ৩৬টি দল একই দাবি উত্থাপন করেছে। সব রাজনৈতিক দল বলছে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বলছে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ইসলামী আন্দোলনেরও একই কথা।

যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানি, ছাত্রদলের সভাপতি রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ।

আর বিশাল এই তারুণ্যের সমাবেশটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিলটন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »