ভিয়েনা ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ৫ ক্রেতাকে ওয়ালটনের উপহার হস্তান্তর লালমোহন শাহবাজপুর রেসিডেনসিয়াল মাদরাসার প্রথম বছরেই ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ চরফ্যাসনে অবৈধ সেচ পাম্পিংয়ের প্রভাবে অকার্যকর দেড় হাজার নলকূপ ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাস্ট্রকে ভারতের বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়ার অভিযোগ: ভারতের অস্বীকার নতুন রাষ্ট্রদূত হচ্ছেন ৩ সেনা কর্মকর্তা খামেনিকে হত্যার চড়া মূল্য দিতে হবে ট্রাম্পকে – লারিজানি হবিগঞ্জ র‍্যাব-৯ এর বিশেষ অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজাসহ আটক ২ হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেওয়া হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লালমোহনে একের পর এক ডাকাতি, টার্গেট বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবার

  • EuroBanglaTimes
  • আপডেটের সময় ০৫:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০২৩
  • ৩৫ সময় দেখুন

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে একের পর এক দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটিসহ গত দেড় মাসে উপজেলার কালমা ইউনিয়নেই ৬টি বসতঘরে ডাকাতি হয়েছে। এসব ডাকাত দলের টার্গেট বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবার। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন  বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবারগুলো ।

বৃহস্পতিবার রাতে কালমা ইউনিয়নের আলম বাজার এলাকায় নতুন করে ঘটেছে আরো একটি ডাকাতির ঘটনা। ৮ সদস্যের মুখোশধারী ডাকাতের একটি দল হানা দেয় ওই এলাকার আনোয়ার হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে। এ সময় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল।

শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা হক বলেন, আমার স্বামী বৃহস্পতিবার বরিশাল অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে জানালার গ্রিল ভেঙে মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি দল ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে ঢুকে তারা ঘরের সকলের হাত এবং চোখ বেঁধে একটি রুমে আবদ্ধ করে রাখেন। ওই ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরের আলমেরির চাবি চায়। চাবি না দিলে তারা আমাকে মারধর করে। এরপর তারা নিজেরাই চাবি খোঁজ করে বের করে ঘরে থাকা ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। ডাকাতির খবর পেয়ে বরিশাল থেকে বাসায় ফিরেন শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।

জানা যায়, এরআগে একই ইউনিয়নের মধ্য কালমা এলাকায় গত ২৯ মে ইসমাইল কবীর নামে এক সৌদি প্রবাসীর ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ডাকাত দল ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ জুন ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে আরো একটি ডাকাতির ঘটনা। এ সময় ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক নকিব মৃধার ঘর থেকে ডাকাত দল নিয়ে যায় ১৬ ভরির মতো স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা। এর মাত্র ৫ দিনের মাথায় ২২ জুন কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বগিরচর এলাকায় ঘটে আকতার হোসেন নামে মালয়েশিয়া প্রবাসীর ঘরে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা। এ সময় ডাকাত দল নিয়ে যায় ১২ ভরির মতো স্বর্ণালংকার এবং নগদ ত্রিশ হাজার টাকা।

ঘটনার আবার শুরু হয় জুলাই মাসে। এ মাসের ১০ তারিখে কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আক্তার হোসেন নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর ঘর ডাকাতি হয়। এ সময় ডাকাত সদস্যরা নিয়ে যায় নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার। এ ঘটনার পরদিন ১১ জুলাই। ওইদিন রাতে কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মীরা বাড়িতে ৩টি বসতঘরে এক সঙ্গে ঘটে ডাকাতির ঘটনা। এতে ডাকাতির কবলে পড়েন ওই বাড়ির মিজান, শফিকুল ইসলাম এবং রফিক। এই তিনজনের বসত ঘর থেকে নগদ ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ওই ডাকাত চক্র। এই সব ডাকাতির ঘটনা গভীর রাতে।

এদিকে ইউনিয়নে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে একটিতে। বাকিগুলোতে কেবল চুরির মামলা নেয় পুলিশ। আবার আসামি গ্রেফতারেও তৎপরতা নেই পুলিশের। পুলিশর আন্তরিক হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতো না।

এসব ডাকাতির বিষয়ে লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এরআগে একটি ডাকাতির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায়ও মামলা নেওয়া হবে। পুলিশ আসামি গ্রেফতারসহ ঘটনা অনুসন্ধানে সচেষ্ট রয়েছে।

জাহিদ ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস

জনপ্রিয়

টাঙ্গাইলে ৫ ক্রেতাকে ওয়ালটনের উপহার হস্তান্তর

Address : Erlaaer Strasse 49/8/16 A-1230 Vienna,Austria. Mob : +43676848863279, 8801719316684 (BD) 8801911691101 ( Ads) Email : eurobanglatimes123@gmail.com
Translate »

লালমোহনে একের পর এক ডাকাতি, টার্গেট বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবার

আপডেটের সময় ০৫:৫৫:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০২৩

ভোলা দক্ষিণ প্রতিনিধি: ভোলার লালমোহনে একের পর এক দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটিসহ গত দেড় মাসে উপজেলার কালমা ইউনিয়নেই ৬টি বসতঘরে ডাকাতি হয়েছে। এসব ডাকাত দলের টার্গেট বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবার। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন  বিত্তশালী ও প্রবাসী পরিবারগুলো ।

বৃহস্পতিবার রাতে কালমা ইউনিয়নের আলম বাজার এলাকায় নতুন করে ঘটেছে আরো একটি ডাকাতির ঘটনা। ৮ সদস্যের মুখোশধারী ডাকাতের একটি দল হানা দেয় ওই এলাকার আনোয়ার হোসেন নামের এক স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে। এ সময় ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল।

শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা হক বলেন, আমার স্বামী বৃহস্পতিবার বরিশাল অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে জানালার গ্রিল ভেঙে মুখোশধারী ৭-৮ জনের একটি দল ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। ভিতরে ঢুকে তারা ঘরের সকলের হাত এবং চোখ বেঁধে একটি রুমে আবদ্ধ করে রাখেন। ওই ডাকাত দলের সদস্যরা ঘরের আলমেরির চাবি চায়। চাবি না দিলে তারা আমাকে মারধর করে। এরপর তারা নিজেরাই চাবি খোঁজ করে বের করে ঘরে থাকা ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। ডাকাতির খবর পেয়ে বরিশাল থেকে বাসায় ফিরেন শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবো।

জানা যায়, এরআগে একই ইউনিয়নের মধ্য কালমা এলাকায় গত ২৯ মে ইসমাইল কবীর নামে এক সৌদি প্রবাসীর ঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ডাকাত দল ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ জুন ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে আরো একটি ডাকাতির ঘটনা। এ সময় ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক নকিব মৃধার ঘর থেকে ডাকাত দল নিয়ে যায় ১৬ ভরির মতো স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৭০ হাজার টাকা। এর মাত্র ৫ দিনের মাথায় ২২ জুন কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বগিরচর এলাকায় ঘটে আকতার হোসেন নামে মালয়েশিয়া প্রবাসীর ঘরে আরেকটি ডাকাতির ঘটনা। এ সময় ডাকাত দল নিয়ে যায় ১২ ভরির মতো স্বর্ণালংকার এবং নগদ ত্রিশ হাজার টাকা।

ঘটনার আবার শুরু হয় জুলাই মাসে। এ মাসের ১০ তারিখে কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আক্তার হোসেন নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীর ঘর ডাকাতি হয়। এ সময় ডাকাত সদস্যরা নিয়ে যায় নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ আড়াই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার। এ ঘটনার পরদিন ১১ জুলাই। ওইদিন রাতে কালমা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মীরা বাড়িতে ৩টি বসতঘরে এক সঙ্গে ঘটে ডাকাতির ঘটনা। এতে ডাকাতির কবলে পড়েন ওই বাড়ির মিজান, শফিকুল ইসলাম এবং রফিক। এই তিনজনের বসত ঘর থেকে নগদ ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা এবং ৭ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় ওই ডাকাত চক্র। এই সব ডাকাতির ঘটনা গভীর রাতে।

এদিকে ইউনিয়নে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কালমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকতার হোসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে একটিতে। বাকিগুলোতে কেবল চুরির মামলা নেয় পুলিশ। আবার আসামি গ্রেফতারেও তৎপরতা নেই পুলিশের। পুলিশর আন্তরিক হলে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতো না।

এসব ডাকাতির বিষয়ে লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহুরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এরআগে একটি ডাকাতির ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায়ও মামলা নেওয়া হবে। পুলিশ আসামি গ্রেফতারসহ ঘটনা অনুসন্ধানে সচেষ্ট রয়েছে।

জাহিদ ইসলাম দুলাল/ইবিটাইমস