আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারের সাড়ে ১৪ বছরের ‘সাফল্য’ ও ‘অর্জন’ জনগণের সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী গণসংযোগ করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশ ডেস্কঃ বুধবার (৫ জুলাই) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথ সভায় এ আলোচনা হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায়, আগস্ট মাসে শোক দিবসের কর্মসূচিও এই বৈঠকে ঠিক করা হয়েছে। বরাবরের মতো মাসব্যাপী সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে গণসংযোগে নামবে ক্ষমতাসীন দলটি।
শোকের মাসে সংগঠনের কর্মকাণ্ড শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালন করতে একটি রোডম্যাপও ঠিক করার কথা জানিয়েছেন নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আজকের বৈঠকে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট শোকের মাস, এই মাসের কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে। শোকের মাসে আমরা নানা কর্মসূচির মধ্যে থাকবো।’
মাসব্যাপী গণসংযোগ করার বিষয় তুলে ধরে এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘শোকের মাস পার হলেই আমরা সারা দেশে গণসংযোগ করবো। এটা মাসব্যাপী হবে।’ বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের আরেক নেতা জানান, ‘সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে সরকারের সাড়ে ১৪ বছরের ‘সাফল্য’ ও ‘অর্জন’ জনগণের সামনে তুলে ধরতে মাসব্যাপী এই গণসংযোগে নামবে আওয়ামী লীগ।’
এছাড়া তিন সহযোগী সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও থানা কমিটি দ্রুত দিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আওয়ামী লীগ নেতারা। এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে আমাদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন। আর ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দ্রুত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
কৃষক লীগ সভাপতি সম্পাদকের দ্বন্দ্ব দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ শাখা ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের যৌথ সভায় কৃষক লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে।
বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা জানান, ‘কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি বক্তব্য দেওয়া শেষ হলে সভাপতি সমীর চন্দ বক্তব্য শুরু করেন। সমীর চন্দ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রত্যেক কথাতেই আপত্তি জানাতে থাকেন সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি চরম পর্যায়ে চলে যায়। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দুজনকেই থামতে বলেন। তবে দুজন নিজেদের সংগঠন পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেন।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ কোনো কথা বলতে রাজি হননি। বৈঠকের ঘণ্টাখানেক পরে সাধারণ সম্পাদক স্মৃতির ফোনে কথা বলার জন্য ফোন দিলে তিনি কোনো কথা বলেননি।
কবির আহমেদ/ইবিটাইমস