হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে কৃষি জমির মাটি বিক্রির হিড়িক পড়েছে। জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় চলে যাওয়ায় ফসলি জমির উৎপাদনে ধ্বস নামার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।জমির মালিকদের বিভিন্ন প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে মাটি কেটে নিচ্ছেন মাটিখেকোরা। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে জমির উর্বরতা, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেয়ায় নষ্ট হচ্ছে সড়ক, ধূলাবালিতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও বন্ধ করা যাচ্ছেনা মাটিখেকোদের এই অপতৎপরতা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি এলাকায় ডজনখানেক এক্সাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে ফসলি জমির উপরিভাগ (টপসয়েল)। এসব মাটি ট্রাক্টর যোগে নেওয়া হচ্ছে স্থানীয় এ্যানি, শোভা, তরপ, এইচএসবিবসহ বিভিন্ন ইটভাটায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থেকে বাঁচতে বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিবহন করা হচ্ছে এসব মাটি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ার ফলে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী জমির মাটি কেটে নিচু করে ফেলার ফলে আমাদের জমি উঁচু হয়ে যাচ্ছে। এতেকরে পানির অভাবে ঠিকমতো ফসল ফলাতে পারতেছিনা, বাধ্যহয়ে আমাদের জমির মাটিও বিক্রি করতে হচ্ছে।
এক্সাভেটর চালক ফরহাদ মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি ঘন্টায় ৫৫০ টাকা চুক্তিতে মাটি কাটেন। বিকাল ৪টা থেকে রাত ১২ পর্যন্ত তিনি মাটি কাটার কাজ করেন।
ট্রাক্টর চালক আশিক মিয়া জানান, এনি ও এইচএসবি ইট ভাটায় এসব মাটি যাচ্ছে। আমরা ৮ ঘন্টা মাটি পরিবহনের কাজ করি।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে এসে কথা বলার কথা জানিয়ে কল কেটে দেন।
একই বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, ইজারা বহির্ভূত বালু উত্তোলন এবং অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সর্বদাই সোচ্চার। প্রতিনিয়ত আমরা অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোতাবিব হোসেন কাজল/ইবিটাইমস