একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী মামলায় অভিযুক্ত গ্রেফতার

১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক অভিযুক্ত আব্দুস শুক্কুরকে (৭৭) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭

বাংলাদেশ ডেস্কঃ বুধবার (৫ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-৭ উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধী আব্দুস শুক্কুরকে কক্সবাজারের রুমানিয়াছড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আব্দুস শুক্কুর কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানাধীন গুলগুলিয়াপাড়ার মৃত আলী রেজার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন বলেও জানান র‌্যাব কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন বাংলা সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. নুরুল আবছার জানান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কক্সবাজার জেলার মহেশখালী এলাকায় গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আব্দুস শুক্কুরের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ২১ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর আগে তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে আদালতে। এরপর আব্দুস শুক্কুর আত্নগোপন করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে ৮ বছর ধরে আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হয়নি একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর আব্দুস শুক্কুরের।

র‌্যাব-৭ জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গত ৩ জুলাই কক্সবাজার জেলা সদর থানার রুমানিয়াছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আব্দুস শুক্কুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, আব্দুস শুক্কুর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিপক্ষে সরাসরি অবস্থান নিয়ে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া এলাকায় বাংলাদেশের নিরীহ মুক্তিকামী মানুষকে হত্যাসহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর হিসেবে গণহত্যা, নির্যাতন, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল। আব্দুস শুক্কুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে মহেশখালীতে গণহত্যা, লুটপাট, ঘরবাড়ি লুট ও নির্যাতন করেছে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আইনশৃংখলা বাহিনীর হাত থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে ছদ্মনাম ধারণ করে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল। সর্বশেষ তিনি কক্সবাজার জেলার সদর থানা এলাকায় বসবাস শুরু করেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় আব্দুস শুক্কুরকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »