অস্ট্রিয়া সহ ইউরোপের অনেক দেশে রবিবার থেকে সময়ের পরিবর্তন

শনিবার ২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে রাত দুইটায় (2 a.m) ঘড়ির কাঁটা একঘন্টা বাড়িয়ে রাত তিনটা (3 a.m) করা হবে

ইউরোপ ডেস্কঃ ১৯৯৬ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে সময় পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয়। তখনকার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। এ কারণে প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রবিবার ঘড়ির কাঁটাকে এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, যাকে ‘সামার টাইম’ বলা হয়।

ইইউ (EU) কমিশন বৈশ্বিক মহামারী করোনার পর এক বছর পূর্বে ইইউ থেকে সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম উঠিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেয়। অস্ট্রিয়া সহ
ইউরোপের অনেক দেশ এতে সম্মতি দিয়েছিল। মহামারী করোনার ঢামাঢোলের মধ্যে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। তবে এই সময় পরিবর্তন প্রত্যাহারের
বিষয়ের প্রস্তাবটি এখনও ইইউ মন্ত্রী পরিষদের হাতে রয়েছে, যারা শেষবার ২০১৯ সালের জুন মাসে দুবার-বার্ষিক সময় পরিবর্তন বাতিল করার বিষয়ে আলোচনা করেছিল।

মার্চ ২০১৯ -এ, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০২১ সালের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সময় বাতিল করার জন্য একটি বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সাথে ভোট দিয়েছিল।
কিন্তু তারপরে আসে করোনা মহামারী এবং তারপরে ইউক্রেনে যুদ্ধ, এবং তখন থেকে ইইউ সম্পূর্ণ ভিন্ন অগ্রাধিকার পেয়েছে। এটি বাস্তবে পরিণত হলে বেশিরভাগ সদস্য রাষ্ট্রকে গ্রীষ্মকালীন সময় বিলুপ্ত করতে সম্মত হতে হবে। ইইউ কাউন্সিলের চেনাশোনা অনুসারে, তারপর থেকে কেউ আবার বিষয়টি উত্থাপন করেনি। ইইউতে সময় পরিবর্তন তাই সম্ভবত একটি নিরবচ্ছিন্ন কুলুঙ্গি বিষয় হয়ে উঠেছে যার বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা নেই।

ইতিপূর্বে গত অক্টোবর মাসের শেষ রবিবার ৩০ অক্টোবর নিয়মমাফিক পরিবর্তন করা হয়েছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘড়ির সময়। সে দিন
রাত ৩টায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে রাত দুইটা করা হয়েছিল। এখন সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান টাইম জোন অনুসরণ করে অস্ট্রিয়া,ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড,বেলজিয়াম, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক সহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে আসবে সময়ের এই পরিবর্তন।

এই এক ঘণ্টা সময় পরিবর্তন করার ফলে এখন বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান হবে চার ঘণ্টা, যা এত দিন ছিল পাঁচ ঘণ্টা। এ ছাড়া সারা পৃথিবীতে সময় নির্ণয়ের জন্য প্যারামিটার হিসেবে পরিচিত “গ্রিনউইচ মিন টাইম” বা জিএমটির সঙ্গে ইউরোপের সেন্ট্রাল দেশগুলোর সময়ের ব্যবধান এক ঘণ্টায় এসে পৌঁছাবে, যা সবসময় এক ঘণ্টায় হয়।

অন্যদিকে রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, বেলারুশ, ইউক্রেন, গ্রিস অর্থাৎ পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য হবে তিন ঘণ্টা। গ্রিনউইচ মিন টাইম বা জিএমটির সঙ্গে এখন থেকে পূর্ব ইউরোপিয়ান টাইম জোনে থাকা দেশগুলোর সময়ের পার্থক্য এক ঘণ্টা হবে।

১৯১৬ সালে জার্মানি প্রথম সময় পরিবর্তন শুরু করে। ১৯৭৬ সালে ফ্রান্স প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে তা চালু করে। ১৯৭০ এর দশকের শেষ দিকে অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশে তার চালু হয়। ১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে।

উল্লেখ্য, প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রবিবার ও অক্টোবর মাসের শেষ রোববার (শনিবার রাতে) দুবার ইউরোপের দেশগুলো তাদের সময়ের পরিবর্তন ঘটায়। ১৯৯৬ সাল থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে সময় পরিবর্তনের বিষয়টি শুরু হয়। তখনকার সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের এক অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সম্মিলিতভাবে ঘড়ির কাঁটার পরিবর্তনের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে।

এ কারণে প্রত্যেক বছরের মার্চ মাসের শেষ রবিবার ঘড়ির কাঁটাকে এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয়, যাকে ‘সামার টাইম’ বলা হয়। আবার অক্টোবর মাসের শেষ রোববার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে আবার মূল সময় ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়, যা ‘উইন্টার টাইম’ হিসেবে পরিচিত। ইতালিয়ানরা এই প্রক্রিয়াকে লিগালো অরা (উপহার ঘন্টা) বলে ডেকে থাকে।

কবির আহমেদ/ইবিটাইমস/এম আর  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit exceeded. Please complete the captcha once again.

Translate »