ঢাকা প্রতিনিধি: প্রকৃতির নিয়মে বছর ঘুরে আসা শীত বদলে দিয়েছে নাগরিক জীবন। শীতে পরশে বদলে গেছে বৈচিত্র্যময় প্রাণ-প্রকৃতিও। রোববার (৮ জানুয়ারি) সকালেও কুয়াশায় মোড়া দেশের আকাশ। তবে গত কয়েকদিনের তুলনায় কুয়াশার দাপট কিছুটা কম। যদিও শীতের তীব্রতা খুব একটা কমেনি। হিম বাতাসে সবার অবস্থাই জবুথবু। এরই মধ্যে সুখবর দিল আবহাওয়া অফিস।
রোববার সূর্যের দেখা মিলতে পারে বলে জানিয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আপাতত দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে রোববার থেকেই দিনের কুয়াশা কমে যাবে, দেখা মিলবে সূর্যের। তবে ১০ অথবা ১১ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা আবার কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ বছর শীত বেশি পড়ার কারণ হিসেবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকা; বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম; মাঝরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত, কখনও আবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকে দেশ; ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশের দিকে প্রায় ২০০ মিটারের একটি কুয়াশার স্তর থাকে। এতে সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে আসতে পারছে না। ফলে ভূপৃষ্ঠ এবং এর সংলগ্ন বাতাসের উষ্ণতা বাড়তে পারেনি। এছাড়া ভারতের হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের তাপমাত্রা অনেক কম। শীত মৌসুমে সাধারণত ওই সব এলাকা (উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক) থেকে বাংলাদেশমুখী বাতাসের গতি থাকে। সেটাও শীতল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেঘমুক্ত আকাশ।
তিনি আরও বলেন, আগামী দু-এক দিন এই শীতের অনুভূতি থাকতে পারে। দুই দিনের মধ্যে কুয়াশা কিছুটা কাটতে শুরু করবে। এতে রোদ বেড়ে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। কমতে থাকবে শীতও।
গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুপুরে দেশের কয়েকটি জেলায় কয়েক ঘণ্টার জন্য রোদের দেখা পাওয়া গেলেও শনিবার সূর্যের মুখ দেখা মেলেনি। সকাল থেকে দিনভর শীতের তীব্রতা ছিল, সন্ধ্যার পর হিমেল হাওয়ার সঙ্গে আরও জেঁকে বসে ঠাণ্ডা। পাঁচ দিন ধরে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ মৃদু থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে এলে সেখানে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।
এদিকে, রাজধানীসহ দেশের মানুষ সবাই শীত নিবারণের জন্য একাধিক গরম কাপড় মুড়িয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে ঘরের বাইরে বের হয়েছেন। রোববার সাপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় রাজধানীর সড়কগুলোতে সকালেই মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশি। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে অফিস সবই খোলা। ফলে বাইরে বেরিয়ে প্রত্যেকেই ভুগছেন শীতের তীব্রতায়।
আবহাওয়া আফিস বলছে, রাজধানীতে শনিবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকা/ইবিটাইমস/আরএস